

নিউজ ডেস্কঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বৃহস্পতিবার কাবুল বিমানবন্দরে হামলার সাথে জড়িত ইসলামিক স্টেটের সদস্যদের খুঁজে বের করে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। হামলার সময় কাবুল বিমানবন্দরে হাজার হাজার মানুষ দেশ ছাড়ার জন্য অপেক্ষা করছিল।
ওই হামলায় অন্তত ৬০ জন আফগান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১২ জন সেনাসদস্য মারা গেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের কর্মকর্তারা। এপি বলছে, অন্তত ১৪৩ জন আফগান নাগরিক আহত হয়েছেন।
পরে বৃহস্পতিবার, ইসলামিক স্টেট তাদের বার্তা সংস্থার টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। জাতিসঙ্ঘ ও ন্যাটো এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। নিন্দা জানিয়েছে তালেবান মুখপাত্র জাবিনুল্লাহ মুজাহিদও।
প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার বক্তব্যে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্য, মিত্র ও আফগান নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার অঙ্গীকার পুনর্বাক্ত করেন এবং বলেন যারা দোষী তাদের খুঁজে বের করা হবে।
হোয়াইট হাউসে তখন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেতের সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বৈঠকের প্রস্তুতি চলছিল। ওই সময়ই কাবুল বিমানবন্দরের অ্যাবে গেট থেকে প্রথম বিস্ফোরণের খবর মেলে। পত্রপাঠ বৈঠক পিছিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন বাইডেন। দ্রুত নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের কাছে সর্বশেষ পরিস্থিতির খোঁজ নিতে শুরু করেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জন কিরবি টুইটারে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের হানায় বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি আমেরিকানদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই নাশকতার পিছনে ইসলামিক স্টেট খোরাসান (আইএস)-এর হাত রয়েছে বলেই জানিয়েছে ওয়াশিংটন ও তালেবান।
বুধবারই আমেরিকার একটি গোয়েন্দা রিপোর্টে কাবুল বিমানবন্দরে আইএস হামলার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল। জারি হয়েছিল, নিরাপত্তাজনিত সতর্কতাও। পশ্চিম এশিয়ায় সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস-এর আফগানিস্তান শাখা ‘কট্টর তালেবান-বিরোধী’ হিসেবে পরিচিত। গত কয়েক বছরে আইএস-এর হামলায় বিস্ফোরণে বেশ কিছু তালেব উগ্রবাদীর মৃত্যুও হয়েছে। আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদির অনুগত এই বাহিনী সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের একাংশ নিয়ে ঐতিহাসিক খোরাসান অঞ্চলে নয়া ইসলামিক রাষ্ট্র গড়তে চায়।
সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা