

রফিকুল আলম,ধুনট (বগুড়া)
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় একটি হুইল চেয়ার পেয়ে প্রতিবন্ধী রিয়াদ বাবুর (১০) পরিবারে স্বস্তির সুবাতাস বইছে। অসহায় মা-বাবার আর্থিক সংকটের কারণে এতোদিন প্রাণের ধন ছেলেকে একটি হুইল চেয়ার কিনে দিতে পারেনি। রিয়াদের কষ্টের চিত্র তুলে ধরে শনিবার বাংলা নিউজ ইউএস ডট কম অনলাইন পত্রিকায় ধুনটে রিয়াদের ভরসা মায়ের কোল শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
সংবাদটি পড়ে মানবতার ফেরিওয়ালা খ্যাত আমরা ধুনটবাসী সংগঠনের সদস্যদের বিবেকে নাড়া দেয়। অত্র সংগঠনের অর্থায়নে তারা রিয়াদকে একটি হুইল চেয়ার কিনে দেন। রোববার দুপুরে হুইল চেয়ার পেয়ে প্রতিবন্ধী রিয়াদের মা-বাবার মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে উঠেছে। হুইল চেয়ারটি পাওয়ায় রিয়াদের মায়ের দায়িত্ব কিছুটা কমেছে। তবে পরিবারের আরো একটি দাবী, সেটা হলো রিয়াদের নামে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমরা ধুনটবাসীর পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধী রিয়াদ বাবু ও তার মা-বাবার বাড়িতে গিয়ে তাদের কাছে হুইল চেরয়ারটি বুঝে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ধুনট প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল আলম, আমরা ধুনটবাসী সংগঠনের উপদেষ্টা ফয়জুল করিম খালিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফিন বিল্লাহ্ বাদল, সদস্য এনামুল হক, সাদিকুল বাশার শিশির, আব্দুল্লাহ অন্তর, মেহেদী হাসান, সাব্বির আহম্মেদ, সোহেল রানা, বরকত উল্লাহ ও ফয়সাল হোসেন প্রমূখ।
রিয়াদ বাবু উপজেলার শ্যামগাঁতী গ্রামের দিনমজুর মোত্তালেব হোসেনের ছেলে। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে রিয়াদ মেঝ। জন্মের পর থেকেই রিয়াদ শারীরিক প্রতিবন্ধী। রিয়াদকে দেখে তার কষ্টটা বোঝা যায়। রিয়াদ দাঁড়াতে পারে না, হাঁটতেও পারে না। সারা দিন চেয়ারে বসে থাকতে তার খুব কষ্ট হয়। চলাচলের একমাত্র ভরসা মায়ের কোল। তাকে একটি হুইল চেয়ার কিনে দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই পরিবারটির।
এ বিষয়ে রিয়াদের মা বিলকিছ খাতুন জানান, বসতবাড়ি ছাড়া তাদের কোনো সম্পদ নেই। দীর্ঘদিন ধরে একটি হুইল চেয়ারের অভাবে সারাদিন তার ছেলেকে শুয়ে থাকতে হতো। এখন চেয়ার পেয়ে পুরো পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে উঠেছে। যারা এই হুইল চেয়ার প্রদান করেছেন ওই অসহায় পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিলকিছ খাতুন।