

নূর হোসেন মামুন, চট্টগ্রাম
ব্যাপক হারে সংক্রমণ বেড়েছে করোনার। সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের কঠোর লকডাউন। এতে বন্ধ সব ধরনের মার্কেট ও দোকানপাট। অন্যদিকে দুয়ারে কড়া নাড়ছে খুশির ইদ। সবার মধ্যেই বেড়েছে কেনাকাটার তোড়জোড়। এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ থেকে বাঁচতে অনেকটা ঘরবন্দি হয়ে থাকা নগরবাসীর ঈদ বাজারে এবারও ভরসা অনলাইন শপিং। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি অনলাইনে ক্রেতা ধরতে এ বছরও নানান উদ্যোগ নিয়েছে নামি দামি ব্রান্ডগুলো।
লকডাউনে নগরীর দুই নম্বর গেট এবং হালিশহরের দুইটি শাখা বন্ধ থাকলেও অনলাইনে আড়ং-এর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে পণ্য কেনার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা। ক্রেডিট কার্ড, ভিসা ডেবিট কার্ড, বিকাশসহ ই-পেমেন্টের মাধ্যমে পণ্যের দাম পরিশোধের পর আড়ং-এর আছে হোম ডেলিভারি সুবিধাও। ঈদ উপলক্ষে আড়ং এর ওয়েবসাইটে শোভা পাচ্ছে নতুন নতুন ডিজাইনের পাঞ্জাবি, শাড়ি, ঘর সাজানোর নানা উপকরণ এবং কসমেটিক পণ্য। আড়ং ছাড়াও নগরীর পোশাকের জনপ্রিয় ব্রান্ড জেন্টাল ম্যান, দেশী দশ, জেন্টাল পার্ক, শৈল্পিক, কেটস আই অনলাইনে ঈদের পোশাক বিক্রি করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট ছাড়াও দারাজ, অথবা অ্যাপ এবং ফেসবুক পেইজে অর্ডার দিয়ে পছন্দের পণ্য ঘরে বসেই কিনতে পারছেন যে কেউ।
ঈদের অনলাইন মার্কেটে ক্রেতা ধরতে পিছিয়ে নেই স্থানীয় উদ্যোক্তারাও। বিভিন্ন ই-কমার্স সাইট, ফেসবুক গ্রুপ, ফেসবুক পেইজে নিজেদের শিপিং কিংবা তৈরি করা নতুন জামা, জুয়েলারি, কসমেটিক থেকে শুরু করে নানা পণ্যে ঈদ উপলক্ষে ছাড়ও দিচ্ছেন তারা।
জুয়েলারি সামগ্রীর জনপ্রিয় ফেসবুক পেইজ পরিপাটির প্রতিষ্ঠাতা আশরাফুল ইসলাম শামীম বলেন, ‘ঈদ ম্যাট স্পেশাল, কুন্দন আউটফিট স্পেশাল, ঈদ স্পেশাল দুবাই গোল্ড, ঈদ স্পেশাল আনকাট সেমি লং নেকপিসসহ সব ধরনের জুয়েলারি অনলাইনে অর্ডার নিচ্ছি আমরা। হোম ডেলিভারি সার্ভিসের পাশাপাশি পণ্য হাতে পাওয়ার পর দাম পরিশোধের সুযোগও রেখেছি আমরা। তবে করোনার কারণে অর্ডার কিছুটা কম পাচ্ছি।’
ঘরে বসে ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়া ঈদের কেনাকাটা করতে পেরে খুশি ক্রেতারাও। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী উম্মে সাদিয়া বলেন, লকডাউনের আগেই ঈদের জামা কেনা শেষ। কিন্তু কসমেটিক এবং জুয়েলারি আইটেম কেনা হয়নি। করোনার কারণে সব মার্কেট বন্ধ থাকায় ঈদের কেনাকাটায় ঘাটতি ছিলো। এখন অনলাইনে অর্ডার দিয়ে কিনেছি। বাসায় এসে পণ্য পৌঁছে দিয়েছে তারা।