

শিবচর (মাদারীপুর) :
চলতি বছর দাখিলে শিবচরে মাদ্রাসা থেকে সেরা ফলাফলধারী গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনকারী দরিদ্র চা বিক্রেতার মেয়ে খাদিজা আক্তারের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন চীফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী। চীফ হুইপের পক্ষ থেকে রবিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদে খাদিজাকে ঘর তুলতে ২ বান্ডেল টিন ও নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এ সময় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাহিমা আক্তার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এমদাদুল হক, জেলা পরিষদ সদস্য আয়শা সিদ্দিকা মুন্নি, প্রেস ক্লাব সভাপতি একেএম নাসিরুল হক প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে খাদিজার এই ফলাফলের খবর পেয়ে চীফ হুইপ এই অদম্য মেধাবীর বাড়িতে নেতৃবৃন্দদের দিয়ে মিষ্টি পাঠিয়েছেন। এছাড়াও ভবিষ্যত লেখাপড়ার জন্য জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সংস্থাকে বৃত্তি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা যায়, শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের দরিদ্র কৃষক মোশারফ শরীফ ও স্ত্রী ফরিদা বেগম পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে ঘর-বাড়ি হারিয়ে প্রায় ১২ বছর আগে মাদবরচরের কাওড়াকান্দি ফেরি ঘাট এলাকায় অন্যের জমি খাজনা নিয়ে ঘর তুলে দুই ছেলে ও একমাত্র মেয়ে খাদিজাকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ঘাটে চায়ের দোকান করে চলছিল সংসার। পদ্মা সেতুর নদী শাসন বেড়িবাঁধ নির্মানের জন্য জমি অধিগ্রহন শুরু হলে প্রায় ২ বছর আগে আবার বসত ভিটা হারায় মোশারফ। পদ্মা সেতুর বাখরের কান্দি পূন:বাসন কেন্দ্রে আশ্রয় পায় দরিদ্র পরিবারটি। ভাঙ্গাচুড়া টিনের ঘরেই বসত পরিবারটির। ঘাট কাওড়াকান্দি থেকে কাঁঠালবাড়ি স্থানান্তর হওয়ায় কাঁঠালবাড়ি ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী স্পীডবোট ঘাটে আবার চায়ের দোকান শুরু করেন। অভাব অনটনের সংসারে দুই ছেলে ও একমাত্র মেয়ে খাদিজাকে ভর্তি করেন কাঁঠালবাড়ি সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায়। এই মাদ্রাসা থেকে খাদিজা ২০১৮ সালের জেএসসি পরীক্ষায় বৃত্তি পায়। তার ভাল ফলাফল নজরকারে মাদ্রাসাটির শিক্ষকদের । তার পরিবারের দারিদ্রতার কথা জেনে মাদ্রাসার প্্িরন্সিপালসহ অন্যান্য শিক্ষকরাও বিভিন্ন বই, খাতা দিয়ে ও বিনা পয়সায় প্রাইভেট পড়িয়ে খাদিজাকে সহযোগিতা করে। ক্লাশে খাদিজার শতভাগ উপস্থিতি ছিল। ফলশ্রুতিতে চলতি বছর দাখিল পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে খাদিজা। তার ফলাফলে মাদ্রাসার শিক্ষকরা ও পরিবারের সকলেই খুশি। তার স্বপ্ন ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া শেষ করে বিসিএস পাশ করে সরকারের উচ্চ পদস্থ কোন কর্মকর্তা হবে। কিন্তু দরিদ্র চা দোকানী পিতা কি করে পূরন করবে মেয়ের স্বপ্ন তা ভেবেই শংকিত ছিল পরিবার। স্কুলটির সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বিএম আতাউর রহমানের কাছ থেকে এ খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী খাদিজার বাড়িতে সেদিনই নের্তৃবৃন্দদের দিয়ে মিষ্টি পাঠান। জাতীয় সংসদ অধিবেশনের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি খাদিজার সার্বিক খোজ খবর নেন। চীফ হুইপের পক্ষ থেকে রবিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদে খাদিজাকে ঘর তুলতে ২ বান্ডেল টিন ও নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
মেধাবী খাদিজা আক্তার বলেন, আমার বাবা দরিদ্র চা বিক্রেতা অনেক কষ্ট করে সংসার চালায়। অনেক কষ্ট করে এই ফলাফল অর্জন করেও ভবিৎষত লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনেক সংশয় ছিল। চীফ হুইপ স্যার আমার পাশে দাঁড়ানোয় এখন আমার লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া নিয়ে আর কোন সংশয় রইল না। আমরা স্যারের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: এমদাদুল হক বলেন, চীফ হুইপ স্যারের নির্দেশে অদম্য মেধাবী খাদিজার ঘর তুলতে টিন ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।