শাহজাদপুরে শুষ্ক মৌসুমে যমুনা নদীতে ভাঙ্গণ

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

শাহজাদপুর ( সিরাজগঞ্জ) ঃ
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শুষ্ক মৌসুমে যমুনা নদীতে ব্যাপক ভাঙ্গণ শুরু হয়েছে। এতে উপজেলার কৈজুরি, খুকনী ও জালালপুর এই ৩টি ইউনিয়নের ১০ গ্রাম ভাঙ্গণের কবলে পড়ে ক্রমশঃ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। ফলে এ সব গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ করোনা ভাইরাসের আতংকের চেয়ে বাড়িঘর সহায় সম্বল হারানোর আতংকেই বেশি দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
এলাকায় খোজ নিয়ে জানা যায়,গত বছরের ভাঙ্গণে এ সব গ্রামের কমপক্ষে ৪ শতাধিক বাড়িঘর,২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,১টি চিকিৎসা কেন্দ্র,২টি মসজিদ,২টি ঈদগাহ মাঠ, ৫০টি তাঁত কারখানা, ৪০০ বিঘা আবাদী জমি,৩ কিরোমিটার কাচা সড়ক, ১টি মাদ্রাসা, ১টি কবরস্থান, ১টি শ্মশান ঘাট, ১টি মন্দর ও কয়েক শতাধিক গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া গত ১ সপ্তাহে এ ১০ গ্রামের অন্তত ২০টি বাড়িঘর,২০০ বিঘা ফসলি জমি ও শতাধিক গাছপালা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এই ভাঙ্গণ কবলিত গ্রাম গুলির মধ্যে রয়েছে, ব্রাহ্মণগ্রাম, আরকান্দি, পাকুরতলা, পুঁটিপাড়া, বাঐখোলা, ঘাটাবাড়ি, ভেকা, জালালপুর, চিলাপাড়া ও হাট পাচিল। এ সব গ্রামের প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকার মানুষ এই ভাঙ্গণের তীব্রতায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে বেশকিছু ঘরবাড়ি,তাঁত কারখানা ও ফসলি জমি নদী ভাঙ্গণে বিলিন হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নূরু মির্জা,আমিরুল ইসলাম,আব্দুল হালিম,আব্দুল হামিদ আলী,এমদাদ আলী,ইউসুফ আলী,এমদাদুল হক মিলন,আহমেদ,সাব্বির হোসেন,সিয়াম হোসেন,পরমেশ^র সরকারসহ আরো অনেকেই জানান, গত বছরের বন্যায় এ এলাকার প্রায় ৪ শতাধিক বাড়িঘর যমুনা নদীর ভাঙ্গণে বিলীন হয়েছে। এতে প্রায় ৪ সহা¯্রাধিক মানুষ গৃহহীন হয়েছে। এ বছর সবেমাত্র নদীতে জোয়ার শুরু হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর এখনও ৩ মাস দেরি আছে। অথচ এরই মধ্যে নদীতে ভাঙ্গণ শুরু হয়েছে। ফলে তারা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। আমরা করোনা ভাইরাসের আতংকের চেয়ে বাড়িঘর হারানোর আতংকে বেশি দিশেহারা হয়ে পড়েছি। তারা আরো বলেন, বাঁধ নির্মাণের দাবীতে গত ৪ বছর ধরে মিছিল মিটিং ও মানববন্ধন করেও কোন কাজ হচ্ছে না। ফলে আমরা এখন প্রশাসনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছি।
এ বিষয়ে খুকনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁদ মিয়া, জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী সুলতান মাহমুদ ও কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীতে এই অসময়ে ভাঙ্গণ নিজ চোখে না দেখলে বিশ^াস করা যায় না। এখানে এখনই এ পরিমাণ ভাঙ্গণ শুরু হয়েছে যে, এখানকার মানুষ করোনা ভাইরাসের চেয়ে নদী ভাঙ্গণে বাড়িঘর হারানোর আতংকেই বেশি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এবারের বর্ষায় এ গ্রাম গুলি মানচিত্র থেকে চিরতরে মুছে যাবে। স্থায়ী তীর সংরক্ষরণ বাঁধ নির্মাণ কাজ কবে শুরু হবে,সেই অপেক্ষায় থাকলে এসব গ্রাম সম্পূর্নরূপে অস্তিত্ব হারাবে। এই ভাঙ্গণ রোধে এখনই দ্রুত কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তারা আরো বলেন,গত বছর এমন সময় রাজশাহী পাউবো’র উত্তর-পুর্বাঞ্চলীয় প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, বগুড়া পওর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তারিক আব্দুল্লাহ,সিরাজগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম এ ভাঙ্গণ এলাকা পরিদর্শন শেষে রাজশাহী পাউবোর্ডের উত্তর-পুর্বাঞ্চলীয় প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী স্থানীয় বাসিন্দাদের বলেন, ব্রাহ্মণ গ্রামের নূরু মির্জার বাড়ি হতে পাচিল হয়ে চিলাপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৮শ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনা নদীর সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ীভাবে তীর সংরক্ষণ বাঁধ ও ১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের একটি প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে। আশা করছি তা দ্রুত সময়ের মধ্যে এ প্রকল্প অনুমোদন হয়ে কাজ শুরু হবে। তার এ আশ^াসে আমরা আশায় বুক বেধে ছিলাম। কিন্তু এক বছর পার হলেও সে কাজ এখনও শুরু হয়নি। ফলে আমরা হতাশ হয়ে পড়েছি।
এ বিষয়ে পাচিল গ্রামের অধিবাসি ঢাকার মহাখালি বক্ষব্যাধি হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত বক্ষব্যাধি ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ সার্জন এবং ইউনাইটেড হাসপাতালের কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. শামছুল আলম বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই যমুনা নদীর এ ভাঙ্গণ রোধ করা না হলে এ বছর শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহ্যবাহী পাচিল গ্রাম সহ এখানকার ১০টি গ্রাম যমুনার ভাঙ্গণে বিলিন হয়ে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। এতে এ সব গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ জমিজমা ও বাড়িঘর সহ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে। তাই আসন্ন বর্ষার আগেই এই ভাঙ্গণ রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোরদাবী যানাচ্ছি।

Manual3 Ad Code

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা বলেন,অচিরেই এখানকার ভাঙ্গণ রোধে বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু হবে। এটি হলে তখন আর এ সমস্যা থাকবে না।

Manual5 Ad Code

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানিউন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন,এখানকার ভাঙ্গণ রোধে প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রহ্মণগ্রাম হতে হাটপাচিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকায় তীরসংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ,চর ড্রেজিং ও নদী শাসন রয়েছে। এ প্রস্তাবটি প্রি-একনেকে খসড়া আকারে অনুমোদনও হয়েছে। এখন একনেকে পাশ হলেই পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ শুরু করা হবে। এ ছাড়া এ বছর বর্ষার আগে ভাঙ্গণ ঠেকাতে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বালুর বস্তা ফেলের কাজ শুরু করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code