এন্ট্রাকলে মরল তানোরের হাজার বিঘা আলু

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual4 Ad Code

নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক: ছত্রাকনাশক ‘এন্ট্রাকল’ স্প্রে করার পর রাজশাহীর তানোর উপজেলায় অন্তত এক হাজার বিঘা জমির আলুর ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৫৫ জন। তানোরের বিভিন্ন এলাকায় তাদের বাড়ি। জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন।কৃষকরা জানান, আলু খেতে ছত্রাক ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে তারা ‘এন্ট্রাকল’ নামে একটি ওষুধ স্প্রে করেছিলেন। এরপরই তাদের আলুগাছ হলদে হয়ে মরে যেতে শুরু করেছে। অনেকের আলু খেত একেবারে ফাঁকা হয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা এর কোনো সমাধান দিতে পারছেন না।তানোরের চাষিরা উপজেলা সদরের ‘মেসার্স সৈয়ব আলী ট্রেডার্স’ থেকে এই ওষুধ কিনেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির মালিক সৈয়ব আলী ওষুধ কোম্পানিটির তানোরের প্রধান পরিবেশক। গত শনিবার রাতে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন চাষি তার কাছে ছুটে আসেন। তারা সৈয়ব আলীর ছেলে মিলনকে নিয়ে সন্ধ্যার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও থানার ওসিসহ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে ছিলেন।উপজেলা সদরে সিন্দুকাই গ্রামের কৃষক ওবাইদুর রহমান বলেন, এ বছর তিনি সাড়ে চার বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। সব ধরনের ছত্রাক আর মোড়ক থেকে আলুগাছ রক্ষার জন্য গত শুক্রবার তিনি জমিতে ওষুধ স্প্রে করেন। গত শনিবার জমিতে গিয়ে দেখেন সব আলুগাছ পুড়ে গেছে।আরেক চাষি আসমত আলী বলেন, তিনিও এ বছর দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। তারও একই অবস্থা। তারা বলেন, তাদের এলাকার ৫০-৬০ জন আলু চাষির অন্তত এক হাজার বিঘা আলুর ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। তারা এখন ক্ষতিপূরণ চান।ওষুধটি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘বেয়ার ক্রপসায়েন্স লিমিটেড’ এর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির তানোরের পরিবেশক সৈয়ব আলী বা তার ছেলে মিলনও কোনো কথা বলতে চাননি। ফোন ধরেননি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তানোর থানার ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, তার কাছে এ ব্যাপারে লিখিত কোনো অভিযোগ নেই। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক যদি মামলা করতে চান সেটাও নেওয়া হবে।ইউএনও সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, উপজেলার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যেন সঠিকভাবে তাদের ক্ষতিপূরণ পান সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code