

নিজস্ব প্রতিবেদক
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে ঘোষিত মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এ লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগেভাগেই লিখিত অনুমতি নেয় সংগঠনটি।
তবে একই দিনে একই স্থানে জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) তাদের কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। ফলে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার বার্তা দিতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ছেড়ে বিকল্প স্থান শাহবাগে সমাবেশ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কর্মসূচির যাবতীয় প্রস্তুতি ও অনুমতির আনুষ্ঠানিকতা আগেই সম্পন্ন করা হলেও, একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও পরমতসহিষ্ণু সংগঠন হিসেবে তারা এনসিপির অনুরোধ গ্রহণ করেছে।
এই সিদ্ধান্তকে ‘উদারতার অনন্য দৃষ্টান্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ছাত্রদল নেতারা বলেন, রাজধানীর সড়কে তাদের কর্মসূচির কারণে সাধারণ নাগরিকদের কোনো সাময়িক ভোগান্তি হয়ে থাকলে, তার জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করছেন।
সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘এনসিপির অনুরোধে সমাবেশের স্থান পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ছাত্রদল কাঁটার পরিবর্তে ফুল এবং উসকানির পরিবর্তে সহাবস্থানের বার্তা দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের পর থেকে দেশের শিক্ষাঙ্গনে একচেটিয়া ছাত্র রাজনীতি চাপিয়ে দেওয়া হলেও, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এখনও শান্তি ও গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ৫ আগস্টের পর দেশের ছাত্ররাজনীতিতে যে দৃশ্যপট পরিবর্তন এসেছে, সেখানে দখল নয়, বরং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের নজির স্থাপন করেছে তাদের সংগঠন।
ছাত্রদলের মতে, তারা চায় ভবিষ্যতের শিক্ষাঙ্গনে গড়ে উঠুক মতভেদে ভিন্ন হলেও সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ছাত্ররাজনীতি। এমন রাজনীতি যেখানে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু প্রতিহিংসা নয়; থাকবে প্রতিবাদ, কিন্তু হিংসা নয়।