

নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক : নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙ্গামাটি। ঘন সবুজ অরণ্যের এলোমেলো সারিতে সাজানো উঁচু-নিচু ছোট-বড় অসংখ্য পাহাড়ের সমাবেশের মাঝখানে নদী আর লেকবেষ্টিত এক শান্ত শহর রাঙ্গামাটি। যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা চোখ জুড়ানো জীবন্ত বিশাল ক্যানভাস। সবুজ পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে অসংখ্য পাহাড়ি ঝরনার কলতানে মুখরিত এই অপরূপ রূপকে আরো রূপময় করে তুলেছে চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরাসহ ১৪টি জনগোষ্ঠীর শিল্প সংস্কৃতির ধারাবাহিক চর্চা। পাশাপাশি কাপ্তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের স্পিলওয়ে, কর্ণফুলী হ্রদ, পর্যটন মোটেল ও ঝুলন্ত সেতু, উপজাতীয় জাদুঘর, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, পেদা টিং টিং, টুকটুক ইকো ভিলেজ, বনভান্তের জন্মস্থান, মোরঘোনায় স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতি মন্দির রাইংখ্যং পুকুর, রাজবন বিহার, ঐতিহ্যবাহী চাকমা রাজার রাজবাড়ি, ফুরমোন পাহাড়, রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই সংযোগ সড়ক আরো রূপময় করে তুলেছে শহরটির প্রচ্ছদ।
মনোমুগ্ধকর এই প্রচ্ছদ অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। থামিয়ে দিয়েছে সব সহজিয়া সুন্দর সুর। উপজাতিদের সংস্কৃতির ঝঙ্কার নেই। নেই পেশাদার শিল্পীদের উপস্থাপনা। নেই পর্যটকনির্ভর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। থেমে গেছে শিল্প সংস্কৃতির কোলাহল।
রাঙ্গামাটিতে প্রায় ৫০টির অধিক সংগঠনে ৫০০ শিল্পী রয়েছেন। গত ৬ মাস ধরে করোনার হানায় যাদের জীবন থমকে গেছে। জীবিকার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকারত্বের বোঝা বইতে না পেরে কেউ কেউ পেশা বদলে পান বিড়ি সিগারেটের দোকান খুলে বসেছেন। এর মধ্যে সরকারি সহায়তা দেয়া হলেও তা অপ্রতুল। এ জন্য অনেকেরই ভাগ্যে জোটেনি এই প্রণোদনা।
সংস্কৃতিসেবীদের পক্ষ থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের করোনাকালীন প্রণোদনার জন্য ১২০ জনের তালিকা দেয়া হয়েছিল। এর মধ্য থেকে ৯০ জনকে সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রোগ্রামের আয়োজন করে শিল্পীদের নানাভাবে সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।