সরকারকে বাড়াতে হবে কৃষকের ভর্তুকি ও প্রণোদনা

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual1 Ad Code

সম্পাদকীয়: কৃষকের মূলধন সংকটে কৃষি খাত যাতে বিপর্যস্ত না হয় এবং সুষম উৎপাদন প্রক্রিয়া বজায় থাকে সেজন্য কিছু পদক্ষেপ নেয়া দরকার। দেশের ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের অন্তত ৮৪ শতাংশ মূলধন সংকটে রয়েছেন। ফসল ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ঋণের শর্তে বেঁধে দেয়া দামে উৎপাদিত শস্য সুবিধাভোগী ঋণদাতাদের কাছে বিক্রি করতে হয়। এ কারণে তাদের হাতে কোনো বাড়তি অর্থ থাকে না। এমনকি আবার ফসল বোনার সময় আসার আগে এ কৃষককেই নিজেদের বিক্রি করা ধানের চাল দুই থেকে তিনগুণ বেশি দামে কিনে খেতে হয়। ভর্তুকিতে কম দামে বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষিসামগ্রী কৃষকের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থাও করতে হবে। আশার কথা, সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে এবং আমন ধানের মৌসুমে বীজের দাম ৪০ টাকা কেজি থাকলেও সরকার কিনে সেটা ২০ টাকায় কৃষককে দিয়েছে। এমন উদ্যোগ চলমান থাকতে হবে। সর্বোপরি নগদ প্রণোদনা ও স্বল্প সুদে ঋণ দিতে হবে কৃষককে। সরকার ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা এবং স্বল্প সুদে ঋণের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে; কিন্তু প্রকৃত কৃষক পর্যন্ত সেটি সুষ্ঠুভাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করা যাবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। প্রান্তিক এসব কৃষক পরে আরও বেশি করে ধার করবে এবং ধান বোনার পর টাকা শোধ করে আবার ঋণের ফাঁদে পড়বে। এভাবে চলতে থাকলে একপর্যায়ে কৃষি থেকে তাদের আগ্রহ যে চলে যাবে, তা বলাই বাহুল্য। ফলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হবে না এবং ভোক্তাদের বাড়তি দাম দিতে হবে চাল ও অন্যান্য খাদ্যশস্যের জন্য। অথচ যে কোনো সংকটে অবহেলিত ও বঞ্চিত কৃষকই ভরসা। কাজেই কৃষকের হাতে নগদ অর্থ থাকার ব্যবস্থা করার বিকল্প নেই।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code