২৫শ’ টাকার নগদ সাহায্য তালিকায় একই মোবাইল নম্বর ২০০ বার!

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual8 Ad Code

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় করোনাভাইরাস মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্তদের আড়াই হাজার টাকা সহায়তা কার্যক্রমে উপকারভোগীদের তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। সাড়ে ছয় হাজার পরিবারের এই তালিকায় একই মোবাইল নাম্বার ব্যবহার হয়েছে  দুইশ’ বার। অভিযোগ ওঠেছে তালিকায় নাম রয়েছে অনেক বিত্তশালীর এবং জনপ্রতিনিধির আত্মীয়-স্বজনের নামও।

 

Manual8 Ad Code

এই অনিয়মের কারণে অনেক অস্বচ্ছলের প্রণোদনা পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। জাতির সংকটময় মুহূর্তে বিপাকে পড়া মানুষদের তালিকায় এই অনিয়ম অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করছেন সচেতন মহল। এ নিয়ে জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। উপকারভোগীরাও পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।

 

Manual4 Ad Code

জানা যায়, লাখাই উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ছয় হাজার ৭২০টি পরিবার পাচ্ছে নগদ আড়াই হাজার করে সরকারি অর্থ সহায়তা। এর মধ্যে লাখাই ইউনিয়নে  এক হাজার ১৯৪ জন, মোড়াকরি  এক হাজার ১১৩,  মুড়িয়াউক  এক হাজার ১৭৬, বামৈ  এক হাজার ২৪৬, করাব  এক হাজার ৬ ও বুল্লা ইউনিয়নে রয়েছেন ৯৮৫ জন। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের নিকট খসড়া তালিকা জমা দিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা।

তালিকা পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মুড়িয়াউক ইউনিয়নে  চারটি মোবাইল নম্বর ব্যবহৃত হয়েছে ৩০৬ জনের নামের সাথে। আর এই নাম্বারগুলো পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মলাইয়ের ঘনিষ্টজনদের। এছাড়া তালিকায় যুক্ত হয়েছে অনেক বিত্তশালী ও জনপ্রতিনিধিদের আত্মীয়-স্বজনের নাম। রয়েছেন স্বামী-স্ত্রীসহ এক পরিবারের একাধিক সদস্যও। একটি ওয়ার্ডে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বসবাস না থাকলেও লেখা হয়েছে তাদের নাম। অসংখ্যবার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারগুলো হলো, ০১৯৪৪৬০৫১৯৩, ০১৭৪৪১৪৯২৩৪, ০১৭৮৬৩৭৪৩৯১ ও ০১৭৬৬৩৮০২৮৪। এছাড়া আরও ৩০টি নাম্বর ব্যবহার করা হয়েছে ১০ থেকে বারো জনের নামের পেছনে।

শুধু মুড়িয়াউকই নয়; উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নেই এ ধরনের ভুল হয়েছে এবং সর্বোচ্চ ২০০ বার একেকটি মোবাইল নম্বর ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসনে কর্মরত এক কর্মচারী। যা ভুলবশত হয়েছে এবং শিগগিরই এগুলো সংরক্ষিত করে হালনাগাদ তালিকা চূড়ান্ত হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Manual2 Ad Code

এ ব্যাপারে মুড়িয়াউক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মলাই জানিয়েছেন, অল্প সময়ের মধ্যে তালিকা তৈরির কারণে ভুল হয়েছে। অসংখ্যবার মোবাইল নম্বর ব্যবহারের ভুলটি করেছেন উপজেলা প্রশাসনের কম্পিউটার অপারেটররা। যেগুলো সংশোধনের কাজ চলমান। বুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মুক্তার হোসেন বেনুও জানান একই কথা। পুনরায় শুদ্ধভাবে তালিকা তৈরিতে তিনি তার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা প্রশাসনের কম্পিউটার অপারেটররা  জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ অসম্পন্ন খসড়া তালিকা দিয়েছেন। অল্প সময়ের মধ্যে আমরা তা সম্পন্ন করি। ভুলবশত একেকটি নাম্বার অনেকবার ব্যবহৃত হয়েছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুসিকান্ত হাজংয়ের সঙ্গে। মোবাইলে বার বার কল দিলেও তা রিসিভ করেননি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্চিতা কর্মকার।

তবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুশফিউল আলম আজাদ  বলেন, খসড়া তালিকা জমা দেয়ার পর আমরা তাতে অনেক অনিয়ম খুঁজে পেয়েছি। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নেই সমস্যা হয়েছে। একেকটি মোবাইল নম্বর রয়েছে অনেকবার। ইতোমধ্যে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকগণকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে হালনাগাদ তালিকা জমা দিবেন।

Manual5 Ad Code

অন্যদিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলাসহ ৯টি উপজেলায়ও তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের কয়েকজন মন্তব্য করেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতে ব্যাপক সংকটে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই প্রধানমন্ত্রী টাকা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ ধরনের অনিয়মের কারণে বঞ্চিত হবেন অনেক অসহায় মানুষ। গুরুত্বপূর্ণ এই কাজে বিশাল অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

এক উপকারভোগীর সাথে কথা হলে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি জানান, তালিকায় আমার নামটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে অনিয়মের কারণে পরবর্তী তালিকায় আমি থাকবো কিনা এ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সাহায্য পেতে বিলম্ব অথবা একেবারেই না পেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, তালিকা এখনও খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করা হবে। একই মোবাইল নম্বরে একাধিক ব্যক্তির নাম থাকলে কেউই অর্থ সহায়তা পাবেন না। সয়ংক্রিয়ভাবে সহায়তা হস্তান্তর বন্ধ হয়ে যাবে। তালিকা চূড়ান্ত করে পাঠানোর পরও কোনও ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে ত্রুটি পাওয়া গেলে তা পুনরায় যাচাই হবে। ইতোমধ্যেই হবিগঞ্জ থেকে একশ’ জনের তালিকা পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৯ জন মোবাইলের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পেয়েছেন। এই তালিকায় তাদেরই নাম স্থান পাবে যারা ইতোপূর্বে সরকারের অন্যান্য কোনও কর্মসূচির আওতায় ছিলেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code