

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) ঃ
শখের বসে পরিত্যক্ত জমিতে চিরিরবন্দরে গরম মসলা খ্যাত সাদা এলাচের চাষ শুরু করছেন শামসুল হক। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া এলাচ চাষ উপযোগী বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই এলাকায় এলাচ চাষ হলে উৎপাদিত এলাচ নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে দেশের চাহিদাও মিটানো সম্ভব হবে। সরকার বাণিজ্যিকভাবে এলাচ চাষে আগ্রহীদের আর্থিক সহযোগিতা দিলে লাভজনক এই এলাচ চাষ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও বিশেষ অবদান রাখবে। হবে অনেকের কর্মসংস্থান।
শামসুল হক চিরিরবন্দর উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের মাঝাপাড়ায় অন্তত দেড় হাজার সাদা এলাচের গাছ লাগিয়েছেন। এবার গাছে ফুল এসেছে। এটাতে ভালো ফলন পেলে বড়পরিসরে এই সাদা এলাচ চাষ করবেন বলে জানান তিনি। এলাচ চাষে আলাদা জমির প্রয়োজন হয় না। অন্য গাছের ছায়ার নিচে এলাচের ভালো ফলন হয়। যে কেউ বাড়ির আঙ্গিনা অথবা ফলদ গাছের বাগানে এলাচ চাষ করতে পারেন। এলাচগুলো সাধারণত গাছের গোড়ায় মাটি সংলগ্নে গুচ্ছাকারে জন্মে। ভেজা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় ছায়ার মধ্যে এই গাছ ভালো হয়। সাধারণত রৌদ্র-ছায়া যুক্ত স্থানে ফলন ভালো হয় এলাচের। এটি মূলত আদা জাতীয় গাছ এবং গাছের পাতাগুলো একটু বেশি লম্বা ও চওড়া। এই গাছের গোড়ার দিক থেকে লম্বা ফুল বের হয়। এই ফুলের ফলই হচ্ছে এলাচ। ফুলগুলো দেখতে কালচে লাল রংয়ের হয়। আষাঢ় মাসে এলাচের ফুল আসে এবং ভাদ্র-আশ্বিন মাসের শেষের দিকে এলাচ পেকে থাকে। তখন বাগান থেকে কাঁচা এলাচ সংগ্রহ করে রোদে শুকাতে হয়। উৎপাদন বেশি হলে ড্রায়ার মেশিনের সাহায্যে শুকানো যেতে পারে। বর্ষাকালে হয়ে থাকে বলে এলাচ না শুকিয়ে ঘরে রাখলে পচন ধরার আশঙ্কা থাকে।
চাষী শামসুল হক জানান, তিন বছর আগে ভারত থেকে এলাচ চারা এনে বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত জমিতে রোপণ করেন। গাছ খুব ভালো হয়েছে। কিন্তু ফলন হচ্ছিল না। পরে কৃষি বিভাগের পরামর্শে গাছে তিনবার ব্রর্ণ স্প্রে করেন। বর্তমানে এলাচ গাছে ফুল এসেছে। এটাতে ভালো ফলন পেলে বৃহৎপরিসরে এই সাদা এলাচ চাষ করবেন তিনি। তার মতে, এলাচ চাষে সমস্যা নেই বললেই চলে। তিনি আরো বলেন-চা, পোলাও, মাংস, মিষ্টান্ন কিংবা বাঙালির রান্নায় সুগন্ধ ছড়াতে এলাচ অন্যতম প্রধান মসলা। এ ছাড়াও এলাচে অনেক ঔষুধি গুণ রয়েছে। দেশের খুচরা বাজারে প্রতিকেজি সাদা এলাচের দাম ৫ হাজার টাকার মতো।