ছড়ারপারে মাদক ব্যবসা চালাতে বাসা দখল ও চাঁদাবাজির নাটক

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

সিলেট নগরীর ছড়ারপারে মাদক ব্যবসা চালাতে ও ১২টি মাদক মামলার আসামীকে বাঁচাতে বাসা দখল ৫ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজির নাটক সাজানো হয়েছে। সেই নাটকের অংশ হিসেবে স্থানীয় কাউন্সিলরসহ এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের নাম জড়িয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবরে অভিযোগও করেছে ওই মাদক ব্যবসায়ী চক্র। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন মাধ্যমে ভূয়া, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করে সম্মানি ব্যক্তিদের সম্মানহানির অভিযোগও উঠেছে। ফলে এ ব্যাপারে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ছড়ারপারের স্থানীয় জনগণ। তাছাড়া যাদের নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে সেই সকল ব্যক্তিরা আইনের আশ্রয় নিবেন বলেও জানিয়েছেন।

Manual7 Ad Code

সূত্র জানায়, সিলেট নগরীর ছড়ারপারে একটি কলোনী ও বাসায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে একটি চক্র। ফলে স্থানীয় উঠতি বয়সের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও বিনষ্ট হচ্ছে মাদকের করাল গ্রাসে। তাছাড়া ওই স্থানে মাদকসেবিদের কারণে প্রতিনিয়ত ইভটিজিংয়ের শিকার হন স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী বা রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী অনেক নারীরা। ফলে ওই এলাকার সচেতন মহল এসকল অনৈতিক কাজে বাধা প্রদান করেন। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে মাদক ব্যবসায়ী চক্র। তাই সচেতন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী চক্রটি।ছড়ারপার মসজিদ সংলগ্ন কথিত বাগিছা কলোনীর মালিক একজন প্রবাসী এবং একই এলাকার ১৩নং বাসার মালিক জনৈক সাবুু মিয়া ও তার স্ত্রী রুনু বেগম। ওই প্রবাসীর আত্মীয় হওয়ার সুবাদে সাবু মিয়া ওই কলোনীর পাশে অস্থায়ী একটি দোকান বসান। সে সুবাদে ওই কলোনীতে গড়ে তোলে ইয়াবা ও মাদকের হাট। মাদকসেবীরা সেখানে গিয়ে জমায়েত হয় এবং প্রত্যহ দিনমজুর ও পথচারীদের টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়। সম্প্রতি এলাকার শতাধিক মানুষ সাবু ও তার স্ত্রী রুনুর এ মাদকহাট উচ্ছেদ ও অপরাধীদের দমনে এসএমপি কমিশনার বরাবের স্মারকলিপিও প্রদান করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১৩ মে সাবু মিয়া ও তার স্বজনদের হামলায় প্রতিবেশী সিরাজুল ইসলাম শামীমের কলোনীর ভাড়াটিয়া ফাইজুল মিয়া ও তার পরিবারের নারী শিশুসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ফাইজুল মিয়ার স্ত্রী ছলিমা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় ১৭(৫) ২০২০ নং একটি মামলা করেন। মামলায় সাবু মিয়া তার স্ত্রী পুত্র রুহেল ও রুমেল-সহ ৬ জনকে এজাহারভুক্ত করে অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনকে আসামী করা হয়। মামলায় পুুলিশ সাবু মিয়ার পুত্র সন্ত্রাসী রুমেল আহমেদকে পুলিশ গ্রেফতার করলে সে জামিনে বেরিয়ে আসে। তবে ইয়াবা ব্যবসায়ী সাবু মিয়া সহ অপর ৫ আসামী এখনো পলাতক রয়েছে। মামলার পলাতক আসামীদের ধরতে শুক্রবার (৫মে) বিকেলে পুলিশ ওই কলোনীতে অভিযান চালায়। এ সময় স্থানীয় প্রতিবাদী জনতাও পুলিশকে সহযেগিতা করেন। পুলিশ মামলার প্রধান আসামী রুহেল ও সাবু মিয়াদের না পেয়ে তাদের মাদক আস্তানা উচ্চেদ করে দেয়। তবে কলোনীর অন্য আরো ১২ টি পরিবার ও দোকান নিজ নিজ অবস্থানে রয়েছেন। এদের কাউকে বের করে দেওয়া হয়নি।

Manual2 Ad Code

সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই বিমল চন্দ্র দে জানান, ছড়ারপারের মাদকের হাট বসে এবং সেখানে তদন্তাধীন মামলার পলাতক ৫ আসামীও রয়েছে। এ নিয়ে এলাকার জনমনে চরম ক্ষোভও বিরাজ করছে। তাই শুক্রবার উত্তেজনা প্রসমন ও মামলার আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চালায় পুলিশ। এখানে দখলবাজির কোন ঘঠনা ঘটেনি বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান রুমেল মাদক ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ ১২টি মামলার আসামী।

ছড়ারপারে এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম জানান, সাবু তার স্ত্রী রুনু ও তাদের পরিবার এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাদের মাদক ব্যবসা চালিয়ে যেতে একের পর এক মিথ্যা নাটক ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। শেষমেষ জায়গা দখল ও চাঁদাবাজির যে কাহিনী সাজিয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আর আমরা কারো জায়গা দখল করার প্রশ্নই আসে না। তাছাড়া এ ধরণের কোন প্রমাণ দিতে পারলে আমরা যে কোন শাস্তি মেনে নিবো। অন্যতায় মিথ্যা অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Manual2 Ad Code

সিলেট সিটির ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম জানান, তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। এলাকার সচেতন মহলের অনুরোধে শুক্রবার মামলার এজাহার নামীয় পলাতক আসামী সাবু মিয়া ও তার ছেলে রুহেলদের গ্রেফতারে অভিযান চালায় পুলিশ । সাথে এলাকার জনতা সহযোগিতা করেন। এখানে জমি দখলের কোন প্রশ্নই ওঠে না। আর যদি জায়গা জমি নিয়ে কোন সমস্যা হয়ে তাকে, তাহলে প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে জায়গার কাগজ পত্রের ভিত্তিতে তা সমাধান করে দেয়া হবে। আর অপরাধী যেই হোক তার কোন ছাড় দেওয়া হবে না। প্রেস-বিজ্ঞপ্তি।

Manual7 Ad Code

তথ্য সূত্র-সিলেট সান ডটকম

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code