

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) :
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন খাপড়াভাঙ্গা নদীর উপর অবস্থিত লক্ষীবাজার আয়রণ ব্রীজটি জোয়ারের পানির চাপে ভেঙ্গে পড়ে দুই ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে । গত বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সেতুটি ভেঙ্গে খালে উপরে দূমরে মুচরে পরে যায়। এতে কেউ হতাহত না হলেও খাপড়াভাঙ্গা ও লতাচাপলী ইউনিয়নের অন্ততঃ ১৫টি গ্রামের প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষের অভ্যন্তরীন যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে গেছে নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থাও। সেতু ভেঙ্গে পড়ায় করোনা পরবর্তীতে ¯কুল কলেজ সহ কৃষকদের পন্য পরিবহনে চরম দূর্ভোগে পরবে বলে স্থাণীয়রা জানান। এই দুই ইউনিয়নের মানুষের কথা মাথায় রেখে জরুরী যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে সেতুর স্থানে একটি খেয়ার ব্যবস্থা করা হবে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান। লতাচাপলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আনসার উদ্দিন মোল্লা জানান, ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরে বরকতিয়া ও লক্ষীবাজারের মাঝ দিয়ে বহমান খাপড়াভাঙ্গা নদীর উপর এ আয়রণ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। গত প্রায় দুই বছর ধরে সেতুটির বরকতিয়া অংশের স্লাবগুলো ভেঙ্গে যায়। লোহার কাঠামোতে মরিচা ধরে ভেঙ্গে একদিকে কাঁত হয়ে যায়। সেতু ভেঙ্গে দূর্ঘটনা এড়াতে সেতুর লক্ষীবাজার অংশের কাঠের বেড়া ও সেতুর উপর গাছ রেখে সকল যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হলেও ঝূঁকি নিয়ে ধুলাসার, ডালবুগঞ্জ ও মহিপুর ইউনিয়নের মানুষ সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করতো। এ সেতু ভেঙ্গে যাওয়ায় ফাতেমা হাই মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীসহ গ্রামবাসীরা জরুরী পণ্য ক্রয় বিক্রয়ে এখন দূর্ভোগে পড়েছে। লক্ষী বাজারের ব্যবসায়ী রবীন কর্মকার জানান, বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে সেতুটি ভেঙ্গে নদীতে পড়ে যায়। এতে সেতুর ভাঙ্গা অংশ নদীতে পড়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় নৌ-যোগাযোগও। এ নদী দিয়ে আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরে শত শত মাছধরা ট্রলার সহ পন্যবাহী নৌযান চলাচল করে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো. শহিদুল হক জানান, এই মুহুর্তে যোগাযোগ চালু রাখতে সেতুর পাশে একটি খেয়া নৌকা বসানো হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে সেতুটি ভেঙ্গে ওই স্থানে নতুন একটি সেতু নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হবে।