সাভারে অবৈধ গ্যাসের লিকেজ থেকে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

ঢাকার সাভার উপজেলার সর্বত্রই যেন জালের মত ছড়িয়ে আছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ। এতে আগুনে পুড়ে ও ভবনের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ যাচ্ছে, এমনকি পুরো পরিবারের মৃত‌্যুর ঘটনাও ঘটছে। গত দুই বছরে কেবল সাভারের আশুলিয়ায় এমন অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনায় মারা গেছেন দুটি পরিবারের শিশু ও নারীসহ নয় জন। এছাড়া আলাদা বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন আরও দুই জন, অগ্নিদগ্ধসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।

Manual3 Ad Code

গত শুক্রবার রাতে নারায়নগঞ্জে একটি মসজিদে ভয়াবহ এসি বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দারা। সারাদেশ যখন এই মৃত্যুশোকে স্তব্ধ, তখন এ দুর্ঘটনার বিভৎসতায় শোকের সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন এই জনপদের বাসিন্দারা। তাদের মতে, সাভারে তিতাস গ্যাসের আবাসিক বৈধ গ্রাহকের চেয়ে অবৈধ গ্রাহকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। যার কারণে ঘনবসতিপূর্ণ এই অঞ্চলে যত্রতত্র মাটির নিচে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে অবৈধ সংযোগের পাইপ।

Manual7 Ad Code

অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের ৫ জুলাই ভোরে আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার দূর্গাপুরে শহীদ হাজীর বাড়িতে আবার চোরাই গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ হয়। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে একই পরিবারের শিশু আল-আমীন, তার গার্মেন্ট শ্রমিক বাবা কাশেম ও মা ফাতেমা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এঘটনায় অবৈধ গ্যাস সংযোগকে দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে স্থানীয় যুবলীগ নেতাসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে পুলিশ।

একই বছরের ৯ জুন ভোরে কাঠগড়া উত্তরপাড়া এলাকার ইমন মিয়ার বাড়িতে রান্নাঘরে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয় শিশুসহ সাতজন। তবে তারা বেঁচে যান।

Manual5 Ad Code

এর আগে ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর ভোরে আশুলিয়ার মানিকগঞ্জ পাড়া এলাকায় আবদুল হামিদের বাড়িতে ভাড়াটিয়ার একটি কক্ষে রান্নার জন্য চুলা জ্বালাতেই বিকট আওয়াজে বিস্ফোরণ ঘটে। এসময় আগুনে ঝলসে মারা যায় শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ একই পরিবারের ছয় জন। কারণ হিসেবে অবৈধ গ্যাস লাইনের পাইপে লিকেজ থেকে রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানা যায়।

Manual6 Ad Code

এছাড়া ২০১৯ সালের ৩ জুলাই আশুলিয়ার কাঠগড়া উত্তরপাড়া দুকাঠি এলাকায় একইভাবে চোরাই গ্যাসের লাইন থেকে বিস্ফোরণে শিশুসহ দুই জন মারা যায়।

অনুসন্ধানে সাভার পৌর এলাকাসহ পুরো উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ থাকার বিষয়টি জানা যায়। পৌর সভার গেন্ডা, রাজাশন, সিটিলেন, উলাইল, কর্ণপাড়া, হেমায়েতপুর ও আশুলিয়ার কবিরপুর, বারৈপাড়া, জিরানী, শ্রীপুর, বাইপাইল, বুড়িরবাজার, ডেন্ডাবর, পল্লীবিদ্যুৎ, শ্রীখন্ডিয়া, গাজীরচট, জামগড়া, বেরন, নিশ্চিন্তপুর, ঘোষবাগ, নরসিংহপুর, জিরাব, ইয়ারপুর, টঙ্গাবাড়ি, দূর্গাপুর ও কাঠগড়াসহ আশুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বাসা বাড়িতে অবৈধ সংযোগের প্রমাণ মিলেছে।

সাভার আঞ্চলিক তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ‌্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপক (বিপণন) আবু সাদাত মো. সায়েম বলেন, সাভারে প্রায় ৫২ হাজার বৈধ আবাসিক ও ১ হাজার ৫০০ শিল্প সংযোগের বিপরীতে অবৈধ গ্যাস সংযোগের সংখ্যা রয়েছে। অবৈধ গ্যাস সংযোগের সঠিক পরিসংখ্যান নেই।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code