

বিশেষ প্রতিবেদন: ৪ জুলাই আমেরিকার মহান স্বাধীনতা দিবস। গত ২৪২ বছর ধরে ৪ জুলাই আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। এবার ২৪৩তম স্বাধীনতা দিবস। এবারও মহা ধুমধামে প্যারেড, মেসির আতশবাজি, পিকনিক, বারবিকিউ পার্টি, কনসার্ট ইত্যাকার বর্ণাঢ্য সব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হবে। যারা এসব কর্মসূচি পালন করবে, তারা ইতিমধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এনেছে। ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সমগ্র আমেরিকা ফেডারেল হলিডে উপভোগ করবে। পোস্ট অফিস, ব্যাংকসহ সব অফিস-আদালত, বড় বড় সব স্টোর বন্ধ থাকবে। স্কুল-কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগে থেকেই বন্ধ। এবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে টিকিটে ভিআইপিদের ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির জন্য দিনটি উপভোগে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।
প্রতিটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে থাকে অনেক আত্মত্যাগের ইতিহাস। স্বাধীনতার জন্য রক্ত, জীবন, সম্ভ্রম দিতে হয়। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম করতে হয়। এখন যারা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক, তারা বিশেষভাবে জানে স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে কী বিপুল বিসর্জন। ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছে স্বাধীনতার মাত্র ৯ মাসের প্রত্যক্ষ লড়াইয়ে। ২ লক্ষাধিক মা-বোন সম্ভ্রম খুইয়েছে বর্বর বাহিনীর হাতে। এ ছাড়া ২৪ বছর ধরে স্বাধীনতার আকাক্সক্ষার আন্দোলন-সংগ্রামে কত মানুষ জীবন দিয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই।
আমেরিকার মানুষকেও ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন লড়াই করতে হয়েছে। জীবন দিতে হয়েছে। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অবশেষে ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই চূড়ান্তভাবে ইংল্যান্ডের ঔপনিবেশিক শাসন হটিয়ে পরম কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়। বিশ্বের অন্যতম দুটি দেশ- বাংলাদেশ ও আমেরিকা স্বাধীনতা অর্জন করে ডিক্লারেশন অব ইনডিপেন্ডেন্সের মাধ্যমে। ১৭৭৬ সালের ৭ জুন পেনসিলভানিয়ার স্টেট হাউসে (পরে ইনডিপেন্ডেন্স হলো) ভার্জিনিয়ার রিচার্ড হেনরি লি স্বাধীনতার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তার বিখ্যাত সেই প্রস্তাব ‘রিসলভড : দ্যাট দিস ইউনাইটেড কলোনিজ আর, অ্যান্ড অব রাইট অট টু বি, ফ্রি অ্যান্ড ইনডিপেন্ডেন্ট স্টেটস।’
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আমেরিকার বিপ্লব চলাকালে ১৭৭৬-এর ২ জুলাইয়ে যখন দ্বিতীয় কন্টিনেন্টাল কংগ্রেসে স্বাধীনতার প্রস্তাব ভোটে গৃহীত হয়, তখনই প্রকৃত অর্থে আমেরিকার ১৩টি স্টেট ব্রিটেনের উপনিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে যায়। ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তাবটি ৭ জুন উত্থাপন করেন ভার্জিনিয়ার রিচার্ড হেনরি লি। স্বাধীনতার পক্ষে ভোটদানের পরই কংগ্রেস ডিক্লারেশন অব ইনডিপেন্ডেন্স রচনায় মনোনিবেশ করেন। এই ঘোষণা প্রণয়নের জন্য ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এর প্রধান হিসেবে মনোনীত হন রাজনীতিবিদ, লেখক, রাষ্ট্রনায়ক এবং আমেরিকার তৃতীয় প্রেসিডেন্ট (১৮০১-০৯) থমাস জেফারসন, চূড়ান্তভাবে যা গৃহীত হয় ৪ জুলাই। আর সে কারণে ৪ জুলাই আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে।
আমেরিকার সংবিধানে শুরু থেকে আজ অবধি মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা, কথা বলা, লেখার, চিন্তার অধিকার সংরক্ষণে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আসা হচ্ছে। এছাড়া বিশ্বের যেকোনো অঞ্চলের নির্যাতিত মানুষের নিরাপদ এবং নতুন স্বপ্ন রচনার আশ্রয়দাতা হিসেবে আমেরিকার দায়িত্বকে মেনে নেওয়া হয়েছে। জর্জ ওয়াশিংটন থেকে আমেরিকার সংবিধানের সেসব মহান শর্তগুলোর প্রতি সম্মান দেখিয়ে এলেও বর্তমান ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই অঙ্গীকার থেকে দূরে সরে আসার জন্য হেন চেষ্টা নেই, যা তিনি করছেন না। আমেরিকার ইতিহাস, ঐতিহ্য, মহানুভবতা সব জলাঞ্জলি দিয়ে, নিজের ইমিগ্র্যান্ট ব্যাকগ্রাউন্ড ভুলে গিয়ে তিনি আমেরিকা থেকে যেনতেন প্রকারে ইমিগ্র্যান্ট বিতাড়নের ব্রত গ্রহণ করেছেন। সেই কাজটি তিনি ক্ষমতায় বসার দিন থেকেই একনিষ্ঠ মনে করে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন, তা করতে একটুও দ্বিধা করছেন না। প্রশাসনে যাকে বসানোর বসাচ্ছেন, যাকে বিদায় দেওয়ার বিদায় দিচ্ছেন। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তুলে ইমিগ্র্যান্ট ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। এ-যাবৎ তার সব প্রচেষ্টাই ইমিগ্র্যান্ট-বিরোধী।