

ফিচার: বাতাসের সাথে বিচিত্র ঢেউয়ে ঢেউয়ে নেচে উঠে তার দেহ। তবে সারাবছর হাওর একই অবস্থায় থাকে না, বদলে যায়। প্রকৃতির আপন ঋতুবৈচিত্র্যের সাথে সেও দ্রুতই পাল্টে যায়।
যেখানটা আজ জলপূর্ণ ছিল, কয়েক সপ্তাহ পরে সেখানটা শুকনো অবস্থায় পরিবর্তিত হয়ে পড়ে। চিনে নিতে কিছুটা অসুবিধা হয় যে, এখানটা একসময় পানিতে থৈ থৈ ছিল! আজ শুকনো বা কাঁদাময় স্থান।
শরতের রানি এমন হাওরকেই পেয়ে বসে! উন্মুক্ত বুকপাঁজরের এই প্রসারিত প্রান্তরকে পেয়ে সে তার সমস্ত সৌন্দর্য সহজেই মেলে ধরে। নীলা আকাশজুড়ে ভাসতে থাকে তখন সাদা মেঘেদের ছুটোছুটি দৃশ্য।
বোধ করি বলাই উচিত, প্রত্যেক মানুষেরই কম বা বেশি পরিমাণে একটা সৌন্দর্যে মুগ্ধ অনুসন্ধানী দৃষ্টি রয়েছে। অনেকেই প্রকৃতির এরূপ বিমোহিত অপরূপ দৃশ্যাবলীতে মুগ্ধ হতে চান। শরৎরানি বাংলার প্রাকৃতিক জলাভূমি ঘিরে তার সৌন্দর্য মেলে ধরেছে। যেখানে নীল আকাশের শোভা প্রতিফলিত হচ্ছে হাওরজলে।
হাওরের কোনো পাড় থেকে এই রূপ যতটা দেখতে ভালো লাগে তারচেয়ে ঢের বেশি ভালো লাগে নৌকাভ্রমণ থেকে। হাওর প্রতিবিম্বে শরতের নীলাকাশটা ধরা পড়ে দারুণভাবে। সাদা মেঘের প্রতিচ্ছবি হাওরজলে! এ এক অপূর্ব শোভা। নৌকার থেকে হাওরপাড়ের এমন সৌন্দর্যগুলো দেখতে দেখতে নয়ন জুড়িয়ে যায়। তবে দুপুরবেলার রোদের তীব্রতা সহ্য করতেই হয়। এক্ষেত্রে ছাউনিনৌকাই অতি উত্তম।
নৌকা ধীরগতিতে চলছে সামনের দিকে। সোজা দেখা গেল বিশালাকৃতি জাল। কয়েকটি বাঁশের কাঠামো ওপর সজ্জিত বড় আকারের জাল বাঁধা। গ্রামাঞ্চলের এমন জালকে অঞ্চলভেদে খড়াজাল, ধর্মজাল অথবা কোণাঘর জাল বলে।