আজ মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual6 Ad Code

মনসুর আহমেদ, বিশেষ প্রতিনিধি:- মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস আজ বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট)। ১৯৭১ সালের এই দিনে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলের মাকালকান্দি গ্রামে মন্দিরে মনসা পূজা চলছিল। পূজা চলা অবস্থায় নির্বিচারে ব্রাশ ফায়ারে ওইদিন ৪৪ নারীসহ ৮৮ জন হিন্দু নর-নারীকে একই সঙ্গে হত্যা করেছিল পাক হানাদার বাহিনী।

শহীদদের স্মরণে এ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে স্মৃতিসৌধ। প্রতি বছর এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই তারা এটি প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু সরকারিভাবে তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়না। স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের নগদ সহায়তা এবং একটি করে সনদপত্র দেন। কিন্তু এরপর তারা আর কোন সাহায্য সহায়তা পাননি।

জানা যায়, বানিয়াচং উপজেলার উত্তর-পূর্ব কোণ জুড়ে হিন্দু অধ্যুষিত একটি দূর্গম গ্রামের নাম মাকালকান্দি। মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ গ্রামটি ছিল পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর অন্যতম টার্গেট। ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন হবিগঞ্জ সার্কিট হাউজে মহকুমা শান্তি কমিটির সঙ্গে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের এক সভায় বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ থানার হিন্দু প্রধান এলাকায় সশস্ত্র আক্রমণ করার পরিকল্পনা করে তারা।


পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮ আগস্ট ভোরে ২৫/৩০টি নৌকায় বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রসহ স্থানীয় রাজাকারদের সঙ্গে নিয়ে মাকালকান্দি গ্রামে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। জ্বালিয়ে দেয় শতশত ঘরবাড়ি। নারী, পুরুষ, বিচার না করে হত্যাযজ্ঞ চালায় তারা। বেশ কয়েকজন গর্ভবতী মহিলাকেও হত্যা করে নরপশুরা। পাক বাহিনী চন্ডি মন্দিরের সামনে দাঁড় করিয়ে তরনী দাশ, দীনেশ দাশ, ঠাকুর চান দাশ, মনোরঞ্জন দাশ, প্রভাসিনী বালা দাশ, চিত্রাঙ্গ বালা দাশ, সোহাগী বালা দাশসহ ৮৮ জনকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। এর মধ্যে ৪৪ জনই নারী।

Manual3 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

ধ্বংসযজ্ঞের পর বাড়িঘর ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ডায়রিয়া, মহামারি ও অর্ধাহারে মারা যায় অন্তত ৫০ জন শিশু ও নারী-পুরুষ। শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ এ গ্রামের বাড়িঘর থেকে ধান, স্বর্ণালংকার থেকে শুরু করে ঘরের পিলার পর্যন্ত নিয়ে যায় লুণ্ঠনকারীরা। এ গ্রামে সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত কোন স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়নি।

হত্যাযজ্ঞের হাত থেকে যারা বেঁচে গেছেন তারাও পাননি নূন্যতম কোন সুযোগ-সুবিধা। ক্ষতিগ্রস্থদের দাবি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং ওই গ্রামে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় নিহত ও আহতদের নাম মুক্তিযুদ্ধাদের তালিকায় যেন স্থান পায়। বৃদ্ধা মিনতি রানী জানান, তার কোল থেকে চার দিন বয়সী শিশুকে ছিনিয়ে নিয়ে পাক-বাহিনী গুলি করে হত্যা করে।

Manual5 Ad Code

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কংশ মোহন দাশ (৮৫) জানান, তার চোখের সামনে পিতামহ ও বোন  মিনতি রানীর (৩৬) চার দিনের শিশুকে গুলি করে হত্যা করে পাকবাহিনী। মিনতি রানী সেই দুঃসহ দিনের স্মৃতি বয়ে চলেছেন এখনো।
এ হত্যাকাণ্ডকে স্মরণে রাখতে ২০০৮ সালে এ গ্রামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code