লেখক: Nopur
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Manual5 Ad Code

সম্পাদকীয়:

আরাকান আর্মি সম্প্রতি রাখাইনে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। সামনের দিনগুলোতে কী হবে, সেটি না ভেবে বলা যায়, এটি রাখাইনের জনগণের জন্য বহু বছর ধরে প্রতীক্ষিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। ২৭১ কিলোমিটার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের মধ্যে মিয়ানমার অংশের পুরো এলাকা এখন আরাকান আর্মির দখলে।

মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ তাদের সীমান্ত পোস্টগুলো ফেলে পালিয়ে গেছে এবং সেসব পোস্ট এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। সীমান্তের দুপাশে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সীমান্তরক্ষীদের থাকার কথা এবং তারা সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও এ সংক্রান্ত কার্যক্রমে অভিজ্ঞ।

সীমান্ত দিয়ে মাদক, অস্ত্র, চোরাকারবার ও মানব পাচার বন্ধে সীমান্তরক্ষীরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং তারা আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।

Manual4 Ad Code

আরাকান আর্মির সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় তেমন কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এ অরক্ষিত সীমান্ত বাংলাদেশের নিরাপত্তায় চাপ ফেলছে। বাংলাদেশের পক্ষে বিজিবি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সীমান্তসংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে আরাকান আর্মিকে অবহিত করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনের সরবরাহ পথগুলো অবরোধ করে রাখার কারণে মিয়ানমারের বাকি অংশ থেকে রাখাইন রাজ্য সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।

এর ফলে রাখাইনের জনগণ সরবরাহসংক্রান্ত সমস্যায় রয়েছে। বর্তমানে ভারত থেকে চীন রাজ্যের পালেতোয়া হয়ে রাখাইনে ওষুধ ও জ্বালানি আসছে। পালেতোয়া আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকায় কিছুদিন আগে চীন ন্যাশনাল আর্মি এবং আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাতের সৃষ্টি হয়।

সে সময় ভারতে তাদের সমর্থকগোষ্ঠী ‘সেন্ট্রাল ইয়াং লাই অ্যাসোসিয়েশন’ চীন হয়ে রাখাইন রাজ্যের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয়; পরে উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনার পর আবারও তা চালু করা হয়। রাখাইন রাজ্যের জনগণের কাছে ওষুধ এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য এ পথেই আসে।

বাংলাদেশ থেকেও কিছু কিছু সামগ্রী এখন রাখাইনে যাচ্ছে। বর্তমানে রাখাইনের সঙ্গে প্রচলিত নিয়মে বাণিজ্য পরিচালনা সম্ভব না হলেও, বিকল্প উপায় বের করে বাণিজ্য চালিয়ে যেতে হবে।

Manual6 Ad Code

দুদেশের ব্যবসায়ীদের এজন্য উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে এ ধরনের পরিস্থিতিতে চীন, ভারত, থাইল্যান্ড তাদের বাণিজ্য চলমান রাখে ও সেখান থেকে লাভবান হয়।

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরাও এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যিক সম্পর্কোন্নয়নের মাধ্যমে লাভবান হতে পারে। মনে রাখতে হবে, যে কোনো সংকটে নানা ধরনের সুযোগও তৈরি হয়, সেগুলোকে দ্রুত কাজে লাগিয়ে সমস্যাকে সম্ভাবনায় পরিণত করতে হবে।

চলমান পরিস্থিতিতে রাখাইনের যে কোনো সমস্যা মোকাবিলায় কূটনৈতিকভাবে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি আরাকান আর্মির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতে হবে। স্বাভাবিক নিয়মে এটি সম্ভব না হলে ‘ট্র্যাক-১.৫’ ও ‘ট্র্যাক ২’ ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে এ কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

Manual6 Ad Code

বাংলাদেশের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ, তবে চীন, থাইল্যান্ড ও ভারত মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়, বাংলাদেশ এ দেশগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজস্ব সমস্যা সমাধান করতে পারে। অনেক সুযোগ থাকার পরও বাংলাদেশ মিয়ানমারের রাজনৈতিক দল, জনগণ ও সুশীল সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন ও উন্নয়ন চলমান রাখতে পারেনি।

এখন সময় এসেছে, এ সম্পর্কোন্নয়নে এগিয়ে আসার। দুদেশের জনগণের সঙ্গে সামনের দিনগুলোতে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করা একটি চ্যালেঞ্জ; আমাদের এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমানে আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের বেশিরভাগ অঞ্চলে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সামনের দিনগুলোতে আরাকানে তাদের উপস্থিতি ও অবস্থানকে মিয়ানমারে যে সরকারই আসুক, তাদের তা মেনে নিতেই হবে। ই

Manual3 Ad Code

উনাইটেড লীগ অব আরাকানকে বাদ দিয়ে সেখানে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। মিয়ানমারে দুই প্রতিবেশী চীন ও ভারত এ বাস্তবতা বুঝতে পেরেছে এবং তারা আরাকান আর্মির সঙ্গে রাখাইনে তাদের অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বার্থ নিশ্চিত করতে হলে সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে মিলে রোহিঙ্গাদেরও রাখাইন ও মিয়ানমারের জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে ও সম্পর্কোন্নয়নে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এর আগে এনইউজি রোহিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছিল।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code