সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া ও ইউনূসের একান্তে আলাপ

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

Manual4 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : সেনাকুঞ্জে অনুষ্ঠিত সশস্ত্র বাহিনীর দিবসে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের একান্ত সাক্ষাত হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৪ বছর পর ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর সেনাকুঞ্জে যান তিনি। শারিরীক অবস্থার কারণে সেনাকুঞ্জে তার এবার যাওয়া না যাওয়া নিয়ে সশংয় ছিল। কেননা, তিনি কোন রাজনৈতিক ও সামজিক অনুষ্ঠানে যান না। তবে সশংয় দুর করে তিনি গেলেন তার স্মৃতিবিজড়িত সেনাকুঞ্জে। সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানস্থলে খালেদা জিয়ার আগমনি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সবার নজর ঘুরে যায় তিনবারের নির্বাচিত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর দিকে। এ সময় তার পরনে ছিল ল্যাভেন্ডার রঙের শিফন শাড়ি। গাড়ি থেকে নেমে হুইল চেয়ারে বসে অনুষ্ঠানস্থলে যান খালেদা জিয়া। এসময় হাত তুলে তাকে অভিবাদনের জবাব দিতে দেখা যায়। তিনি সেখানে এসে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের পাশের আসনে বসে তিনি উপভোগ করেন সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এর আগে গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টায় গুলশানের বাসা থেকে তিনি সেনাকুঞ্জে পৌঁছালে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন অভ্যর্থনা জানান।

Manual3 Ad Code

খালেদা জিয়া সেনাকুঞ্জে পৌঁছার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একান্তে কয়েক মিনিট কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সাইডলাইনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পারষ্পরিক সৌজন্য বিনিময় করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজ নেন এবং তার সুস্থতা কামনা করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রধান উপদেষ্টার সহধর্মিণী আফরোজী ইউনূসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং শুভ কামনা জানান। শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একান্তে কয়েক মিনিট কথা বলেন খালেদা জিয়া। সেখানে পাশাপাশি আসনে বসে বর্তমান ও সাবেক সরকারপ্র ধানকে হাসিমুখে কথা বলতে দেখা যায়।

Manual8 Ad Code

পরে তারা যান মূল অনুষ্ঠানস্থলে। এ সময় খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্রবধূ সৈয়দা শর্মিলা রহমান, খালেদা জিয়ার প্রয়াত ভাই সাঈদ ইসকান্দারের স্ত্রী নাসরিন ইসকান্দার। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নের্তৃবৃন্দের উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার, ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডা. নুরুদ্দিন আহমেদ, সদস্য এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও একান্ত সচিব এবিএম আব্দুর সাত্তার। সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে খালেদা জিয়া বাসায় ফেরার উদ্দেশে রওনা হন। সেনাকুঞ্জ ত্যাগের সময় তাকে বিদায় জানান সেনাপ্রধান। উল্লেখ্য, নানা ধরনের অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়া এখন রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেন না। গত এক বছরের মধ্যে কেবল একবারই তাকে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল। গত ৮ অক্টোবর রাতে তিনি তার স্বামী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে শেরেবাংলা নগরে গিয়েছিলেন।

জানা গেছে, সশস্ত্র বাহিনীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সিনিয়র সহ-সভাপতি তানিয়া রবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও সেনাকুঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও উপদেষ্টার পদমর্যাদার ব্যক্তিবর্গ, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান, বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, বাহিনীত্রয়ের সাবেক প্রধান, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, স্বাধীনতা যুদ্ধের সব বীরশ্রেষ্ঠের উত্তরাধিকারী, স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ঢাকা এলাকায় বসবাসরত খেতাবপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা তাদের উত্তরাধিকারী, উচ্চপদস্থ অসামরিক কর্মকর্তা এবং তিন বাহিনীর কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code