

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট)
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও বর্তমান করোনা পরিস্থিতে শ্রমিক সংকট ও আর্থিক লোকশানের আতঙ্কে দিনগুনছেন স্থানীয় কৃষকরা। তারা বলছেন, এবার শ্রমিক সংকট আর প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও ধানের দাম নিয়ে শঙ্কিত কৃষকরা।
অপরদিকে রয়েছে কালবৈশাখীর ভয়। সঠিক সময়ে ধান কাটতে না পারলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তারা। তাই ধান পেকে আসার সাথে সাথে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন বোরো চাষিরা।
উপজেলার কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ১০ হাজার ৩ শত হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এবার উপজেলার ১০ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। এ বছর মাজরা পোকার আক্রমন বেশি। তাছাড়া ব্লাস্ট রোগেরও আক্রমনের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান আবহাওয়া ব্লাস্ট রোগের জন্য অনুকুল থাকায় নার্টিভো, ট্রুপার, ব্লাস্টিন জাতীয় বালাইনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং সর্বোপরি বোরো ধানের অবস্থা ভাল বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিস। শ্রমিকরা যাতে নির্বিঘেœ মাঠে যেতে পারে সে জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষকরা জানান, এ বছর বোরো মৌসুমে ধান অনেক ভালো হয়েছে। তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যেই ধান কাটা মারাই শুরু হবে পুরোদমে। কিন্তু দুশ্চিন্তা ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া নিয়ে। প্রতি বছর উত্তরের জেলাগুলো থেকে ধান কাটার শ্রমিক আসতো। বর্তমান করোনার কারণে এবার শ্রমিক আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে সরকার বলছেন ধান কাটার শ্রমিক করোনা পরিস্থিতির আওতার বাহিরে থাকবে। যেহেতু ইতোমধ্যেই উত্তরের জেলাগুলোতে করোনা সংক্রমিত হয়েছে সেহেতু তাদের আসাটাও কতটা নিরাপদ হবে সে বিষয়ে রয়েছে উৎকন্ঠা। তারপরও স্বাস্থ্যগত বিষয়ে রয়েছে দারুন ঝুঁকি।
উপজেলার সোনামুখি ইউনিয়নের কৃষক সাইদুল বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ধানের ফলন খুব ভাল হয়েছে। যেসব শ্রমিক প্রতি বছর আমার ধান কাটা মারাই করত তারা এবছর আসবেন না বলে জানিয়েছেন। তাই ধান কাটা নিয়ে দারুন দুঃশ্চিন্তায় দিন পার করছি। তাছাড়া ধানের দাম নিয়েও একটা উৎকন্ঠা রয়েছে’।
উপজেলার রোয়ার গ্রামের কৃষক আবু কালাম বলেন, ‘জমিতে ভালো ধান হলেও বর্তমান চলমান করোনা পরিস্থিতি ও কালবৈশাখী ঝড় এবং শিলাবৃষ্টি নিয়ে আমি শঙ্কিত। যে কোন সময় ঝড় কিংবা শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত ধান কেটে ঘরে তুলতে না পারছি ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দুশ্চিন্তা শেষ হবে না’।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল-আমিন জানান, বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষকদের নিয়ে চিন্তা করেন প্রতিনিয়ত। তিনি ইতোমধ্যেই ঘোষনা করেছেন বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ধান কাটার শ্রমিকদের যেতে দিতে হবে এবং তাদের সহযোগীতা করতে হবে। এরই ধারাবাহিকতায় ধান কাটা শ্রমিকরা যাতে নির্বিঘেœ মাঠে যেতে পারে সে জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।