সরিষা খেতে মৌচাষ!

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual3 Ad Code

নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক: সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার প্রায় প্রতিটি সরিষা খেতে হলুদের সমারোহ। সরিষার চারা যতই বড় হচ্ছে গ্রামের মাঠজুড়ে সরিষা আবাদ হলুদ চাদরে মোড়াচ্ছে। আর এই সরিষা খেতে মৌচাষ করে কৃষক এবং মৌচাষি উভয়ই লাভবান হচ্ছে। কারণ সরিষা খেতে মৌচাষ করলে সেই এলাকার সরিষার ফলনও বৃদ্ধি পায়। ইতোমধ্যে চৌহালী উপজেলার বিভিন্ন জমির সরিষা থেকে মৌমাছির সাহায্যে মধু সংগ্রহ শুরু হয়েছে। চৌহালীর খাষকাউলিয়া, খাষপুকুরিয়া, বাঘুটিয়া, উমারপুর, ঘোরজান, স্থল ও সদিয়াচাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মৌচাষিরা সরিষা খেতের পাশে মৌচাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেশির ভাগ মৌচাষি এসেছেন সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। কথা হয় সাতক্ষীরা ও সুন্দরবনের মৌচাষি আব্দুল আলীম ও মামুনের সঙ্গে। তারা উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের কুরকী গ্রামে তার মৌ চাষের বাক্স স্থাপন করে। এসব মৌচাষিদের নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।

Manual4 Ad Code

কথা হয় দিনাজপুর ও সাতক্ষীরা মৌচাষি হাসান আলী ও মনজুর আলমের সঙ্গে। তারা উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের রেহাই পুখুরিয়া গ্রামে মৌচাষের বাক্স স্থাপন করেছেন। একজনের ৭৫টি বাক্স স্থাপন করে সপ্তাহে ৩০০-৩৫০ কেজি মধু সংগ্রহ করতে পারে। আবহাওয়া ভালো হলে মধু সংগ্রহ বাড়বে। স্থানীয় কিছু কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের যদি কৃষি অফিস মৌ চাষের প্রশিক্ষণ দিত তাহলে আমরা সরিষার সঙ্গে মৌচাষ করে অধিক লাভবান হতে পারতাম।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চৌহালী উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সরিষা খেতে মধু চাষের ওপর কৃষকদের প্রশিক্ষণ না দিলেও কৃষকদের মৌচাষে উদ্বুদ্ধ করে আসছে। তাছাড়া সরিষা খেতে মৌচাষ করলে ফসলের কোনো প্রকার ক্ষতি হয় না বরং উল্টো সরিষার ফলন ২০ ভাগ বৃদ্ধি পায় সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে কৃষকদের উপজেলা কৃষি অফিস থেকে।

Manual4 Ad Code

মৌচাষি লাবলু ও মামুন বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার মধুর উৎপাদন কম হবে, তবে সামনের দিনগুলোর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমার এ প্রকল্প থেকে প্রতি সপ্তাহে ৩৬০ কেজি মধু সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা। সারা বছর মৌমাছি পালন ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন খরচ আছে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো কিছু আশা করা সম্ভব।

Manual3 Ad Code

চৌহালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ জেরিন আহমেদ জানান, উপজেলায় ২১২৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করা হয়, যার অর্জন ২২১০ হেক্টর। চৌহালীতে স্থানীয়ভাবে কোনো মৌচাষ প্রকল্প নেই। তাই এখানে মৌচাষ উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। যারা মৌচাষ করছেন তারা সকলেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চাষি। কৃষকদের ফসলের সঙ্গে মৌচাষে উদ্বুদ্ধ করতে উপজেলার সাতটি ইউপিতেই কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code