ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ল ব্রিটেন

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual6 Ad Code

সব জল্পনা-কল্পনার পালা শেষ। দীর্ঘ প্রায় ৩ বছরের টানাপোড়েন শেষে শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১১টায় (বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা) ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বিদায় নিল যুক্তরাজ্য।

দীর্ঘ ৪৭ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে ঐতিহাসিক এ বিচ্ছেদ ঘটল। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ‘নতুন ভোর’র প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শুক্রবার দেশবাসীর উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এ টোরি নেতা বলেন, ব্রেক্সিট কোনো শেষ নয়, বরং নতুন কিছুর শুরু। খবর বিবিসি ও এএফপির।

Manual4 Ad Code

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ জোটের সূচনা হয়েছিল। ধীরে ধীরে তা বিশ্বের বৃহত্তম আঞ্চলিক জোট হিসেবে আবির্ভূত হয়।

ইইউ জোটভুক্ত ২৮টি দেশের বাণিজ্য, কৃষি, শিল্প, অভিবাসনসহ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অনেক কিছুই ইইউর একক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হয়। ১৯৭৩ সালে জোটে যোগ দিয়েছিল যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যের বিদায় ইইউ জোটের ইতিহাসে প্রথম কোনো ভাঙনের ঘটনা। এখন এ জোটের সদস্য দাঁড়াল ২৭।

লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন ব্রেক্সিটের প্রাক্কালে দেয়া এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাজ্য যেন ‘অন্তর্মুখী’ না হয়ে ‘সত্যিকারের আন্তর্জাতিকতাবাদী, বৈচিত্র্যময় এবং বহির্মুখী’ দেশে পরিণত হয় তা নিশ্চিত করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ইইউ থেকে যুক্তরাজ্য বেরিয়ে গেলেও দু’পক্ষের মধ্যকার এতদিনের বেশিরভাগ চুক্তিই আরও প্রায় ১১ মাস বহাল থাকবে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘রূপান্তর কাল’ চলবে। এ সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্য ও ইইউ তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা ঠিক করে নেবে।

এর ভেতরই যুক্তরাজ্য জোটটির সঙ্গে একটি স্থায়ী অবাধ বাণিজ্য চুক্তিতে উপনীত হওয়ার চেষ্টা চালাবে। নতুন চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ব্রিটেন ইইউর আগের আইনগুলোই বহাল থাকবে।

এ বিচ্ছেদ কার্যকরের পরপরই ইইউ পার্লামেন্টের ৭৩ জন ব্রিটিশ সদস্য তাদের আসন হারালেন। ব্রিটেনকে ছাড়তে হবে ইইউর সব রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা। পাসপোর্টের রক্তবর্ণের রঙ বদলে দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় পর নীল পাসপোর্টে ফিরবে যুক্তরাজ্য।

Manual3 Ad Code

ইইউ জোটকে ‘আবেগঘন বিদায়’ জানাতে শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকাল ৩টায় হোয়াইটহলের সামনে ব্রেক্সিটবিরোধীরা কর্মসূচি পালন করেন। পরে ব্রেক্সিটপন্থীরা পার্লামেন্ট চত্বরে একত্রিত হয়ে ‘বন্ধনমুক্তি’ উদযাপন করেন।

ডাউনিং স্ট্রিটের একটি ঘড়িতে চলে বিচ্ছেদের ক্ষণগণনা। হোয়াইটহলের আশপাশের ভবনগুলোতে ছিল আলোকসজ্জা। পার্লামেন্ট চত্বরের প্রতিটি খাম্বায় উড়ে ইউনিয়ন জ্যাক। যুক্তরাজ্যের ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়াকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রকাশ করা হয় ৫০ পয়সার স্মারক কয়েন।

Manual8 Ad Code

২০১৬ সালের গণভোটে ৫২ শতাংশ জনগণ ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দেয়ার পর ব্রিটিশ পার্লামেন্ট প্রথমে ২০১৯ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে বিচ্ছেদের তারিখ ঠিক করেছিল। ওই গণভোটের পর পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন।

Manual5 Ad Code

প্রধানমন্ত্রী হন কনজারভেটিভ দলেরই তেরেসা মে। তার সঙ্গে ইইউর চুক্তি পার্লামেন্টে কয়েক দফা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ব্রেক্সিট কার্যকরের সময়সীমা বাড়ানো হয়। মে দায়িত্ব ছেড়ে দিলে জনসন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী এ টোরি নেতা কয়েক মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন ডাকেন। ডিসেম্বরের ভোটে বিপুল জনসমর্থন লাভের পর তার সঙ্গে ইইউর চুক্তিটিও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code