পাহাড় থেকে সোনা তুলছেন জুম চাষীরা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual6 Ad Code

 

Manual3 Ad Code

সুপ্রিয় চাকমা শুভ, রাঙ্গামাটি

Manual5 Ad Code

দীর্ঘ ৯ মাসের পরিশ্রমের বিনিময়ে ফলানো পাকা সোনালী ধান কেটে ঘরে তোলার ধুম পড়েছে পাহাড়ি জুম চাষীদের। এসময়ে এখন পাহাড় জুড়ে জুমীয়াদের মাঝে লক্ষ্য করা যায় মিষ্টি হাসি। রাঙ্গামাটির বিভিন্ন পাহাড়ি ঢলে মনের খুশিতে জুম থেকে কাটা হচ্ছে সোনালী ধান। জুমে উৎপাদিত পাকা ধানে মূখর হয়েছে জুমীয়াদের ঘর। যেন পাহাড় খুঁড়ে ঘরে তোলা হচ্ছে মূল্যবান সোনা।

জুমচাষ হচ্ছে পাহাড়িদের আদিবাসীদের আদি পেশা। পাহাড়ের অধিকাংশ মানুষ জীবিকার অন্যতম উৎস হচ্ছে জুমচাষ। বিশেষ করে পার্বত্য তিন জেলা রাঙ্গামাটি,খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে জুম চাষ করে পাহাড়ি আদিবাসীরা। পৌষ ও মাঘ মাস এলেই পাহাড়ের ঢালে জঙ্গল সাফ করতে ব্যস্ত হয়ে উঠে জুম চাষীরা। পাহাড় জুড়ে চলে জুম তৈরির ব্যস্ততা। ফাল্গুন ও চৈত্র মাস এলেই শুরু হয় জুমের জন্য প্রস্তুত করা জঙ্গলগুলা পুড়ানোর। প্রচন্ড রোদে শুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে প্রস্তুত করা হয় জুমক্ষেত। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠে জুম চাষীদের ব্যস্ততা আরো বেড়ে যায়। হিড়িক পড়ে আগুনে পোড়ানো জুমের মাটিতে বিভিন্ন বীজ বপনের। সুচালো দা ও কোদাল দিয়ে গর্ত খুঁড়ে একসঙ্গে বপন করা হয় ধান, তুলা,শিম,মারফা, ভুট্টাসহ ইত্যাদি ।

Manual8 Ad Code

রাঙ্গামাটির মগবান ইউনিয়নের বড়াদাম, মগবান, বন্দুক ভাঙ্গা ইউনিয়ন ও কুতুকছড়ির কয়েকটি এলাকায় ঘুরে জানা যায়, পাহাড়ি জুমীয়াদের জুম থেকে পাকা সোনার ধান কাটার ধুম পড়েছে। পাকা ধানে হাসি ফুটেছে আদিবাসীদের। এই পাকা ধান যেন সাধারণ ধান নয়, যেন সোনা তুলছেন জুম চাষীরা। তবে প্রতি বছরের তুলনায় করোনার কারণে এবছরের জুমে চাষাবাদ কম হলেও ফলন হয়েছে অনেক বেশি। যতটুকু চাষাবাদ হয়েছে তারচেয়ে বেশি ভালই ফলন হয়েছে জুমে।

মগবান ইউনিয়নের কয়েক জুমচাষী জানান, গতবছরের তুলনায় এবছরে জুমে ভালোই ফলন হয়েছে। জুমের মাটির অনুকূল পরিবেশ ও আবহাওয়ার উপযুক্ত হওয়ায় জুমের যথেষ্টে ফলন এসেছে। বিশেষ করে ধান চাষে বেশি ফলন ভাল হয়েছে। সোনালী ধানের পাশাপাশি মারফা,বেগুন,মরিচ,কুমড়া,ঢেঁড়স,কাঁকরোল ইত্যাদিতে চাষে বেশ ফলন ভালো হয়েছে। তবে করোনা ভাইরাস যদি প্রভাব না পড়তো তাহলে জুমে আরো ফলন ভালো হতো।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code