চিংড়ি ঘেরে ব্যাপক ক্ষতি, পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন চাষীরা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

শেখ আবু সাঈদ
কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর জোয়ারের পানির প্রভাবে ভেসে গেছে বাগেরহাটের পাঁচ হাজার চিংড়ি ঘের। এতে চিংড়ি চাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেক চাষী। টাকার অংকে ক্ষতির পরিমাণ এখন ও জানাতে না পারলেও চাষিদের ক্ষতি পোষাতে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগের প্রয়োজন মনে করছেন জেলা মৎস্য বিভাগ।

Manual1 Ad Code

জেলা মৎস্য বিভাগের সূত্র জানান, অতিবৃষ্টি ও ভরা মৌসুমে জোয়ারের পানি কয়েক ফুট বেড়ে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এরফলে জেলার বাগেরহাট সদর, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, রামপাল, মোংলা, চিতলমারী এই ৬ উপজেলার প্রায় ৫ হাজার মৎস্য ঘের তলিয়ে গেছে। এতে চাষিদের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তবে এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মোংলা ও মোরেলগঞ্জে।

Manual2 Ad Code

মোংলায় এক হাজার ৭৬৫ এবং মোরেলগঞ্জে ২ হাজার ২৬৫ ঘের ডুবেছে জোয়ারের পানিতে। সরকারি হিসেবে আম্পানের আঘাতে বাগেরহাট জেলায় চার হাজার ৬৩৫টি মৎস্য ঘের তলিয়ে চাষিদের দুই কোটি ৯০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছিল। এসময়ও চাষিরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি দাবি করে ছিলেন। জোয়ারের পানিতে এতো বেশি ক্ষতি হবে এটা কখনও চিন্তাও করতে পারেননি চিংড়ি চাষিরা।

Manual1 Ad Code

মোরেলগঞ্জ উপজেলার ঘষিয়াখালী এলাকার ঘের ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, জোয়ারের পানিতে আমাদের মাঠের ঘেরগুলো সব তলিয়ে গেছে। একাকার হয়ে গেছে সব ঘের। সবাই এখন ঘেরের মাছ রক্ষার ব্যর্থ চেষ্টায় ব্যস্ত। পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমার পরে চাষিরা বুঝতে পারবে কি হারিয়েছি। অনেককেই পুঁজি হারিয়ে চিংড়ি চাষ বন্ধ করে দিতে হবে।

বাগেরহাট জেলা চিংড়ি চাষি সমিতির সভাপতি ফকির মহিতুল ইসলাম সুমন বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পরে আমরা ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলাম। যখনই চাষিরা মাছ বিক্রি শুরু করল তখন জোয়ারের পানিতে ঘেরগুলো তলিয়ে মাছ ভেসে গেল। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে আমাদের চাষিদের শত কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।

Manual6 Ad Code

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. খালেদ কনক বলেন, জোয়ারের পানিতে বাগেরহাটের ছয়টি উপজেলার প্রায় ৫ হাজার মৎস্য ঘের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। টাকার অংকে চাষিদের কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়টি নিরুপণ করতে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছি আমরা। বাগেরহাট জেলায় প্রায় ৬৭ হাজার হেক্টর জমিতে সাড়ে ৭৮ হাজার বাগদা ও গলদা চিংড়ির ঘেরে চিংড়ি চাষ হয়েছে। গত অর্থ বছরে সাড়ে ১৬ হাজার মেট্রিক টন বাগদা ও সাড়ে ১৫ হাজার মেট্রিক টন গলদা চিংড়ি উৎপাদন হয়েছিল বাগেরহাট জেলায়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code