

আমতলী (বরগুনা) :
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ৬৮ বছর ও দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৯ বছরেও বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মিত হয়নি শহীদ মিনার। স্থায়ীভাবে শহীদ মিনার নির্মিত না হওয়ায় ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাদের প্রতি যথাযথভাবে শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। অস্থায়ীভাবে কলাগাছ ও বাঁশ দিয়ে মিনার নির্মাণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় শিক্ষার্থীরা। দু’উপজেলায় হাতে গোনা কয়েটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার থাকলেও সেগুলোর কোন যতœ নেয়া হয় না। সারাবছর তা অযতœ অবহেলায় পড়ে থাকে।
উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানাগেছে, আমতলী ও তালতলী উপজেলায় ৩২৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমতলী উপজেলায় ১৫২টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৩টি নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়,২৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২১টি দাখিল মাদ্রাসা, ১টি আলিম মাদ্রাসা, ৪টি ফাজিল মাদ্রাসা ও ৫টি কলেজ। তালতলী উপজেলায় ৭৮টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫টি নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১২টি দাখিল মাদ্রাসা ও ১টি কলেজে রয়েছে।
এরমধ্যে আমতলী উপজেলায় ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২টি কলেজ, ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তালতলী উপজেলায় ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি কলেজে শহীদ মিনার রয়েছে। এ দু’উপজেলার কোন মাদ্রাসায় শহীদ মিনার নেই।
দু’উপজেলার বাকী শিক্ষা প্রতিষ্ঠনে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কোন শহীদ মিনার নেই। এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কলাগাছ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে দিবসটি পালন করে থাকে। আর যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে যেগুলো সারা বছর অযতœ অবহেলায় পড়ে আছে। এগুলো পয়ঃপরিস্কার করেন না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। প্রতি বছর শহীদ দিবসের পূর্বে ঘষা মাজা করে থাকেন।
সরেজমিনে দু’উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে দেখাগেছে, দু’উপজেলার ২৯৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন স্থায়ী শহীদ মিনার নেই। ২১শে ফেব্রুয়ারী শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘনিয়ে আসলে এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কলাগাছ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার নির্মান করে ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়ে শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
আমতলী ও তালতলী উপজেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের বিদ্যালয়ে স্থায়ীভাবে শহীদ মিনার নির্মিত না হওয়ায় ভাষা আন্দোলনে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যালয়ে অস্থায়ীভাবে কলাগাছ ও বাশ দিয়ে নির্মিত শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে আমাদের শ্রদ্ধা জানাতে হয়। আমরা সরকারের কাছে আমাদের বিদ্যালয়ে স্থায়ীভাবে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবী জানাই।
এছাড়া দু’উপজেলার ৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থায়ীভাবে শহীদ মিনার নির্মিত হলেও সেগুলোর কোন যতœ নেয়া হয় না সারাবছরই সেগুলো অযতœ ও অবহেলায় পড়ে থাকে।
কেওয়াবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, আমার বিদ্যালয়ে স্থায়ী কোন শহীদ মিনার নেই।
লাউপাড়া সাগর সৈকত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম হায়দার মুঠোফোনে বলেন, আমার বিদ্যালয়ে স্থায়ী কোন শহীদ মিনার নেই। প্রতি বছর অস্থায়ীভাবে কলাগাছ ও বাঁশ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে সেখানে শিক্ষার্থীরা শ্রদ্ধা জানায়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ দেলোয়ার হোসেন গাজী বলেন, যেসব বিদ্যালয়ে স্থায়ীভাবে শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছে সেসব শহীদ মিনারগুলো সারাবছরই অযতœ ও অবহেলায় পড়ে থাকে। ২১ ফেব্রুয়ারীর ২/৩ দিন আগে তা ঘষামাজা করা হয়।
আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, উপজেলার ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ীভাবে শহীদ মিনার নির্মিত হলেও বাকী বিদ্যালয়গুলো এখনো শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি। পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট সকল বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মান করা হবে।
তালতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার লুৎফর কবির কামরুল আহ্সান মুঠোফোনে বলেন, এ উপজেলার ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য স্থায়ী শহীদ মিনার আছে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা প্রয়োজন।
আমতলী উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকান বলেন, ভাবতেই অভাগ লাগে দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৯ বছরেও উপজেলার একটি মাদ্রাসায়ও ভাষা শহীদদের সম্মানে স্থায়ীভাবে শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি। তিনি আরো বলেন, আগামী উপজেলা পরিষদের সম্বন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, ভাষা শহীদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা- সম্মান, নতুন প্রযম্মের কাছে তাদের পরিচিত করতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা প্রয়োজন। জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।