সিলেটে থানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আ.লীগ নেতাদের বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন

লেখক:
প্রকাশ: ২ years ago
CREATOR: gd-jpeg v1.0 (using IJG JPEG v62), quality = 90

Manual3 Ad Code

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সিলেটে অস্থিরতা বেড়ে যায়। আন্দোলনকারীদের নাম করে বিক্ষুব্ধ জনতা জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়, কোতোয়ালী থানা, লামাবাজার পুলিশ ফাড়ি ও বাসভবনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। অসংখ্য দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ প্রায় সব নেতৃস্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধির বাসায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানায় হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় তারা গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। দুপুরের দিকে একদল দুর্বৃত্ত এই হামলা চালায়।

জানা গেছে, দুপুরের দিকে একদল দুর্বৃত্ত মিছিল নিয়ে কোতোয়ালি থানা অভিমুখে রওয়ানা হয়। তারা থানার ভেতরে প্রবেশ করে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করে এবং কয়েকটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। এসময় ঘটনার ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে গিয়ে ফটো সংবাদিক আজমল আলী কিছুটা আহত হন। হামলাকারীরা তার মোবাইল কেড়ে নেয়।

Manual8 Ad Code

সোমবার (৫ আগস্ট) বেলা তিনটার দিকে নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। এরপর পাশেই জেলা প্রশাসক কার্যালয়, জেলা পরিষদ ভবনে ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ চালানো হয়। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভকারীরা। একই সময়ে আরেকটি দল নগরীর কিন ব্রিজ এলাকায় পুলিশ সুপারের বাসায় আগুন দেয়। সিলেটের প্রায় সবগুলো থানা পুলিশ ফাঁড়িতেও ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সিলেট নগরীর ধোপদিঘির এলাকায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের বাসায় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। নগরীর শাপলাবাগ এলাকায় প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী ও গোপাল টিলা এলাকায় সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য রনজিত সরকারের বাসায়ও হামলা করা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

একই সময় পৃথকভাবে আরও কয়েকটি দল নগরীর পূর্ব শাপলাবাগ এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ, গোপালটিলা এলাকায় অবস্থিত সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) রনজিত চন্দ্র সরকার এবং সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সহসভাপতি আসাদ উদ্দিনের বাসায় হামলা, ভাঙচুর চালায়। নগরীর ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ এবং ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর লায়েক আহমদ, উপশহরের সাবেক কাউন্সিলর সালেহ আহমদ সেলিমের বাসায়ও হামলা ও ভাঙচুর হয়।

Manual3 Ad Code

এই গণঅভ্যুত্থানে নগরীর আওয়ামী লীগ নেতা ও সমর্থিত অনেক ব্যবসায়ীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কার্যনির্বাহী সদস্য ও সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিমের ব্র্যন্ডিং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মাহাতে ভাঙচুর ও ব্যাপাক লুটপাট হয়েছে। এই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিকেল তিনটা থেকে লুটপাট শুরু হয়ে রাত ১০টায় শেষ হয়। এসব ঘটনা গণমাধ্যমকর্মীরা সরাসরি দেখলেও ভিডিও বা ছবি তুলতে দেয়নি হামলা ও লুটপাটকারীরা। এমনকি গণমাধ্যমকর্মীদের দেখলেও তারা মারার জন্য তেড়ে আসে। একইদিন রাতে নগরীর চৌহাট্রায় আওয়ামীলীগ নেতার মালিকানাধীন দুটি বড় ফার্মেসীতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া দুর্বৃক্তরা। এসব ঘটনায় পুরো নগরীজুড়েই আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Manual4 Ad Code

এদিকে নগরীতে এসব হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট ঠেকাতে গণমাধ্যকর্মী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিয়ে সোমবার রাতভর মাইকিং ও টহল দিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এদিকে খবর পেয়ে সিলেট জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ এসব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে মঙ্গলবার বিকেলে তারা এক সংবাদ সম্মেলন করে দুর্বৃত্তদের প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code