হরমুজ প্রণালীতে মাইন বিস্ফোরণে ৪টি তেলবাহী জাহাজে আগুন, দাবি ইরানের

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

Manual5 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের সময় সমুদ্রের মাইনে আঘাত লেগে চারটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। বৃহস্পতিবার দেশটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।  এর এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল, তারা গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের প্রধান চলাচলপথগুলো মাইনমুক্ত করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় অনুমোদনহীন দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথ দিয়ে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় তিনটি তেলবাহী জাহাজ সমুদ্রের মাইনে আঘাত পেয়ে বিস্ফোরিত হয় এবং আগুন ধরে যায়। বৃহস্পতিবার ইরানের সেনাবাহিনী আরও একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার খবর জানায়। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালীর পূর্ব দিকে একটি নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক এলাকায় চলাচলের সময় জাহাজটি মাইনে আঘাত পায়। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম তিনটি জাহাজ তাদের রাডার ও নৌ-চলাচলসংক্রান্ত সব যন্ত্র বন্ধ করে দিয়েছিল এবং আইআরজিসির নৌবাহিনীর সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করেছিল। তবে এসব ঘটনা ঠিক কখন ঘটেছে এবং জাহাজগুলো কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

Manual1 Ad Code

এদিকে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জানায়, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল বা ৪৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে হরমুজ প্রণালীতে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর তারা পেয়েছে। এর আগে একই এলাকায় আরও দুটি ঘটনার কথা জানিয়েছিল সংস্থাটি। এর মধ্যে একটি ছোট পালতোলা নৌযান সামুদ্রিক নিরাপত্তাজনিত ঘটনার পর আগুন ধরে ডুবে যায়। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত বস্তু বা অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান একাধিক জাহাজ সমুদ্রের মাইনে আঘাত পাওয়ার খবর জানিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও দাবি করে, জাহাজ চলাচলের প্রধান পথগুলো থেকে সব মাইন অপসারণ করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি এ দাবি চ্যালেঞ্জ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, ‘শুধু বিবৃতি দিয়ে নয়, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রমাণ দিয়ে হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন অপসারণের দাবি প্রমাণ করুন।’

Manual4 Ad Code

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করেছে ইরান। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করছে। রোববার সেন্টকম জানায়, গ্রীষ্মকাল থেকে এ পর্যন্ত তাদের সহায়তায় উপসাগরীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে ১৫০ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। ইরান ওমানের উপকূলঘেঁষা দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে অনুমোদনহীন বলে বিবেচনা করে। বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ‘হরমুজ প্রণালীর অনুমোদনহীন নৌপথে মাইন পেতে রাখা হয়েছে। এসব পথে চলাচলের দায় জাহাজের মালিক ও নাবিকদের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেন্টকমের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে তাদের কান দেওয়া উচিত নয়।’ এদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে একটি মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন আটকের দাবিও করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমাঞ্চলে আক্রমণাত্মক অভিযান চালিয়ে আইআরজিসি নৌবাহিনীর ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট সফলভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউএম-১৭০  ড্রোনটি আটক করেছে।’ তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code