

ডেস্ক রিপোর্ট
ভারত, চীন, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত লিপস্টিক পণ্য বাজারে বিক্রি হচ্ছে কয়েকগুণ বাড়তি দামে। দেশে প্রসাধনী সামগ্রী ও লিপস্টিক আমদানি এর বিক্রির ওপর নেই কোনো কার্যকর নজরদারি। তাই চলছে ভেজাল ও অতিমূল্যায়িত প্রসাধনীর রমরমা ব্যবসা। এ ধরনের অনিয়মে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছেন না।
জানা গেছে, এসব আমদানিকৃত পণ্যের প্রকৃত মূল্য যেখানে ৫০ থেকে ১০০ টাকা, সেখানে ঢাকার গুলশানসহ অভিজাত এলাকার ভোক্তারা কিনছেন ১ থেকে ৫ হাজার টাকায়। অথচ এসব পণ্যের বৈধ আমদানির কোনো রেকর্ড নেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে। তবুও বাজারে দিব্যি বিক্রি চলছে।
দেশীয় কসমেটিকস শিল্প উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডিসহ রাজধানীর বিভিন্ন কসমেটিকস দোকানে বিদেশি নাম ব্যবহার করে বিক্রি হওয়া পণ্যগুলোর প্রায় সবই অবৈধভাবে আমদানি করা। জানা গেছে, ৫০ টাকার পণ্য ১০–১৫ গুণ বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গুলশানের একটি কসমেটিকস দোকানে গিয়ে দেখা যায়, আমদানি করা হয়েছে মাত্র ২ কেজি লিপস্টিক ও অনুরূপ পণ্য। ঘোষিত দাম—মাত্র ৪০ মার্কিন ডলার।
প্রতিটি লিপস্টিকের গড় ওজন ৪ মিলি হলে, ১ কেজিতে পাওয়া যায় প্রায় ২৫০টি লিপস্টিক। আমদানি ব্যয় ও শুল্ক (১৫৭%) যুক্ত করে প্রতিটি লিপস্টিকের প্রকৃত দাম দাঁড়ায় সর্বোচ্চ ৫০ টাকা ১৬ পয়সা। অথচ একই পণ্য গুলশানের আউটলেটে বিক্রি হচ্ছে ৪,৭০০ টাকায়। অর্থাৎ, প্রতি পিস লিপস্টিক থেকে ভোক্তার কাছ থেকে অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে প্রায় ৪,৬৫০ টাকা—যা স্পষ্ট প্রতারণা।