

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরকার বিরোধী পোস্ট দেয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর ও লেখক মুশতাক আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার রাতে কিশোরকে রাজধানীর কাকরাইল ও মুশতাককে লালমাটিয়া নিজ নিজ বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে র্যাব-৩ এর একটি দল তাদের রমনা থানায় হস্তান্তর করেন। পুলিশ তাদের দুইজনকে আদালতে হাজির করলে আদালত তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ করেন। এছাড়াও রাষ্ট্রচিন্তা নামে একটি সংগঠনের সংগঠক দিদার ভুঁইয়াকে র্যাব নামে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল পর্যন্ত তার কোন হদিশ মেলেনি।
আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, কার্টুনিস্ট কিশোর তার আমি কিশোর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেশের করোনা ভাইরাস নিয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনামূলক কার্টুন-পোস্টার পোস্ট করতেন। আর লেখক মুশতাক তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কিশোরের সেসব পোস্টের কয়েকটি অংশ শেয়ার করেছিলেন। বিষয়টি ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম সেলের নজরে আসে।
পরে পুলিশ বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে রমনা থানায় কিশোর ও মুসতাকসহ ১১ জনকে আসামি করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় র্যাব-৩ এর একটি দল কাকরাইল এলাকা থেকে কিশোর ও মুশতাককে লালমাটিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই মামলায় আরও ১০-১২ জন আসামি রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম মানবজমিনকে জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাদের দুইজনকে র্যাব রমনা থানায় হস্তান্তর করে।
এদিকে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রমনা থানার এসআই জামশেদুল ইসলাম গতকাল দুপুরে তাদের দুইজনকে ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদা বেগমের আদালতে হাজির করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের কারাগারে আটক রাখার জন্য আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের দুইজনের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিকে, র্যাব পরিচয়ে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার নিজের অফিস থেকে রাষ্ট্রচিন্তা নামে একটি সংগঠনের অন্যতম সংগঠক দিদার ভুঁইয়াকে তুলে নেয়ার অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যার সময় সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের র্যাবের লোক বলে দিদার ভুঁইয়ার অফিসে যায়। অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিরা দিদার ভুঁইয়াকে নিয়ে যায়। একইসঙ্গে তার অফিসের দুটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ এবং একটি মোবাইলও নিয়ে যায়। তবে তাকে আটকের বিষয়ে র্যাব-১ এর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দিদার ভুঁইয়ার বোন জামাই জাকির চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, রাজধানীর উত্তর বাড্ডার হল্যান্ড সেন্টারের পেছনে একটি ভবনের তৃতীয় তলায় থাকেন দিদার ভুঁইয়া। ওই ভবনের ৬ তলায় অ্যাবাক টেকনোলজি নামে তার একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দিদার সামাজিক ফেসবুকে সরকারের নানা কাজের সমালোচনা করে পোস্ট দিতেন। একারণে তাকে তুলে নেয়া হতে পারে। #