এ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের মোটরবাইক বহরে কুয়াকাটা ভ্রমণ

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual5 Ad Code

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) :
করোনা ঝুঁকি এড়াতে পর্যটকরা এবার মোটরসাইকেল ভ্রমনকে বেঁছে নিয়েছে। অনেকটা শখের বসেও রাইডিং নেশায় এ্যাডভেঞ্চার প্রিয় যুব শ্রেণীর পর্যটকরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে এসেছেন। গোটা পর্যটন এলাকা যেনো মোটরসাইকেলে সয়লাব। প্রতিটি হোটেল মোটেল ও রিসোর্ট গুলোর সামনে দেখা গেছে সারি সারি মোটরসাইকেল। যেনো কুয়াকাটায় মোটর সাইকেলের মেলা বসেছে। নামী দামী ও বিভিন্ন ব্যান্ডের সৌখিন গাড়ির সম্ভার আবাসিক হোটেলে মোটেল পার্কিং জোনের শোভাবর্ধন করেছে।

Manual6 Ad Code

বাইক রাইডিং এ কুয়াকাটা সৈকতে কয়েক হাজার পর্যটক এসেছে। করোনাকালীন সময় গনপরিবহনে স্বাস্থ্য ঝুঁকি, বেশী ভাড়া হওয়ায় উঠতি বয়সের ভ্রমন পিপাষুরা এবার ঈদে বাইকে ভ্রমন করাকে নিরাপদ মনে করেছেন। ঈদের দিন শনিবার থেকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মোটর বাইক নিয়ে প্রায় ২০ হাজার যুব শ্রেণীর পর্যটকদের সমাগম ঘটেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শেখ রাসেল সেতুর টোল ইজাদার কর্তৃপক্ষ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসব মটোরবাইকের বহর নিয়ে কুয়াকাটা ভ্রমণে এসেছে। পর্যটনমুখী ব্যবসায়ীরা জানান এবার ঈদের চমক মটোরসাইকেলের বহর। প্রতিটি মটোরসাইকেল বহরে রয়েছে ১৫-৩০টি নামী দামি ব্রান্ডের মটোরসাইকেল। এসব এ্যাডভেঞ্চার প্রিয় যুব পর্যটকরা কুয়াকাটা সৈকতসহ দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে বেড়িয়েছে। অবলোকন করেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। তবে আবওহায়া অনূকুলে না থাকায় সমুদ্র সৈকত ও মহাসড়কে বাইক রাইডিং করে ক্ষান্ত হতে হয়েছে এদের। কেউ কেউ সৈকতে সখের বসত হাটু সমান পানির মধ্যেও বাইক রাইডিং করে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে। এতে মটোরসাইকেলের ইঞ্জিনে সমুদ্রের লবন পানি ঢুকে অনেককেই ভোগান্তিতে পরতে হয়েছে। এরপরও আনন্দের কমতি ছিল না এসব উঠতি বয়সের এ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের। মটোরবাইকের বহর নিয়ে প্রিয়জনকে বাইকের পিছনে বসিয়ে মহাসড়ক থেকে শুরু করে সমুদ্র সৈকত থাপিয়ে বেড়ানো,সৈকতে হাটু পানিতে দ্রুত গতিতে ছুটে চলার মাঝেই এরা বাইক রাইডিং এর আনন্দ উপভোগ করেছে। এযেন অন্য রকম এক বিনোদন। এমন মটোরবাইক বহরে দ্রুতগতিতে বিকট শব্দে ছুটে চলায় কারও কারও একটু অস্বস্তি লাগলেও বেশির ভাগ পর্যটকরাই আনন্দ পেয়েছে এদের দূরন্তপনায়। চাঁদনী থাকায় রাতেও চলে বাইক নিয়ে সী বীচে আড্ডা আর আনন্দ উল্লাস। এমন কোনো হোটেল রেস্তোরাঁ বা দর্শনীয় স্পষ্ট দেখা যায়নি যেখানে মোটরবাইকের বহর নেই

Manual1 Ad Code

এদের মধ্যে ঢাকা বাংলামটর থেকে এসেছেন পর্যটক আফজালুল টিপু। তিনি জানিয়েছেন, করোনাকালীন সময় মোটরসাইকেলই অনেকটা নিরাপদ মনে হয়ে। আমরা ঢাকা থেকে ২০টি মোটর সাইকেল নিয়ে এক সাথে বেড়াতে এসেছি। এই প্রথম কুয়াকাটায় মোটর সাইকেলে এসেছি, দারুন অনুভূতি। এমন অনেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত মটর সাইকেল নিয়ে কুয়াকাটা ভ্রমণে এসেছে। মিডিয়া কর্মীরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে টিভি ও পত্রিকার স্টিকার লাগিয়ে মটোরসাইকেলের বহর নিয়ে ভ্রমণ করেছে।
দূর পাল্লার পরিবহন শ্রমিক রাসেল জানান, ঈদের বাজার হলেও এখনো আমাদের গাড়ির সীট খালি থাকে। লং রুটেও যাত্রীরা মোটর সাইকেলকে বাহন হিসেবে ব্যবহার করছে।
আবাসিক হোটেল সৈকত এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউর রহমান বলেন, ঈদের দিন থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় তিন শতাধিক মটোরসাইকেল নিয়ে তার হোটেলে ওঠেছে। নামী দামী ব্রান্ডের গাড়ীর বহর তিনি এর আগে কখনও দেখেনি বলে জানান।
তবে দেশে করোনা প্রভাব ও বর্ষাকালীন সময় এতো পর্যটক আসবে এমনটা আশা করেনি কুয়াকাটা পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা ( টোয়াক) এর প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার। তিনি আরো জানান, বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আগামী দিনগুলোতে কুয়াকাটায় পর্যটকরা নিয়মিত ভ্রমণে আসবেন।

Manual3 Ad Code

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোন এর ইনচার্জ সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন,এবারের ঈদে বাড়তি চমক বাইক রাইডিংয়ে আসা উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েরা।সী-বিচে মোটরসাইকেল চালানো নিষেধ থাকলেও শত শত মোটর বাইক নিয়ে নিয়ন্ত্রনে টুরিস্ট পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code