বানিয়াচং বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই – BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, সন্ধ্যা ৭:৫৪, ৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ



 

বানিয়াচং বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই

প্রকাশিত মে ১০, ২০২০
বানিয়াচং বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই

Manual2 Ad Code

 

বানিয়াচং  (হবিগঞ্জ) :

বানিয়াচং  হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু ধানের দাম কম থাকায় কৃষকদের মুখে হাসি নেই, বরং তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

Manual1 Ad Code

বানিয়াচং কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর বানিয়াচংয়ে ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লক্ষ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। বোরো চাষাবাদকালীন সময়ে ধানক্ষেতে কোনো ধরনের পোকামাকড়ের আক্রমণ হয়নি। তাছাড়া এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা ধান তুলতে পারছেন। বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড ধানের পাশাপাশি চাষ করা হয়েছে স্থানীয় জাতের ধানও। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও ধানের ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

কৃষকরা বলেন, ‘বর্তমানে ১ মণ ধানের দাম ৫০০-৫৫০ টাকা, অথচ এই ১ মণ ধান উৎপাদন করতে কৃষকদের খরচই হয়েছে ৬০০-৬৫০ টাকা।

সদর উপজেলার কৃষক রেজোয়ান নওশাদ বলেন, ‘আমি কম দাম দেখে আমার ধান বিক্রি করিনি। দাম বেড়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমি অপেক্ষা করবো।’

প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটার আগেই কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধানের দাম মন প্রতি অন্তত ৯০০-১০০০ টাকা না হলে সকল পরিশ্রমই বৃথা যাবে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কৃষকরা। তাদের দাবি, প্রতি মণ ধানের দামে ৯০০-১০০০ টাকায় দাম বাড়াতে হবে। যদিও সরকার ২৮ টাকা কেজি দরে ধান ক্রয়ের ঘোষণা দিয়েছে, তবে খাদ্য বিভাগ এখন পর্যন্ত ধান ক্রয় শুরু করেনি।

Manual5 Ad Code

বানিয়াচংয়ের বাম্পার ফলন উৎপাদনকারী কৃষক দেওয়ান শোয়েব রাজা বলেন, তিনি ক্ষতির হিসেব করছেন। লাভ না হলে তার পক্ষে বোরো ধানের চাষ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।

কৃষক ফরিদ, আনোয়ার, আরজু মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ১৮ থেকে ২০ মণ ধান পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ফলন ভালো হলেও তাদের কোনও লাভ হচ্ছে না। কারণ ধানের দাম নেই। বীজতলা থেকে শুরু করে, ধান লাগানো, সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার, কীটনাশক প্রয়োগ, পানিসহ ধান কাটা মাড়াই পর্যন্ত এক মণ ধানে কৃষকের উৎপাদন খরচ হয়েছে ৬০০-৬৫০ টাকার মতো। বর্তমানে প্রতি মণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে প্রকারভেদে ৫০০-৫৫০ টাকা দরে।  এতে করে প্রতি মণ ধানে এক থেকে থেকে দেড়শ’ টাকার মতো লোকশান গুনতে হচ্ছে তাদের।

তারা আরও জানান, সরকার এবার প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা দরে কেনার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কিনছে না। সরকার যদি ধান সময়মত কিনতো তাহলে কৃষকরা ধানের দাম পেতো, লাভবান হতে পারতো।

বানিয়াচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ দুলাল উদ্দিন বলেন, ২৬ টাকা কেজি দরে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। লটারির কাজ চলছে এখন। আশা করছি দুই একদিনের মধ্যেই সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, বানিয়াচং থেকে এবছর মণ প্রতি ১০৪০ টাকা দরে সরকার ধান কিনবে ৪ হাজার ৭১৬ মেট্রিক টন। এই সুবিধা ভোগ করবেন বানিয়াচংয়ের প্রায় ১৬ হাজার ২শ’ জন কৃষক।

 

Manual7 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code