স্বাধীনতা দিবসের কবিতা

লেখক:
প্রকাশ: ৯ years ago

Manual1 Ad Code

তাঁরা আমাদের দেশ দিয়ে গেছেন
পতাকা দিয়েছেন,
মানচিত্র দিয়েছেন।
আমাদের আগের প্রজন্ম,
তাঁরা তাঁদের কাজ করে গেছেন।
আমি তো ফারুক ইকবালের গল্প জানি,
তিনি আবুজর গিফারী কলেজের ছাত্র ছিলেন,
১৯৭১ সালের মার্চের তিন তারিখে বঙ্গবন্ধুর জনসভায় যাওয়ার জন্য মিছিল নিয়ে বেরিয়েছিলেন মালিবাগ থেকে,
রামপুরা টিভিভবনের সামনে পাকিস্তানি সৈন্যরা রাস্তা পাহারা দিচ্ছিল,
চালাল গুলি,
রাস্তায় পড়ে গেলেন ফারুক ইকবাল।
পানি, একটু পানি—আর্তি শোনা গেল,
জনতা ছুটল পানির খোঁজে,
ফিরে এসে দেখল ফারুক ইকবাল বুকের রক্ত দিয়ে কালো রাজপথে
লেখার চেষ্টা করছেন ‘জয় বাংলা’।
আমি তো কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনের কথা জানি, ১৯৭১-এর ২৬ মার্চ ভোরে
পাকিস্তানি মিলিটারি তাঁর বাড়ি ঘেরাও করল,
বুটের শব্দ খট খট খট,
দরজায় আঘাত ঠক ঠক ঠক,
তিনি দরজা খুললেন,
তারা বলল, বল, পাকিস্তান জিন্দাবাদ,
তিনি বললেন, এক দফা জিন্দাবাদ,
তারা বলল, বল, পাকিস্তান জিন্দাবাদ,
তিনি বললেন, স্বাধীনতা…
আমাদের বড় ভাইয়েরা হাসতে হাসতে তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন আমাদের ভালো রাখার জন্য
আমাদের একটা নির্ভয় দেশ দেবেন বলে…

আমি একজন নারীর কথা জানি,
যিনি একটা পুকুরের পাশে কাপড় কাচছিলেন,
সেই পুকুরে পানার নিচে কোনো রকমে নাক ভাসিয়ে লুকিয়ে ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা।
মিলিটারি বলল, মুক্তি কিধার হ্যায়,
নারীটি বললেন, দেখিনি,
মিলিটারি চলে যাচ্ছিল,
হঠাৎ নড়ে উঠল পানা,
মিলিটারি গুলি করে মেরে ফেলল সেই নারীটিকে।

যেমন এক নারী ভোরবেলা গ্রাম্য কুটিরের দুয়ারে
বসে কোরান শরিফ পড়ছিলেন,
ভেতরে ছিল মুক্তিযোদ্ধারা,
পাকিস্তানি মিলিটারি ওই ঘরের দুয়ার থেকে ফিরে গেল,
মুক্তিযোদ্ধা নিরাপদে সরে গিয়ে আক্রমণ করল পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর,
ফেরার পথে মিলিটারিরা জ্বালিয়ে দিল ওই বাড়ি,
শহীদ হলেন সেই নারী।

Manual2 Ad Code

আমি একজন বাবার কথা জানি।
তাঁর একমাত্র ছেলে নারায়ণগঞ্জে অপারেশনে এসে শহীদ হলো।
মুক্তিযোদ্ধারা তাঁকে সেই খবর দিল, কাকা, আপনার ছেলে শহীদ হয়েছে।
তিনি কাঁদতে লাগলেন। বললেন, আমি এ জন্য কাঁদছি না যে আমার একমাত্র ছেলে শহীদ কেন হলো?
আমি কাঁদছি এই জন্য যে আমার কেন একটা মাত্র ছেলে।
আজ আরেকজন ছেলে থাকলে তো আমি তাকে যুদ্ধে পাঠাতে পারতাম।

আমি একজন বোনের কথা জানি।
একাত্তরে তার পেটে গুলি লেগেছিল। তাকে নেয়া হয়েছিল
আগরতলার হাসপাতালে।
রক্ত দরকার। রক্ত জোগাড় করা যায়নি,
ডাক্তারের হাত ধরে তিনি বলেছিলেন, দাদা, আমি তো মারা যাচ্ছি,
আপনি কথা দেন যে দেশটাকে স্বাধীন করে যাবেন।

Manual3 Ad Code

আমি একজন মায়ের কথা জানি।
তাঁর একমাত্র ছেলে আজাদ যুদ্ধে ধরা পড়ার পর তাঁর কাছে ভাত খেতে চেয়েছিল। মা বলেছিলেন, শক্ত হয়ে থেকো বাবা, কোনো কিছু স্বীকার করবে না।
মা ভাত নিয়ে গিয়েছিলেন রমনা থানায়।
ছেলের দেখা পাননি। এই মা আরও ১৪ বছর বেঁচে ছিলেন। আর কোনো দিনও ভাত খাননি।

আমাদের মায়েরা হাসতে হাসতে তাঁদের ছেলেমেয়েদের উৎসর্গ করে ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য।
আমাদের বাবারা তাঁদের ছেলেমেয়েদের উৎসর্গ করে ছিলেন আমাদের স্বাধীন করে যাবেন বলে।

আমাদের বড় ভাই ও বোনেরা নিজেদের জীবন আমাদের মুক্তির জন্য উৎসর্গ করে রেখে গিয়েছিলেন।

তাজউদ্দীন আহমদ একাত্তর সালে ঘড়ির কাঁটায় সব সময় বাংলাদেশের টাইম রেখে দিয়েছিলেন।

Manual8 Ad Code

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, এই রেসকোর্স ময়দানে আমি বলেছিলাম, আপনাদের মনে আছে, রক্তের ঋণ আমি রক্ত দিয়ে শোধ করব।
তিনি তাঁর কথা রেখেছেন…

Manual3 Ad Code

আমাদের পিতৃপুরুষগণ তাদের কাজ করে গেছেন।
আমরা পেয়েছি
দেশ
আমরা পেয়েছি
ভাষা
আমরা পেয়েছি
পতাকা
আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা
আমরা পেয়েছি এগিয়ে চলার প্রেরণা আর দীপনা
অনেক রক্ত
অনেক অশ্রু
অনেক ত্যাগ
অনেক কষ্ট
অনেক ভালোবাসা দিয়ে
তাঁরা তাঁদের কাজ করে গেছেন

এবার আমাদের কাজ আমাদের করতে হবে
পিতৃপুরুষের ঋণ আমাদের শোধ করতে হবে
আমাদের যুদ্ধ যেতে হবে না
আমাদের রক্ত দিতে হবে না
আমাদের তাই করতে হবে যা আমাদের সবার ভেতরে আছে
দেশের জন্য ভালোবাসা
আমাদের নিজেদের কাজটুকু ঠিকঠাক করে যেতে হবে

আমরা যে অক্সিজেন নিই, তা আমাদের দেশমায়ের বাতাস থেকে নিই
আমরা যে অন্ন গ্রহণ করি, দেশমায়ের শরীর থেকে আসে তা
এই দেশের অন্ন পানি বায়ু আমাদের পুষ্ট করেছে
আমার মায়ের কাছে আমাদের যত ঋণ, তা আমাদের শোধ করতে হবে
আমাদের ভাইয়ের কাছে আমাদের যত ঋণ, তা আমাদের শোধ করতে হবে
আমাদের পিতৃপুরুষদের কাছে আমাদের যত দায়, সব শোধ করতে হবে

আমাদের যুদ্ধে যেতে হবে না
আমাদের রক্ত দিতে হবে না
আমার নিজেকে আলোকিত করতে হবে
১৬ কোটি প্রাণে যদি আলো জ্বলে ওঠে
আলোয় আলোয় ভরে উঠবে এই দেশ
আমরা নিজেদের গড়ব আলোয় আলোয়
আমরা ন্যায়ের পথে চলব আলোয় আলোয়
অন্যায়ের প্রতিবাদ করব আলোয় আলোয়

এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়
অযুত নিযুত প্রাণের প্রদীপে কোটি কোটি জ্বলে জয়
শহীদের দানে পুণ্য স্বদেশ
নেই তার পরাজয়
মাথা নোয়াবার নয়

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
বাংলাদেশ › সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতি এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন:
‘বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের গন্তব্য বাংলাদেশ’ শিরোনামে বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে কানাডার এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ও কানাডার আলবার্টা প্রদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে আরও শক্তিশালী করাতে প্রথমবারের মতো এ ধরনের সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কানাডার বাংলাদেশ হাইকমিশনার মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলবার্টা প্রদেশের ক্যালগেরির এমপি জাসরাজ সিং হালান, ক্যালগেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের অধ্যাপক ড. আনিস হক, মাউন্ট রয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসেট স্কুল অব বিজনেসের সহকারী অধ্যাপক ড. তাসফিন হোসেন। এ ছাড়া সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা চিকিৎসক আইনজীবী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বাংলাদেশ-কানাডা অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালগেরির সভাপতি মো. রশিদ রিপন এবং সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত বসু। সেমিনারের শুরুতেই বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও উন্নয়নের চিত্র বিনিয়োগ ইত্যাদির ওপর একটি প্রামাণ্য ভিডিওচিত্র পরিবেশিত হয়। এর পরই কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিজানুর রহমান স্বাগত বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে এবং বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধি দেশে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ সম্পর্কে এবং বিগত ১১ বছরের চলমান বাংলাদেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিত্র সভায় উপস্থিত সবার কাছে তুলে ধরেন। এ ছাড়া সেমিনারে এমপি জাসরাজ সিং হালান তার বক্তব্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন। সেমিনারে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও আলবার্টা প্রদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কিত তথ্যাদি উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর (বাণিজ্যিক) মো. শাকিল মাহমুদ। সেমিনারে অধ্যাপক ড. আনিস হক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কানাডাতে প্রকৌশল বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ-সুবিধার বিষয় তুলে ধরেন। ড. তাসফিন হোসেন তার উপস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, সেমিনারে মূলত আলবার্টা প্রদেশ ও বাংলাদেশের মধ্যকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কীভাবে সম্প্রসারণ করা যায় সে বিষয়ে আলোকপাত করা ছাড়াও বর্তমানে বাংলাদেশে যে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে তা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা প্রদেশ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানানো হয়। বর্তমান সরকার বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বিনিয়োগকারীদের জন্য যেসব প্রণোদনা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে সে বিষয়েও আলোকপাত করা হয়। খনিজসম্পদ, জ্বালানি ও গ্যাস, ভৌত অবকাঠামো, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ওষুধ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং যন্ত্রাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি, সফটওয়্যার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি ইত্যাদি বিষয়ে আলবার্টা প্রদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয় আলোচনায় অগ্রাধিকার পায়। এ ছাড়া আলোচনায় আগত অতিথিদের বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের জবাব প্রদানের জন্য প্রশ্নোত্তর পর্বের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
৬ years ago
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code