

নিউজিল্যান্ডের ৫০ লাখ মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডার্ন করোনাভাইরাসের শেষ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিলেন। সোমবার স্থানীয় সময় বিকালে দেশটি করোনামুক্ত ঘোষণার পরপরই জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেছেন তিনি।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারির পর প্রথমবার দেশে কোনো করোনা রোগী নেই। অকল্যান্ড শহরে এক নারী ছিলেন দেশের শেষ কোভিড-১৯ রোগী। তিনিও সুস্থ হয়ে গেছেন।
তবে এখনও সতর্ক থাকা প্রয়োজন মনে করছেন আর্ডার্ন। বৈশ্বিক মহামারির কারণে স্থবির হওয়া অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে সরকার প্রধান বলেছেন, ‘এখন এই ভাইরাসের সংক্রমণ আমরা একেবারে থামিয়ে দিয়েছি। অবশ্য এখনও কাজ শেষ হয়ে যায়নি। অস্বীকার করবো না যে এটা মাইলফলক।’ সোমবার মধ্যরাত থেকে সতর্কতার স্তর একে নামিয়ে নামিয়ে আনা হবে জানান তিনি। অর্থাৎ শেষ বিধিনিষেধও উঠে যাচ্ছে।
‘ধন্যবাদ, নিউজিল্যান্ড।’, বলে বক্তব্য শেষ করেন আর্ডার্ন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, দেশে আর কোনো করোনা রোগী না থাকার খবর শুনে ‘একটু নেচেছিলেন।’। সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে উপস্থিত থাকা স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক ডা. অ্যাশলে ব্লুমফিল্ড বলেছেন, খবরটি জানাতে গিয়ে তার মুখের হাসি ছিল চওড়া।
শেষ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ায় দোকানপাট, রেস্তোরাঁ ও অফিস খুলছে পুরোদমে। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা বাধ্যতামূলক না হলেও উৎসাহিত করা হচ্ছে।
১৭ দিন হয়ে গেছে নিউজিল্যান্ডে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হননি। বিশ্বের অন্যতম কঠোর লকডাউনের সুফল তারা ভোগ করেছে দ্রুতই। অবশ্য আন্তর্জাতিক সীমান্ত বন্ধ থাকছে জানান আর্ডার্ন। কারণ এখনও বিজয় ঘোষণার সময় আসেনি বলছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ‘সংক্রমণের শিকল’ ভাঙতে শেষ কোনো রোগী আক্রান্ত হওয়ার পর অন্তত টানা ২৮ দিন করোনামুক্ত থাকতে হবে, যা শেষ হবে ১৫ জুন।
করোনায় এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডে ১৫০৪ জন আক্রান্ত এবং মৃত্যু হয়েছে মাত্র ২২ জনের।