সিলেটের ২৯ এলাকা সেদিন কেঁপে ওঠেছিলো ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট। দিনটি ছিলো সিলেটের জন্য বিভীষিকাময়। সেদিন একযোগে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠেছিলো সিলেট বিভাগের ২৯টি স্থান। সারাদেশের মতো সিলেটের চার জেলাকেও জঙ্গিরা টার্গেট করেছিলো সেদিন। তবে দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত সিলেটে ওইদিন কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। আহত হয়েছিলেন ১৫ জন।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা চালায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। ওই দিন বেলা সোয়া ১১টায় সিলেটের ৪টিসহ দেশের ৬৩ জেলার গুরুত্বপূর্ণ ৪৫০টি স্থানে প্রায় পাঁচশ বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। এই হামলায় নিহত হন দুজন এবং আহত হন শতাধিক ব্যক্তি। এ ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় ১৬১টি মামলা দায়ের করা হয়।

আদালত ও সংশ্লিষ্ট থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জেএমরি জঙ্গিরা সারাদেশের মতো সিলেটে ১৩টি, সুনামগঞ্জে পাঁচটি, হবিগঞ্জে পাঁচটি ও মৌলভীবাজারে পাঁচটিসহ মোট ২৯টি স্থানে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। বোমা বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে সিলেটের আদালতপাড়া, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ জণগুরুত্বপূর্ণ এলাকা।

Manual7 Ad Code

সেদিন সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে সিলেট নগরীর আদালতপাড়া, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিঁড়ির নিচ, শাহী ঈদগাহ, নয়াসড়ক, কদমতলী বাস টার্মিনাল, লামাবাজারের একটি নার্সারিসহ ১৩টি এলাকায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা।

Manual7 Ad Code

এ সকল স্থানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও ওইদিনের বোমা হামলায় সিলেটে কেউ মারা যাননি। তবে পথচারি, নার্সারি মালিক ও আদালতে আগত ও হকারসহ ১৫ জন লোক আহত হয়েছিলেন।

পরবর্তীতে প্রতিটি বোমা হামলার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতায় বিস্ফোরক আইনে পৃথক মামলা করে পুলিশ। সিলেট বিভাগের চার জেলায় দায়ের করা হয় ২৯টি মামলা। এর মধ্যে বেশিরভাগ মামলারই বিচার কাজ শেষ হয়নি দীর্ঘ ১৫ বছরেও। অধিকাংশ মামলাই বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

সবগুলো মামলার চার্জশিট পুলিশ আদালতে দাখিল করলেও বেশ কয়েকটি মামলার এখনো অভিযোগ গঠন হয়নি। আবার বেশিরভাগ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। তবে সুনামগঞ্জে দায়ের করা ছয় মামলার মধ্যে একটি মামলার রায়ে আদালত জেএমবির দুই জঙ্গিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।

সিলেটের কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলার চার্জগঠন হয় ২০১৪ সালের ২৭ মে।

হবিগঞ্জের পাঁচটি স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলো হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ এ বিচারাধীন আছে। ২০১৪ সালের ৩ জুন থেকে মামলাগুলোর বিচারকাজ শুরু হয়।

মৌলভীবাজার জেলায়ও পাঁচটি স্থানে বোমা হামলার ঘটনায় পৃথকভাবে দায়ের করা মামলাগুলো এখন মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। ২০১৪ সালের ৩ জুলাই থেকে বিচার কাজ শুরু হয়।

আতঙ্ক ছড়ানো এই সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সিলেটে দায়েকৃত মামলার অন্যতম আসামিরা হলেন- জেএমবির সদস্য আবদুল আজিজ ওরফে হানিফ ও সায়েদুল ইসলাম ওরফে হৃদয়।

Manual1 Ad Code

হবিগঞ্জের পাঁচ মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- জেএমবির শীর্ষ জঙ্গি সাইদুর রহমান, সদস্য আবদুল আজিজ হানিফ ওরফে আজিজুল ইসলাম, সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীন, এএইচএম শামীম, বেলাল হোসেন তানিম, ওবায়দুল্লাহ ওরফে সুমন ওরফে হাফেজ হুজাইফা এবং মৌলভীবাজারে পাঁচ মামলায় অন্যতম দুই আসামি জেএমবি সদস্য আবদুল্লাহ আল মুরাদ ও কামাল উদ্দিন।

Manual5 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code