

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) :
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড(বিসিএমসিএল) সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় কর্তৃক জারিকৃত করোনা ভাইরাস রোগ (কোভিড-১৯) এর সংক্রমণ মোকাবেলা এবং এর ব্যাপক বিস্তার প্রতিরোধকল্পে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কর্তৃক ১৩ দফা মেনে কর্মস্থলে সীমিত পরিষরে কাজে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও বড়পুকুরিয়া খনি কর্তৃপক্ষ সরকারের স্বাস্থ্যবিধির বাহিরে নিজস্ব নিয়ম বানিয়ে আউট সোর্সিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ব্লু-স্টার সার্ভিসেস লিমিটেড-এর মাধ্যমে কর্মরত ১০৭ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বাধ্যতামুলক বিনা বেতনে ১৬ দিন ছুটি প্রদান করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারের নির্ধারিত নিয়মকানুন উপেক্ষা করা হয়েছে পরদিকে ১০৭ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে ।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিশ্চুক ভুক্তভোগী একজন কর্মচারী বলেন, আমি বড়পুুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড (বিসিএমসিএল)-এর দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ কর্মরত আছি। দেশব্যাপী করোনা ভাইরাস রোগ (কোভিড-১৯) এর সংক্রমণ মোকাবেলা এবং এর ব্যাপক বিস্তার প্রতিরোধকল্পে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিভিন্ন সময় প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে গত ২৬ মার্চ ২০২০ ইং তারিখ হতে ৩০ মে ২০২০ ইং তারিখ পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষনা করেছিলো। সাধারণ ছুটি শেষে স্বাস্থ্যবিধি মোতাবেক মাস্ক পরিধানসহ আমি কর্মস্থল বিসিএমসিএল-এ ৩১ মে ২০২০ ইং তারিখে যথাসময়ে কাজে যোগদানের লক্ষ্যে খনিতে প্রবেশ করতে গেলে খনি কর্তৃপক্ষ আমাকে কর্মস্থলে প্রবেশে নিষেধ করে। পরবর্তীতে আমি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ব্লু-স্টার সার্ভিসেস লিমিটেড-এর যোগাযোগ করলে দুপুর ১ ঘটিকার সময় হাটাৎ করে আমাকে জানানো হয় ৩১ মে ২০২০ ইং তারিখ হতে ১৫ জুন ২০২০ ইং তারিখ পর্যন্ত আমাকে বিসিএমসিএল-এ প্রবেশ ও কাজে যোগদান করতে দেয়া হবে না এবং এই সময় কোন বেতন ভাতা ও প্রদান করা হবে না। তিনি বলেন আমরা যারা খনি বাহিরে অবস্থান করে কাজ করে থাকি তারা স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত ১৩ দফা নির্দেশনা অনুুসরণ করে আমরা কাজ করতে ইচ্ছুক। তাছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রালয়ের গত ২৮ মে ২০২০ ইং তারিখের প্রজ্ঞাপনে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি, অসুস্থ কর্মচারী এবং সন্তান সম্ভবা নারীগণ কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে খনি কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে কর্মস্থলে প্রবেশ করতে না দেয় সে ক্ষেত্রে কেন আমাদের বেতন ভাতা দেয়া হবে না। তিনি আরো বলেন দেশব্যাপী করোনা ভাইরাস রোগ (কোভিড-১৯)-এর দুর্যগকালীন সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেখানে সরকারি ভাবে বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক, গরীব অসহায় থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করছেন সেখানে কয়লা খনি সরকারি প্রতিষ্ঠান হয়ে কিভাবে আমাদের বেতন ভাতা না দেয়ার কথা বলে। তাছাড়া দেশব্যাপী এই দুর্যোগকালীন সময়ে যদি বেতন না দেয়া হয় তাহলে আমাদের অনেকে পরিবার নিয়ে রাস্তায় নামতে হবে। তিনি দাবি করেন খনির কিছু অসাধু অফিসার এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে অসন্তেষ তৈরী করে খনিতে অস্থিতিশিল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলানেরা চেস্টা করছে।
এ বিষয়ে আউট সোর্সিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ব্লু-স্টার সার্ভিসেস লিমিটেড-এর স্থানীয় প্রতিনিধি মোঃ আখেরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার বলেন, গত ৩১ মে ২০২০ ইং তারিখে দুপুর সাড়ে ১২টায় বিসিএমসিএল-এর প্রশাসন বিভাগের জেনারেল সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্টের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জেনারেল সার্ভিসেস)-এর স্বাক্ষরিত একটি পত্রের মাধ্যমে আমাদের অবহিত করা হয় যে, বিসিএমসিএল-এ কর্মরত ও আবাসিক এলাকায় বসবাসরত দেশী-বিদেশী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবার পরিজনকে করোনা ভাইরাসের সংক্রামন রোধের সতর্কতার অংশ হিসেবে ব্লু-স্টার সার্ভিসেসের মাধ্যমে বিসিএমসিএল-এর প্রধান কার্যালয়ে নিয়োজিত জনবলের মধ্যে যারা খনি এলাকার বাহিরে অবস্থান করে দায়িত্ব পালন করছেন তার আপাতত কাজে যোগদান করবে না এবং তাদের একটি তালিকা প্রদান করে বলা হয় ৩১ মে ২০২০ ইং তারিখ হতে ১৫ জুন ২০২০ ইং তারিখ পর্যন্ত তাদেরকে বাধ্যতামূলক বিনা বেতনে ছুটিতে থাকতে হবে। বিষয়টি কোম্পানির বাহিরে অবস্থানরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে অবহিত করলে তার বিষয়টি নামতে নারাজ। এবিষয়ে আমরা বিসিএমসিএল এর সাথে পুনরায় কথা বলবো।
এ বিষয়ে কয়লা খনির প্রশাসন বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জেনারেল সার্ভিসেস) মোহাম্মদ ছানা উল্লাহর সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। যা কিছু জানার আপনারা ব্যবস্থাপনা পরিচাল (এমডির) স্যারের সাথে কথা বলে জেনে নেন।