ভিয়েনা সংলাপের প্রতি সমর্থন ঘোষণা ন্যাটোর শীর্ষ নেতাদের

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual8 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ

ভিয়েনায় ইরানের পরমাণু সমঝোতা পুনরুজ্জীবনের চলমান ধারাবাহিক সংলাপের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করা হয়েছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট- ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন থেকে। অবশ্য আমেরিকা এই সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণেই যে এ সংক্রান্ত অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে সে বিষয়টি ন্যাটো এড়িয়ে গেছে।

Manual8 Ad Code

ব্রাসেলসে ন্যাটো জোটের শীর্ষ নেতাদের দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের প্রথম দিনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই জোট ভিয়েনা সংলাপের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে। এতে আরো বলা হয়েছে, “ইরান ও আমেরিকাকে পরমাণু সমঝোতার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পুরোপুরি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ভিয়েনায় পাঁচ জাতি-গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের এবং সেই সঙ্গে আমেরিকার সাথে আলাদা যে সংলাপ চলছে তার প্রতি সমর্থন ঘোষণা করছি।” এদিকে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল জেন্স স্টলটেনবার্গ বলেছেন, চীনের সঙ্গে নতুন করে ঠাণ্ডা লড়াইয়ে জড়ানোর ইচ্ছে তার জোটের নেই।

Manual4 Ad Code

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের শুরুতে তিনি এ মন্তব্য করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে এমনটি বলা হয়েছে। ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল সোমবার ব্রাসেলসে বলেন, ‘আমরা চীনের সঙ্গে ঠাণ্ডা যুদ্ধে নামতে চাই না এবং চীন আমাদের শত্রুও নয়। তবে চীনের সামরিক শক্তির বিকাশে আমাদের নিরাপত্তার জন্য যেসব চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে তা মোকাবিলা করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’ ব্রাসেলস শীর্ষ সম্মেলনে চীনকে অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে অভিহিত করে জেন্স স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘আবহাওয়া পরিবর্তন এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে চীনের সঙ্গে আমাদেরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

Manual8 Ad Code

ন্যাটোপ্রধান আরও বলেন, ‘চীন ন্যাটোর শত্রু না হলেও পাশ্চাত্যের সঙ্গে চীনের মূল্যবোধের ফারাক রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক দিক দিয়ে চীনের সর্বাত্মক প্রভাব বিস্তারের যে প্রচেষ্টা তার জবাব দেওয়াও দরকার আছে।’ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও একই সুরে কথা বলেন। বক্তৃতার একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘চীনের বিষয়ে যদি বলি, এই টেবিলের কেউই চীনের সঙ্গে একটি ঠান্ডা যুদ্ধে নামতে চান না।’

Manual4 Ad Code

ব্রাসেলসে গতকাল সোমবার ন্যাটো জোটের শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে এবং মঙ্গলবার এটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। চীন বর্তমানে বিশ্বের সামনের সারির অর্থনৈতিক এবং সামরিক শক্তির দেশ। দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির কড়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে দেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সমাজ এবং রাজনীতির ওপর। ন্যাটো জোট চীনের বাড়তে থাকা সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উত্তোরত্তোর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে। চীনের এই শক্তিমত্তাকে ন্যাটো তাদের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নিরাপত্তায় হুমকি হিসাবেই দেখছে। সম্প্রতি কয়েকবছরে আফ্রিকায় চীনের সামরিক ঘাঁটি গাড়ার মতো কর্মকাণ্ড এবং রাশিয়ার সঙ্গে চীনের যৌথ সামরিক মহড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন ন্যাটো জোট।

সোমবার মহাসচিব স্টলটেনবার্গ বলেন, চীন অর্থনীতি, সামরিক এবং প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে ন্যাটোর সমকক্ষ হয়ে উঠছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও একই কথার প্রতিধ্বনি করে বলেছেন, চীনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা প্রয়োজন। বিবিসি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code