

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে অভিন্ন ও দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ে তোলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল অগ্রাধিকার। শনিবার ঢাকায় সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলাপকালে তিনি একথা বলেন। এদিন দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তারা। উভয় নেতা বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, পর্যটন, ইন্টারনেট সহযোগিতা, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ, পানিসম্পদ, বিনিয়োগ এবং বিমান চলাচলসহ বাংলাদেশ-ভুটান সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে শনিবার বিকাল সোয়া ৩টায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পৌঁছান। নেতারা প্রথমে ৩০ মিনিটের বৈঠক করেন, তারপরে প্রায় এক ঘন্টা আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন।
ভুটানকে ‘বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রফেসর ইউনূস বলেন, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য ঢাকার দৃষ্টিভঙ্গি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভূগোল এবং প্রকৃতি আমাদের একত্রিত করেছে। আমাদের লক্ষ্য একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে বলেন, ‘ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যে উষ্ণ ও চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে।’
তিনি বাংলাদেশকে ভুটানের ‘আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের’ উৎস হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, মধ্যযুগে বাংলাদেশি সন্ন্যাসীরা হিমালয় অঞ্চলে বৌদ্ধধর্ম নিয়ে গিয়েছিলেন। প্রফেসর ইউনূস বলেন, আপনাদের এই সফর এই অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য একটি বিল্ডিং ব্লক হবে। তিনি ভুটানকে বিশ্বের প্রথম কার্বন নেগেটিভ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তোবগের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা তুলে ধরেন।