

সংগ্রাম দত্ত
সকালবেলার কুয়াশার চাদরে ঢাকা হাওর। নৌকায় হালকা দুলছে পানির ঢেউ। দূরে, সবুজের মাঝে হাওরের নরম দিগন্ত যেন ঢেকে রেখেছে হাজারো গল্প। হাওরের এই রহস্যময় প্রকৃতি আর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের গল্পকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে নতুন শর্টফিল্ম ‘নাওবিবি’। শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদের গল্প ও চিত্রনাট্যে এটি পরিচালনা করেছেন তরুণ নির্মাতা মশিউর রহমান কায়েস। প্রযোজনায় রয়েছেন ম্যাক রিপন।
শর্টফিল্মের গল্পে দেখা যায় এক ট্র্যাভেলার হাওরে এসে অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়। রাতের আঁধারে পানিতে হঠাৎ জ্বলে ওঠে আগুন, আর সেই আগুনের ওপারে দাঁড়িয়ে থাকে রহস্যময় তরুণী মায়া। তাকে অনুসরণ করতে গিয়ে ট্র্যাভেলার ঢুকে যায় হাওরের গভীর রহস্যের ভেতর। ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় হাওরের প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং মানুষের টানাপোড়েন।
শুটিং অভিজ্ঞতা ও চরিত্র প্রস্তুতি-
শুটিং চলাকালীন, সকালবেলার কুয়াশা, দুপুরের ঝলমলে রোদ, সন্ধ্যায় বৃষ্টির ফোঁটা—সব মিলিয়ে টিমের প্রতিটি সদস্য যেন প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে গেছে। নৌকা দুলতে দুলতে ক্যামেরা কখনও থামে নি।
ট্র্যাভেলারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাহাফুজ মুন্না। তিনি বলেন,
“শুটিংয়ের আগে থেকেই চরিত্রের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলাম। ব্যাকপ্যাক নিয়ে হাওরে ঘুরেছি, ক্লান্ত শরীর ও রোদে পোড়া মুখের অভিজ্ঞতাই ক্যামেরার সামনে সত্যিকারের বাস্তবতা এনে দিয়েছে।”
রহস্যময় মায়া চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইসরাত জাহান পমি। তিনি জানান,
“আমি কেবল একটি চরিত্রে অভিনয় করি নি, বরং হাওরের সৌন্দর্য ও তার রহস্যময়তা দর্শকের সামনে উপস্থাপন করেছি।”
নির্মাতার বক্তব্য-
পরিচালক মশিউর রহমান কায়েস বলেন,
“হাওরের প্রকৃতি আমাদের জন্য কেবল শুটিং লোকেশন নয়, এটি চরিত্রের অংশ। দর্শক শুধু গল্প দেখবে না, তারা হাওরের শ্বাস-প্রশ্বাসও অনুভব করবে।”
কলাকুশলীরা-
সিনেমাটোগ্রাফি: আনন্দ সরকার
কো-অর্ডিনেটর: আহমদ আমিন
ফেঁউচ্চা চরিত্রে: শাহ শান্ত
শিশু চরিত্রে: শাহ ওবায়েদ নেহান
থিম ও পরিকল্পনা-
লেখক শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ রহস্য ও থ্রিলার লেখক হিসেবে পরিচিত। তার কিশোর উপন্যাস ‘ব্ল্যাক লাইট’ পাঠকমহলে আলোচিত। পেশায় সাংবাদিক হলেও তিনি ‘নিশিদল’ নামে দুঃসাহসিক ভ্রমণ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন। নতুন শর্টফিল্ম *‘নাওবিবি’*তেও রয়েছে সেই রহস্য ও রোমাঞ্চের ছোঁয়া।
শর্টফিল্মের মূল থিম হলো জলবায়ু পরিবর্তন ও হারিয়ে যাওয়া প্রকৃতি। এতে রয়েছে রোমাঞ্চ, রহস্য, আবেগ এবং সিনেমাটিক আবহ। পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শেষে ‘নাওবিবি’ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পাঠানো হবে। দেশীয় প্ল্যাটফর্মে মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
হাওর: প্রকৃতি ও জীবনের সম্পদ-
অবস্থান ও বিস্তার: হাওর বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিস্তৃত জলাভূমি। মৌসুমী বন্যা ও নদীর প্রবাহের ফলে এখানে সৃষ্টি হয় অনন্য ইকোসিস্টেম।
জীববৈচিত্র্য: হাওরে বিরল মাছ, পাখি ও উদ্ভিদের প্রাচুর্য রয়েছে। এটি স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অভয়ারণ্য।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হাওরের পানির স্তর, মাটির উর্বরতা ও কৃষি প্রভাবিত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় ও অতিবৃষ্টির ফলে স্থানীয় জনজীবন সংকটে পড়ছে।
সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব: হাওরের মানুষের জীবিকা, সংস্কৃতি ও উৎসবগুলোর সঙ্গে এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মৎস্যশিকার, কৃষি ও নৌপরিবহন এখানকার মূল জীবিকা।
দৃঢ় বার্তা: হাওরের প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষাই স্থানীয় জনজীবন, সংস্কৃতি ও জলবায়ু স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি।