ত্রিশ বছর ধরে ডাবা হুক্কা বানিয়ে জীবন চালাচ্ছেন শহর আলী

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual3 Ad Code

 

মো: হাবিবুল্লাহ-নেছারাবাদ (পিরোজপুর):

Manual6 Ad Code

ত্রিশ বছর ধরে নারকেলের খোল দ্ধারা ‘ডাবা’ হুক্কা বানিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে হাট করছেন শহর আলি(৬৮)। আজ এ হাটে তো কাল অন্য হাটে। নৌকা করে হুক্কা তৈরির উপকরনাধি নিয়ে হাটে বসেই হুক্কা বানান তিনি। আর এভাবে জীবনের ত্রিশটি বছর ধরে হুক্কা বানিয়ে জীবন চালাচ্ছেন শহর আলি। হাটে বসে ক্রেতাদের পছন্দমত হুক্কা বানিয়ে দিয়ে প্রতিটি হুক্কা থেকে লাভ নেন ৪০-৫০ টাকা মাত্র। হুক্কা কারিগর শহর আলি মিয়ার বাড়ী হল গোপালগঞ্জ থানার দিঘিরপুর গ্রামে। আজ তিনি হুক্কা নিয়ে হাট করছেন পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সারেংকাঠি ইউনিয়নের করফা বাজার হাটে। তিনি আশাবাদি আজকের হাটে তিনি ১০-১২ টি হুক্কা বিক্রি করতে পারবেন।

কথা হয় শহর আলীর সাথে। তিনি বলেন, ত্রিশ বছর ধরে নারকেলের খোল আর অর্ডার দিয়ে কাঠ থেকে কুন বানিয়ে নৌকায় করে ঘুরে ঘুরে হুক্কা বানান তিনি। প্রতিটি হুক্কা বিক্রি করেন ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা। প্রতিটি হুক্কায় তার লাভ থাকে ৪০-৫০ টাকা। তবে কারিগর শহর আলী জানান, এখন আর আগেরমত কেহ হুক্কা কেনেনা। কারন জানতে তিনি আরো বলেন, আধুনিক যুগে কেহ হুক্কা টানতে অভ্যস্ত না। আর এটা কেউ পছন্দও করেনা। সবাই এখন বিড়ি সিগারেট টানে। তবে তিনি দাবী করে বলেন, বিড়ি সিগারেটে ধুমপায়িদের যে পরিমানে ক্ষতি হয়, হুক্কা টানলে তার সিকি ভাগও শরীরের ক্ষতি হয়না। হুক্কা কারিগর শহর আলী আরো বলেন, কোন কোন হাটে কেহ হুক্কার দাম জিজ্ঞাস করতেও চায়না। বেশির ভাগ লোকই আসে কৌতহলি হয়ে হুক্কা দেখতে। ধর দাম জিজ্ঞাস করে চলে যায়। তবে হুক্কা বানিয়ে তার যা রোজকার হয় তা দিয়ে কোন মতে জীবন চলে।

Manual1 Ad Code

করফা বাজারের স্থানীয় কয়েক দোকানদার বলেন, তিনি খুব ভাল একজন লোক। অনেক বছর ধরে শহর আলি তাদের বাজারে প্রতি হাটে হুক্কা বিক্রি করতে আসেন। তবে তেমন একটা হুক্কা চলেনা। অনেক লোক এসে ধর দাম জিজ্ঞাস করে তার সাথে মজা করেন। তবে তিনি ভাল একজন হুক্কা কারিগর। তাদের বাজারের হাটে কম বেশি হুক্কা বিক্রি হয়।

Manual8 Ad Code

ধূমপানের জনপ্রিয় এই মাধ্যম হুক্কা একসময় ছিল গ্রামবাংলার বিনোদন, আতিথেয়তা, বন্ধুত্ব, সম্প্রীতির প্রতীক। সে সময় ধনী-গরিব প্রতিটি বাড়িতেই ছিল হুক্কার প্রচলন। আজ থেকে এক দুই দশক আগেও গ্রামগঞ্জে ধূমপায়ীরা হুক্কার মাধ্যমে নেশায় অভ্যস্ত ছিল। পুরুষের পাশাপাশি বয়স্ক নারী এবং ছেলেমেয়েরাও হুক্কার মাধ্যমে ধূমপান করত। অনেকে শখের বশেও হুক্কায় দিত আয়েশি টান। এ ছাড়া নাটক, সিনেমায় অভিনয়ে ধনীদের আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে পিতলের তৈরি ‘হুক্কা’ আর গরিবদের জন্য নারিকেলের খোল দ্বারা তৈরি ব্যবহার হত ‘ডাবা’ হুক্কা।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code