সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে মাওলানা আব্দুল মতীন ফাউন্ডেশনের শীতবস্ত্র বিতরণ সম্পন্ন। - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, রাত ১০:০৪, ১২ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে মাওলানা আব্দুল মতীন ফাউন্ডেশনের শীতবস্ত্র বিতরণ সম্পন্ন।

ADMIN, USA
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৯, ২০২০
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে মাওলানা আব্দুল মতীন ফাউন্ডেশনের শীতবস্ত্র বিতরণ সম্পন্ন।
উত্তর সিলেটের প্রথিতযশা আলিমে দ্বীন,জামেয়া মুশাহিদিয়া খাগাইল মাদরাসা কোম্পানীগঞ্জ এর দীর্ঘকালীন নাজিমে তা’লিমাত, হযরত মাওলানা আব্দুল মতীন হাফিযাহুল্লাহ’র নামে প্রতিষ্ঠিত সমাজ সেবামূলক সংগঠন “মাওলানা আব্দুল মতীন ফাউন্ডেশন, সিলেট” এর উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।
গত ১৮ই ডিসেম্বর শুক্রবার বিকেল ৪ টায় বিপুল সংখ্যক শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ ২০২০ কর্মসূচীর তৃতীয় পর্বে লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রভাষক  মাওলানা জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে ও জামেয়া মুশাহিদিয়া খাগাইল মাদরাসার গভর্ণিং বডির সদস্য হাফেজ খায়রুল হুদা ও ফাউন্ডেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা মইন উদ্দীন আহমদ এর
যৌথ পরিচালনায় শুরুতে কুরআনে হাকীম থেকে তেলাওয়াত করেন শামীম আহমদ ও ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন আবদুল্লাহ।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জামেয়া মুশাহিদিয়া কাসিমুল উলুম খাগাইল মাদরাসা প্রাঙ্গণে উক্ত শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সৈয়দ নাসির উদ্দিন (র:) স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট এর সভাপতি, হুমায়ূন আহমদ মাসুক মাদরাসার ছাত্রদের উদ্দেশ্য করে বলেন, মাওলানা আব্দুল মতীন হাফিযাহুল্লাহর মতো  আরো অনেক মানুষ গড়ার কারিগর এই মাদরাসা থেকে জন্ম নিতে হবে।
তিনি কওমি মাদরাসার শিক্ষাদানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, কওমী মাদরাসায় কখনো সন্ত্রাসী জন্ম দেয় না,কওমি মাদরাসায় কখনো সুদখোর ঘুষখোর জন্ম দেয় না, মাদারিসে কওমিয়ার ছাত্র-শিক্ষকরা কখনো ক্ষুধার্ত থাকে না। তাই এই সমস্ত মাদ্রাসায় সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে, সাহায্য সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করতে হবে। আমাদের বাচ্চাদেরকে এই সমস্ত মাদ্রাসায় শিক্ষাদান করাতে হবে।
তিনি আরো বলেন, যার নামে এই ফাউন্ডেশন,তিনি তাঁর জীবনের সিংহভাগ সময় এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে কাটিয়েছেন,দীর্ঘকালীন সময় নাজিমের তা’লিমাতের দায়িত্ব সুচারুরূপে আঞ্জাম দিয়ে এই বৃহত্তর এলাকায় ইলমে ওহীর আলো প্রস্ফুটিত করেছেন। এজন্য মনের গভীর থেকে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও নেক হায়াতের জন্য সবার দুআ করা উচিত।
তিনি মাওলানা আব্দুল মতীন ফাউন্ডেশনের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রশংসা করে আগামী দিনে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরো বেগবান করার উদাত্ত আহ্বান জানান।‌ পাশাপাশি দেশের সকল বিত্তশালীদের এই ফাউন্ডেশনের ন্যায় সাধ্যানুযায়ী শীতার্ত ও বিপন্ন মানবতার পাশে দাঁড়ানোর এবং হত দরিদ্র এবং মেধাবী ছাত্রদের  দুঃখ-দূর্দশা ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ,জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম বাগজুর মাদরাসা কোম্পানীগঞ্জ এর পরিচালক ও ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি, মুফতি মুফিজুর রহমান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে বলেন, কে ঐ মাওলানা আব্দুল মতীন ?
তিনি হলেন উত্তর-পূর্ব সিলেটের প্রথিতযশা আলিমে দ্বীন,শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী রাহিমাহুল্লার একান্ত শাগরিদ,জামেয়া মুশাহিদিয়া খাগাইল মাদরাসার দীর্ঘকালীন শিক্ষা সচিব,অজস্র মানুষ গড়ার কারিগর, উত্তর সিলেটে যিনি অত্যন্ত সুচারুভাবে  ইলমে নববীর প্রচার-প্রসার করেছেন।ইলমে নববীর অতন্দ্র প্রহরী ও দ্বীনের উপর অটল-অবিচল থেকে খালিছ নিয়তে যিনি চার যুগেরও বেশী সময় দ্বীনের কাজ করেছেন, তিনিই হলেন আমাদের সর্বজনশ্রদ্ধেয় মাওলানা আব্দুল মতীন হাফিযাহুল্লাহ। আমরা দুআ করি আল্লাহ তা’আলা যেন এই জ্ঞান তাপসের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি নেক হায়াতে তাইয়িবা দান করেন।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির হাতেখড়ি ছিলেন দুইজন আলেম। একজন হচ্ছেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, অপরজন মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ। যারা এই বিজয়ের মাসে আলেম সমাজকে অবমাননা এবং গালি দেয়, তাদের স্মরণ রাখা উচিত, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে আলেম সমাজের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। অনেক উলামায়ে কেরাম ছিলেন স্বয়ং মুক্তিযোদ্ধা, অনেক মাদরাসা ছিল মুক্তিযুদ্ধের ক্যাম্প। অনেক মাদরাসার প্রধান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সহযোগী। তাই দেশ স্বাধীনের ক্ষেত্রে কাউকে খাটো করা,ছোট করা যাবে না, বা অবমাননা করা যাবে না। সবাইকে তাঁদের  নিজ নিজ অবদানের জন্য সম্মান করতে হবে, শ্রদ্ধা করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পূবালী ব্যাংক বন্দর বাজার শাখার অফিসার ও ফাউন্ডেশনের ট্রেজারার, কবি নজমুল হক চৌধুরী, সুরমাভিউ টোয়েন্টিফোর ডটকম’র সম্পাদক এমদাদুল হক সোহাগ,সৈয়দ নাসির উদ্দিন (র:) স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট এর ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ফয়েজ উদ্দিন আহমদ ও নবদূত সামাজিক ফোরাম এর চেয়ারম্যান মাওলানা কে এম রফিকুজ্জামান প্রমূখ।
 অনুষ্টানে স্বাগত বক্তব্য  রাখেন সালুটিকর মাদানিয়া মাদরাসার পরিচালক মাওলানা সুহেল আহমদ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য তরুণ রাজনীতিবিদ সামসুদ্দীন আহমদ শাহীন,তরুণ সমাজ সেবক ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইকবাল হুসেন এমাদ, মাওলানা হোসাইন আহমদ ও মাওলানা ইমরান হোসাইন সেলিম প্রমূূখ।
প্রধান অতিথি জনাব হুমায়ূন আহমদ মাসুক সহ অন্যান্য অতিথিদেরকে ফুলের তোড়া ও বই দিয়ে বরণ করেন সালিক আহমদ সাদী ও ফখর উদ্দিন।
এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন জামেয়া মুশাহিদিয়া খাগাইল মাদরাসার শিক্ষক আনোয়ার হোসাইন, মাওলানা খায়রুল ইসলাম,হায়দরী বাজার মাদানীয়া মাদরাসার নায়েবে‌ মুহতামীম মাওলানা আইন উদ্দীন, সৌদি প্রবাসী মাওলানা হাবীবুর রহমান, আসাদুজ্জামান ও জুনেদ আহমদ প্রমূখ।
 স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষিণ রনিখাই ইউনিয়নের বিভিন্ন মাদরাসার প্রধানগণ,ইমামগণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকসহ এলাকার প্রচুর সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে এবছর শীতার্ত মেধাবী ছাত্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে মাওলানা আব্দুল মতীন ফাউন্ডেশন, সিলেট এর পক্ষ থেকে চারটি পর্বে মোট এক হাজার কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।