সিলেট নগরের ১৪ পয়েন্ট বাঁশ ফেলে ব্যারিকেড

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টঃ  

টানা লকডাউনে ঘরের বাইরে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ। গত দুদিন ধরে সিলেট নগরের গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি পয়েন্টে বাঁশ ফেলে ব্যারিকেড দিয়ে রাখে সিলেট মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে সিলেট নগরীর রাস্তায় অন্য দিনের তুলনায় সিএনজি অটোরিকশা, মোটর সাইকেল, প্রাইভেট গাড়ি ও রিক্সার সংখ্যা অনেক কম ছিল। জরুরী কাজে এবং অফিসগামী কিছু মানুষকে সকালের দিকে চলাচল করতে দেখা গেছে। দুপুরের দিকে রাস্তায় যানবাহন এবং মানুষের চলাচল বাড়তে থাকে।

নগরীর কালিঘাট, বন্দরবাজার, মদিনা মার্কেট ও আম্বরখানা এলাকাসহ বেশ কিছু এলাকায় জনসমাগম অন্যদিনের তুলনায় বাড়তে থাকলে পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে অনেকেই দ্রুত সরে যান।

গতকাল সোমবার সারাদিন লকডাউন বাস্তবায়নে পুলিশও কঠোর অবস্থান নেয়। যারাই বের হয়েছেন, চেকপোস্টে থামিয়ে জিজ্ঞাসা করেছে পুলিশ। যাদের আইডি কার্ড আছে বা যারা জরুরি সেবার আওতায় চলাচল করছেন তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে, যারা আইডি কার্ড প্রদর্শন করতে পারছেন না বা যারা জরুরি সেবার আওতাভুক্ত হয়ে চলাচল করছেন না এবং ঘর থেকে বের হওয়ার সন্তোষজনক জরুরি কারণ প্রদর্শন করতে পারছেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে দেখা যায় পুলিশকে।

এছাড়া, বাঁশ ফেলে ব্যারিকেড করায় এসব পয়েন্টে জরুরী কাজে নিয়োজিত যানবাহনসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে। এতে লকডাউনে এসব এলাকায় যানজটেরও সৃষ্টি হয়।
লামাবাজার পয়েন্টে আটকা পড়া নিত্যপণ্য বহনকারি একটি পিকআপ-এর চালক জানান, তিনি টুকের বাজারে যাবেন। কিন্তু এখানে এসে যানজটে পড়ে অপেক্ষা করেছেন প্রায় ২০ মিনিট। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এ রকম বাঁশ ফেলে রেখে যানজট সৃষ্টি করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 

jagonews24

 

নগরীর আম্বরখানা, মদিনামার্কেট, রিকাবীবাজার ও লামাবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের একদিকে বাঁশ দিয়ে আটকানো। যাতে একপ্রান্তের গাড়ি অন্যপ্রান্তে সহসাই যেতে না পারে। তবে এক পাশে একটু ফাঁকা রাখা হয়েছে, সেখান দিয়ে জরুরী সেবার গাড়িগুলোকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া, এ সকল চেকপোস্টে অননুমোদিত প্রাইভেটকার, রিক্সা, মোটরসাইকেলসহ পায়ে হাঁটা মানুষদের জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া কেউই প্রবেশ করতে পারছেন না।

লকডাউনে চলাচল সীমিত রাখতে জনগণের স্বার্থেই কাজ করে যাচ্ছেন এমনটা দাবি করে সিলেট মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কার্যকর লকডাউন বাস্তবায়নে সিলেটের ১৪ টি পয়েন্টে বাঁশ ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেছে সিলেট মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। যার মধ্যে নগরের মধ্যে ৮টি পয়েন্ট রয়েছে, বাকি ৬টি পয়েন্ট নগরীর বাইরের এলাকাগুলোতে।

যে ১৪টি পয়েন্টে বাঁশের বেড়া দিয়ে কার্যকর লকডাউন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, সেই সড়কগুলো হলো, আম্বরখানা, বন্দরবাজার, টিলাগড়, মদিনামার্কেট, হুমায়ুন রশিদ চত্বর, অতিরবাড়ি, শ্রীরামপুর বাইপাস, পারাইর চক, বটেশ্বর, এয়ারপোর্ট রোড, রিকাবীবাজার, লামাবাজার, জিন্দাবাজার ও কাজীর বাজার সেতুর দক্ষিণ পার্শ্ব।
জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, পুলিশ সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনে কাজ করছে। লকডাউনের শুরু থেকেই দেখা গেছে অনেকেই বিভিন্ন অজুহাতে বাসাবাড়ি থেকে বের হচ্ছেন। তাই, লকডাউন কার্যকর করতে সিলেটের সড়কের ১৪টি পয়েন্টে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। এতে কেউ চাইলেই হুট করে গাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন না।

Manual7 Ad Code

 

Manual3 Ad Code

jagonews24

 

গতকাল সোমবার সিলেট কদমতলী বাসস্টেশন, রেল স্টেশন এবং সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে ছিলো সুনসান নিরবতা। সিলেট থেকে কোনো বাস, রেল এবং বিমান ছেড়ে যায়নি। তাই, যাত্রীদের আনাগুনা নেই এসব স্থানে।
করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে গত বুধবার সকাল থেকে কঠোর বিধিনিষেধ চালু করে সরকার। এই বিধি নিষেধকে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ বলা হচ্ছে। টানা আটদিনের এই নিষেধাজ্ঞা চলবে ২১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত।

Manual3 Ad Code

এদিকে, করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় চলমান বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো ফরহাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Manual2 Ad Code

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের বলেন, যতটুকু ধারণা করছি করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন আরও বাড়তে পারে। কারণ করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষকে সচেতন করার জন্য পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code