

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
সুইজারল্যান্ডে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে নারী অধিকার বিষয়ে অংশগ্রহণ করার জন্য ভোটের মাধ্যমে জুরিখ জোন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সুলতানা খান। তার গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায়।
সুলতানা খানের বাবার নাম এসএম রু—ম আলী ও মাতার নাম রাজিয়া সুলতানা। গত ২২ জুন নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিতদের মধ্যে সুলতানা খান তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। সুইজারল্যান্ডে এই প্রথমবারের মতো কোন প্রবাসী বাংলাদেশি জাতীয় সংসদে পা রাখছেন।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সুলতানা খান গণমাধ্যমকে জানান, আমার এই অর্জন সব বাংলাদেশি এবং সুইজারল্যান্ডে বসবাসরত সব বন্ধু-বান্ধবদের যারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন তাদের জন্য। আমি নারী অধিকারের বিষয়ে কথা বলার পাশাপাশি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষায় এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বাংলা ভাষার প্রাধান্য রক্ষা করা এবং এ সংক্রান্ত একটি শহিদ মিনার ও স্মৃতি স্থাপনা করার বিষয়ে প্রস্তাব করার ইচ্ছা রয়েছে আমার।
তিনি আরও জানান, বিশ্বে আমাদের এই অর্জনগুলো বাংলাদেশকে তুলে ধরছে এর পাশাপাশি বাংলাদেশি নারীরাও যে পিছপা নয় তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ স্থাপন করতে চাই। এর সাথে সাথে বাংলাদেশি অনগ্রসর নারী এবং শিশুদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চাই, কেননা একজন নারী একটি মা, আর একজন আদর্শ মা যে কোন দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। কেননা একটি আদর্শ সন্তান তৈরিতে মায়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সুলতানা খানের এ অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অনন্য মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে, কেননা একজন প্রবাসী বাংলাদেশি নারী হয়ে সুইজারল্যান্ডের মতো একটি উন্নত দেশের জাতীয় সংসদে আসন দখল করা একটি বিশাল অর্জন এবং বাংলাদেশিদের জন্য একটি গৌরবময় অর্জন।
সুলতানা খানের জন্ম ঢাকার মিরপুরে, গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে। বাবার নাম এসএম রুস্তম আলী, মাতা রাজিয়া সুলতানা। পাঁচ ভাই দুই বোনের সংসারে সর্বকনিষ্ঠ তিনি। বর্তমানে স্বামী প্রবাসী সাংবাদিক, সংগঠক এবং ব্যবসায়ী বাকিউল্লাহ খান ও দুই পুত্র সন্তানসহ দীর্ঘদিন যাবৎ সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহরে বসবাস করছেন।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের পূর্বে তিনি সুইজারল্যান্ডের মূলধারার বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। তাছাড়া বাংলাদেশের শিল্প ও সাহিত্য চর্চার জন্য বাংলা স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা যায়, ২৪৬ আসনের বিপরীতে ১৪০০ নারী প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জুরিখ জোন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৩৫ জন। সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিতদের মধ্যে তৃতীয় হয়েছেন সুলতানা খান।