

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া ও ফাতেমা আক্তার শিউলি, বাংলাদেশ অফিস, বাংলানিউজইউএসডটকম
আমেরিকার মিশিগানের বাংলাদেশী অধ্যুষিত শহর হেমট্রামিক একটি প্রাচীণ শহর । শহরের গোড়াপত্তন থেকে এখানে আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাংলাদেশীরা আসেন বসবাস শুরু করেন ও কমিউনিটির জন্য কাজ করেন। আমেরিকার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মত বাংলাদেশীও একটি অনন্য সম্প্রদায় । তেমনি গেল কয়েকবছরে করোনা ও তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে নিউইর্য়কসহ অন্যান্য রাজ্যের বাংলাদেশীরা মিশিগানকে করেছেন সমৃদ্ধ উন্নত । করেছেন সমাজ ব্যবস্তার পরিবর্তন । মিশিগানের জন্য নতুন একটি নাম সিটি কাউন্সিল ম্যান প্রার্থী মিডিয়া কর্মী, তরুন উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী, লেখক মাহফুজুর রহমান । আমরা বাংলানিউজইউএসডটকম বাংলাদেশ অফিস থেকে ভাচুর্য়ালি মুখোমুখি হয়েছি তার সাথে ।
আপনার সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন –
আমি মাহফুজুর রহমান । হেমট্রামিক শহরের স্থায়ী বাসিন্দা । পেশায় একজন পোস্টাল ওয়ারকার । সিলেট মদন মোহন কলেজে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অধ্যয়নের পাশাপাশি সিলেট এমসি কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আসি । ব্যবসায়ের পাশাপাশি আমি কবিতা লিখি, সাংবাদিকতা করি । দেশের প্রবাসের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত । বিগত ২০-২৫ বছর যাবত দেশের ও প্রবাসের কমিউনিটির সাথে অনলাইনে ও অফলাইনে সামাজিকভাবে সচেতনতা মূলক কাজ করি । আমি জালালাবাদ এসোসিয়েশন ঢাকা, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের আজীবন সদস্য, রোটারিতে ক্লাব অব সিলেট নিউ সিটি ও রোটারেক্ট ক্লাব অব নিউইর্য়ক কুইন্সের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, নিউইয়র্ক ভিত্তিক প্রথম অনলাইন গণমাধ্যম কর্মীদের সংগঠন ইউএস বাংলা অনলাইন প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি । সেই সাথে মিশিগানে ইমিগ্রানট হোম কেয়ার এলএলসি মিশিগান ও স্কয়ার মাল্টি সার্ভিস প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করি । আমি হেমট্রামিক শহরের একজন সিটিজেন পেট্রোল হিসেবে আছি গত বছর দেড়েক থেকে । এছাড়া আমি দেশের বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সভা সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছি ।
আপনি কাজকে কিভাবে মূল্যায়ন করেন?
আমি মানুষের তরে কাজ করে আনন্দ পাই – জীবনের অনেকগুলো বসন্ত পেরিয়ে সন্তান ও পরিবার নিয়ে ব্যসততার পাশাপাশি আমি সমাজের মানুষের তরে কাজ করি । এতেই আমার পরম আনন্দ।
সমাজবদ্ধ মানুষ ও রাজনীতি নিয়ে আপনার ভাবনা কি?
মানুষ সামাজিক জীব । সমাজকে সুন্দর করতে মানুষের ভালোবাসা পেতে আমার দাদা মরহুম মামুদ মিয়া সরদার ও চাচা সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মোহাম্মদ মোস্তফা মিয়াস, আমার পিতা সাবেক স্কুল শিক্ষক ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মনজুর ই মৌলাসহ আমার পৈতৃক ও মাতুতালয়ের সবাই স্বাধীনতা ও তার পরবর্তী সময়ে দেশে প্রবাসে মানুষের সেবা করেছেন সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমি সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি।
আপনি নেতা নাকি সেবক?
আমি এই শহরে আসার পর থেকে এই মিশিগানের মানুষের ভালোবাসা পেয়ে আমি অভিভূত হয়ে যাই । এই শহরের মানুষ আমাকে আপন করে নেয় । যা আমি কবিতার মাধ্যমে ও আমার কর্ম তৎপরতার মাধ্যমে প্রকাশ করি । তাই আমি হেমট্রামিক শহরে একটি মসজিদ, সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনাসহ শহরবাসীর খেদমতে নিজেকে বিলিয়ে দিই । আমি নিজেকে কখনো নেতা মনে করি না । আমি স সমাজ ও আপনাদের সেবক । এবং আমি আমার সারাটিজীবন এই শহরবাসীর খেদমত করে যেতে চাই ।
আপনি কিভাবে রাজনীতি শুরু করেছেন?
সাংবাদিকতার পাশাপাশি আমি ২০০৩ সাল থেকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিলাম । ধর্মীয় মুল্যবোধে বিশ্বাসী থেকে দেশের প্রবাসের বিভিন্ন সামাজিক সংস্থার সাথে ছিলাম ও আছি । নিউইর্য়ক সিটির সাবেক পাবলিক এডভোকেট প্রার্থী হেলাল আবু শেখ, কংগ্রেস ম্যান প্রার্থী ও জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নেত্রী বদরুন নাহার খান মিতা, জ্যাকসন হাইটস সিটি কাউন্সিল ম্যান শেখর কৃসণান, ব্রংকসের কাউন্সিল ম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ এন মজুমদার এর পক্ষে কাজ করেছি । এছাড়াও ব্রংকস বরো প্রেসিডেনট রবেন ডিয়াজ জুনিয়রসহ অনেক ডেমোক্রেট নেতার সাহচার্য পেয়েছি । সেই দৃষ্টি কোণ থেকে আমি তাদের জন্য এ দেশের রাজনীতির জন্য অনুপ্রেরণা পেয়েছি ।
আপনি কেন সিটি কাউন্সিলে নির্বাচন করছেন এবং আপনি নির্বাচিত হলে কি কি কাজ করবেন –
আমি এই শহরের মানুষের সাথে মিশে দেখেছি এই শহরের অনেক কাজ করতে হবে । বিশেষ করে কমিউনিটির মানুষের জীবনযাত্রা মান উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের অনেক প্রয়োজনীয় তা রয়েছে । আমি নির্বাচিত হলে চেষ্ঠা করবো আমার সাথে যারা প্রার্থী হয়েছেন এবং সকলে যে কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আমি সেই কাজগুলো বাস্তবায় করার চেষ্ঠা করবো । সেই সাথে আমি শহরের সবকটি এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে তাদের দাবি গুলো সিটি কাউন্সিলে তুলে ধরবো ।