চ্যালেঞ্জে হেরে গিয়েছিলেন হাবিব ওয়াহিদ

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

পৈতৃক সূত্রে কাজ কিংবা ক্ষমতা পাওয়ার রীতি প্রায় সব দেশে সব ক্ষেত্রেই প্রচলিত। তবে বাবা কীর্তিমান হলে সন্তানও তেমন হবেন- তেমনটি নয়। গান কিংবা চলচ্চিত্র এমনকি নাট্যাঙ্গনে এর বহু প্রমাণ মেলে।

Manual4 Ad Code

 

বাংলা গানে হাবিব ওয়াহিদ একটি অনবদ্য নাম। বাবা ফেরদৌস ওয়াহিদ। জনপ্রিয় এক সঙ্গীতশিল্পী। বাবা জনপ্রিয় বলেই হাবিব ওয়াহিদ জনপ্রিয়- তা যেমন সত্য নয়; একইভাবে মিথ্যাও নয়। বাবার সহযোগিতা খুব কম নিয়েও হাবিব আজ জনপ্রিয়তার শীর্ষে। ফেরদৌস ওয়াহিদও বলছিলেন সে কথা।

Manual8 Ad Code

তিনি বলেন, “হাবিব যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, তখন আমি তার বাদ্যের প্রতি খুব আগ্রহ দেখি। তবে এ আগ্রহ কখনই তাকে প্রভাবিত করতে পারেনি। সে জিদ করে অন্য কিছু করতে চেয়েছে। নব্বই দশকের শেষের দিকে যখন সে লন্ডনে পড়তে যায়, তখন আমি তাকে বলি- তুমি যাও, কিন্তু ঘুরে-ফিরে তোমাকে গানেই আসতে হবে। তখন হাবিব আমাকে চ্যালেঞ্জ করে- ‘বাবা আমি ব্যারিস্টার-ই হব’। তখন আমি একই কথা বলি, ‘তুমি জনপ্রিয় গায়ক হবা।’ পরের বছর লন্ডন থেকে হাবিব ফোনে আমার কাছে পরাজয় স্বীকার করে সঙ্গীত নিয়ে ব্যস্ত হয়।” এর পরের গল্প সবারই জানা।

হ্যাঁ, চ্যালেঞ্জে হেরে যাওয়া যুবকের নাম হাবিব ওয়াহিদ। চেয়েছেন ব্যারিস্টার হতে। এ চাওয়া জিদ নাকি অন্য কিছু- হয়তো বোঝেননি। হয়ে গেলেন গানের ফিউশন সম্রাট। ব্যারিস্টারি পড়তে গিয়ে ২০০৩ সালে দেশে পাঠান ‘কৃষ্ণ’ নামে গানের অ্যালবাম। এ অ্যালবামের জনপ্রিয়তা বজায় রেখেই পরের বছর বের করেন ‘মায়া’, তার পরের বছর একই জনপ্রিয়তায় প্রকাশ করেন ‘ময়না গো’। ৩টি অ্যালবামে সঙ্গীতায়োজন তাকে এনে দেয় ফিউশন সম্রাটের মর্যাদা।

সঙ্গীত, সুর ও গায়কীতে দক্ষ এবং জনপ্রিয় হাবিব ওয়াহিদের আজ জন্মদিন। এ দিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জন্মদিন আমার কাছে বিশেষ কিছু নয়। বেঁচে আছি- এটিই বড় বিষয়। এখন করোনা আতঙ্ক চলছে। তাই এ দিন নিয়ে নেই কোনো আয়োজন। আমি গানের মানুষ গান নিয়ে থাকি সব সময়।’

Manual7 Ad Code

জন্মদিনের ব্যাপ্তি অনেক থাকে। থাকে অনেক স্মৃতি ও গল্প। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন যা করে যাচ্ছি ভবিষ্যতের জন্য এটিই স্মৃতি। অতীতে এমন অনেক স্মৃতি আছে- হরেক রকম স্মৃতি। তবে জন্মদিনে বাবা-মা ও সন্তানের সঙ্গে কাটানো সময়গুলো আমার কাছে অনেক ভালো লাগার। এবারও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটবে। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। সবার সুস্থতা প্রত্যাশা করি।’

আপনি তো এক চ্যালেঞ্জে হেরে যাওয়া একজন। বাবার কাছে ব্যারিস্টারি ও গান নিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছেন। হেরেও গেছেন। বিষয়টি ভাবতে কেমন লাগে- জানতে চাইলে হাবিব হাসেন। তিনি বলেন, ‘এটি একটি রোমাঞ্চিত বিষয়। সত্যিই তাই। বাবা ছোটবেলায় আমাকে বলেন, তুমি গানে ভালো করবে। ব্যারিস্টারি শেষ করতে পারবে না। বাবার কথাই সত্যি হল। তবে গান কতটা পারছি সেটি শ্রোতা-দর্শকরাই বলতে পারবেন। গান করছি। চেষ্টা করছি, ভালো কিছু দিতে। দিয়ে যাব জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত।’

হাবিব ওয়াহিদ চলমান করোনা পরিস্থিতিতে বেশ কিছু মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এদের মধ্যে ‘খুঁজি তোমায়’, ‘দিশেহারা’, ‘বন্ধু রে’, ‘কানে কানে’, ‘প্রেমের খেলা’ ও ‘আমি ভাবি তুমি’, যেগুলো অনলাইনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভিউর দিকেও রয়েছে ভালো অবস্থানে।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code