

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) ঃ
করোনা পরিস্থিতিতে গৃহবন্দী হওয়া কৃষকরা ব্যস্ত সমায় কাটাচ্ছে মুগডাল সংগ্রহে।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মুগডালের বাম্পার ফলন হয়েছে এবার। তবে মধ্যস্বত্বভোগী আড়তদারদের সিন্ডিকেটের কারণে ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা। উপজেলার চরখালী,গোলখালী,কিসমত ছৈলাবুনিয়া,মজিদবাড়িয়া, কাকড়াবুনিয়া, গাজীপুরা, কাঠালতলীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে জুড়ে মুগ ডালের বাম্পার ফলন। কাঙ্ক্ষিত ফলন দেখে কৃষকদের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি ফোয়ারা। সকাল-সন্ধ্যা পুরুষ-নারী-শিশু মিলে ডাল সংগ্রহ করছে তারা। বাম্পার ফলনের কারনে ক্ষেত মালিক শ্রমিক দিয়ে ৬ থেকে ৭ ভাগা করে ডাল তুলাচ্ছেন। এতে করে স্থানীয় শ্রমিকরাও ডাল তুলে লাভবান হচ্ছে। কিন্তু বাম্পার ফলন হলেও করনোর কারনে বিক্রি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে মুগডাল আবাদ করেছেন কৃষকরা। মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের মনোহরখালী গ্রামের কৃষক মোঃ মিঠু হাওলাদার জানান, এবছর বছর ২ একর জমিতে মুগডাল দিয়েছি। ফলন খুবই ভালো হয়েছে। তবে এ অবস্থায় ডালের সঠিক দাম পাবো কী না তাই নিয়ে চিন্তায় আছি। তিনি আরো বলেন, আর ডাল তুলে ঘরে উঠাতে পারলে এবং ন্যায্যমূল্য পেলে খরচের দ্বিগুন লাভ করতে পারবো। দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের পশ্চিম সুবিদখালী গ্রামের কৃষক মোঃ রুস্তুম আলী জানান, এবছর তার জমিতে মুগডালের ফলন ভালো হয়েছে। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, জমিতে ডালের ফলনের কারণে হাঁটা দায় হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষক জমিতে ডাল তুলছে। কৃষণিরা ডাল তুলে ঘরে নিয়ে যাচ্ছে। অধিক ফলন পাওয়ার আশায় কৃষকরা মুগডাল চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরাফাত হোসেন জানান, চলতি বছরে মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড মুগ ডাল চাষ হয়েছে। অপরদিকে বেশি ফলন পাওয়ার আশায় স্থানীয় জাতের সোনামুখী মুগডাল এখন চাষই করা হচ্ছেনা। চৈত্রের মাঝামাঝি সময় থেকে জৈষ্ঠ্যের প্রথম দিক পর্যন্ত মুগডাল তোলা হয়। মির্জাগঞ্জের বাজারে আশা পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত শতশত মন মুগডাল নিয়ে কুষকরা প্রতি হাটের দিন হাজির হবেন। পাইকাররা স্থানীয় আরৎদারদের মাধ্যমে ওই ডাল ক্রয় করে থাকেন। তবে এবারে মুগডাল রোপনের সময়ে বৃষ্টি ও ঘূর্নিঝড় হওয়াতে স্থানীয় কৃষকরা সঠিক সময়ে বীজ বপন করতে পারেনি। তারপরেও উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগীতা ও কৃষকদের সচেতনাতায় এবারে মুগ ডালের বাম্পার ফলন হয়েছে।