

শামীম আহমেদ, নিউইয়র্ক :
ব্রঙ্কসে আবারও বর্ণ বিদ্বেষী হামলার শিকার হয়েছেন এক বাংলাদেশী। হামলার শিকার ওই ব্যক্তির নাম মোঃ এমাজ উদ্দিন। তিনি নিউইয়র্কের বাংলাদেশী অধ্যুষিত ক্যাসেল হিল সাবওয়ের (ট্রেন স্টেশন) কাছে ২৩২৩ নিউইবোল্ড এভিনিউ এর বাসিন্দা। রাতে কাজ শেষে ঘরে ফেরার সময় নিজ বাসার গেটেই তিনি এই হামলার শিকার হন।
দুর্বৃত্তরা বেধড়ক পিটিয়ে তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরে তার আত্ম চিৎকারে প্রতিবেশীদের কেউ কেউ ঘটনাস্থলে এসে পুলিশে কল দেয়| এ ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার মধ্যরাতে। এমাজ উদ্দিন এদিন স্টার্লিং এভিনিউতে অবস্থিত তার কর্মস্থল আল আকসা রেস্টুরেন্টে কাজ শেষে রাত দুটোর কিছু আগে বাসায় রওয়ানা দেন।
ক্যাসেলহিল সাবওয়ে স্টেশনের কাছে এলে কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গ তরুন তার পিছু নিয়ে অনুসরন করতে থাকে। তিনি দ্রুত হেটে বাসার সামনে এসে যখন দরজা খুলছিলেন ঠিক সেই মুহুর্তে এমাজ উদ্দিন কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার ওপর হামলা চালায় ওই দুর্বৃত্তরা।
কিল ঘুষি লাথি মেরে তাকে মাটিতে ফেলে দেয়া হয়। এ সময় চোখ ও নাক ফেটে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। তিনি বাচানোর আকুতি জানিয়ে চিৎকার দিলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
১০ মিনিট পর ঘটনাস্থলে পুলিশ ও এ্যাম্বুলেন্স আসে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর এ্যাম্বুলেন্স থেকেই এমাজ উদ্দিন ছেড়ে দেয়া হয়।
তবে তাৎক্ষনিক কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। বর্তমানে ঘটনাটি তদন্ত করছে ৪৩ প্রিসেন্টের গোয়েন্দা রোববার দুই কর্তকর্তা ঘটনাস্থলে এসে আশেপাশের বাড়ির সিটি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করেন। ওই এলাকায় বসবাসকারীদের সঙ্গে এ নিয়ে তাদের কথা বলেতে দেখা যায়।
রোববার দুপুরে আহত এমাজ উদ্দিকে দেখতে তার বাসায় যান কমিউিনটি এ্যাক্টিভিষ্ট ও মূল ধারার রাজনীতিবিদ আব্দুস শহীদ। তিনি ৪৩ প্রিসেন্টের কমান্ডার কিয়ান র্যান্সিকে ঘটনাস্থলে আমন্ত্রন জানান। তিনি এসে আহত এমাজ উদ্দিনকে সহানুভূতি প্রকাশ করে শান্তনা দেন এবং ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বিদ্বেষমূলক হামলা রোধ করতে আরও কার্যকর ভূমিকা নেবেন বলে জানান।
কমুউনিটি নেতা আব্দুস শহীদ প্রবাস নিউজ ডটকমকে জানান, আমাদের এই এলাকায় হেইট ক্রাইম আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। আমরা আমাদের কমুউনিটি থেকে পুলিশ বিভােগর কাছে এসব অপরাধ কঠোর হস্তে দমনের দাবি জানিয়েছি।
কয়েকদিন আগে আমরা এই দাবি তুলে ধরার জন্য পার্কচেষ্টার জামে মসজিদে নিউইয়র্কের পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে নাগরিক মতবিনিময় সভার আয়োজন করি। সেখানে কমিশনার কথা দিয়েছেন আমাদের কমুউনিটির মানুষের জান মালের নিরাপত্তায় তিনি তার পক্ষে সম্ভব সব কিছুই করবেন।
এদিকে ৪৩ প্রিসেন্টের কমান্ডারও অপরাধ দমনে জোরালো ভূমিকা নেয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে এজন্য আমাদের কমুউনিটির সকল নেতাকে নিজ নিজ উপায়ে তাদের পেছনে লেগে থাকতে হবে।