স্পেনে বিলুপ্তপ্রায় বিড়াল পাচারের চক্র ভেঙে দিল পুলিশ, রাশিয়ান দম্পতিসহ গ্রেফতার ৩

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Manual7 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : স্পেনে বিলুপ্তপ্রায় বন্য প্রাণির পাচার ও অবৈধ বংশবিস্তারের একটি ভয়াবহ চক্রের সন্ধান মিলেছে, যেখানে বন্য বিড়ালকে গৃহপালিত বিড়ালের সঙ্গে ব্রিড করিয়ে তৈরি করা হতো হাইব্রিড বিড়াল, তারপর সেগুলো বিক্রি হতো মোটা অঙ্কের দামে। স্পেনের ম্যালোরকা শহরে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূল হোতা রাশিয়ান দুই নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোটা চক্রটি মূলত ইন্টারনেটভিত্তিক বিজ্ঞাপন ও অর্ডারের মাধ্যমে পরিচালিত হতো, যেখানে প্রচুর আন্তর্জাতিক ক্রেতা জড়িয়ে পড়ে।

Manual2 Ad Code

সোমবার (১৪ এপ্রিল) স্পেনের পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন রাশিয়ার ৪৮ বছরের এক পুরুষ ও ৪৬ বছরের এক নারী। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা স্পেনের বিলুপ্তপ্রায় ও সুরক্ষিত বিড়াল প্রজাতির বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে পাচার করছিল। তাছাড়া, তারা গৃহপালিত বিড়ালের সঙ্গে বন্য বিড়ালের ব্রিড ঘটিয়ে তৈরি করতো হাইব্রিড বিড়াল, যা বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হতো। তাদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন এবং প্রাণিসুরক্ষা আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে। আরও চমকপ্রদ তথ্য—পুলিশের দাবি, এ চক্রে আন্তর্জাতিক পাচারকারীরাও জড়িত এবং এরা সাদা বাঘের মতো প্রাণির ব্রিডিংও চালাচ্ছিল।

Manual1 Ad Code

অভিযানে ওই দম্পতির বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক অবৈধ প্রাণি। এদের মধ্যে রয়েছে দুটি সারভাল, ১৬টি ফেলিনস, কয়েকটি কারাকাল এবং বিভিন্ন বয়সের হাইব্রিড বিড়াল। এসব প্রাণির মধ্যে অনেকেই আন্তর্জাতিকভাবে বিলুপ্তপ্রায় এবং স্পেনে এদের বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই প্রাণিগুলো আপাতত স্থানীয় একটি চিড়িয়াখানায় রাখা হয়েছে, তবে তাদের শারীরিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে। পুলিশ জানায়, এই প্রাণিগুলো গোপনে রাশিয়া, বেলারুশ এবং ইউক্রেন থেকে এনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাচার করা হতো, যার মূল রুট ছিল বেলারুশ থেকে পোল্যান্ডের সীমান্ত।

এই পাচারচক্রের কেন্দ্রবিন্দু ছিল একটি সোশ্যাল মিডিয়া পেজ, যেটি গ্রেফতার হওয়া রাশিয়ান দম্পতির মালিকানাধীন। সেই পেজে হাইব্রিড বিড়ালের রঙিন ছবি, বিস্তারিত বিবরণ এবং প্রজাতি উল্লেখ করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো, যা বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। বহু মানুষ সেখান থেকে বিড়াল অর্ডার করত। এমনকি, ক্লাউডেড লেপার্ডের মতো একটি বিপন্ন প্রাণির জন্য সাড়ে ৬০ হাজার ইউরো পর্যন্ত দাম নেওয়ার তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। সন্দেহ করা হচ্ছে, এই পেজের মাধ্যমে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের সদস্যরাও যুক্ত ছিল।

বন্যপ্রাণ রক্ষায় এই ধরনের অপরাধ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রাণিগুলো শুধু বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই অভিযান স্পেনসহ গোটা ইউরোপে বন্যপ্রাণ পাচার প্রতিরোধে একটি সাহসী পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় এই চক্রের বাকি সদস্যদের খুঁজে বের করার কাজ চলছে। এখন সময়, মানুষ ও সরকার উভয়কে একযোগে এগিয়ে এসে এই অন্ধকার ব্যবসার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার।

Manual7 Ad Code

Desk: K

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code