ওয়াশিংটন ডিসিতে আবার জড়ো হচ্ছেন ট্রাম্প-সমর্থকেরা, সহিংসতার আশঙ্কা

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual2 Ad Code

৬ জানুয়ারির সমাবেশের আগে ক্যাপিটল হিল, হোয়াইট হাউসসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা কাঁটাতারের বেষ্টনী দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল। সেই ব্যারিকেড পরে উঠিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু ১৮ সেপ্টেম্বরের সমাবেশকে সামনে রেখে আবার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোয় কাঁটাতারের বেষ্টনী বসছে।

সমাবেশের সময় কংগ্রেস অবকাশে থাকার কথা। তারপরও ক্যাপিটল পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ওয়াশিংটন মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান টম মাঙ্গার, প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান নেতা কেভিন ম্যাকার্থি, সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা চার্লস শুমার, সিনেটের রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেলকে নিয়ে সভা আহ্বান করেছেন। এ সভায় ১৮ সেপ্টেম্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিরাপত্তা–প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করার কথা জানানো হয়েছে।

৮ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি নিরাপত্তা–প্রস্তুতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা না করেই বলেছেন, তাঁরা রাজধানীর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার ব্যাপারে সতর্ক রয়েছেন।

এফবিআইয়ের সাবেক উপপরিচালক অ্যান্ড্রু ম্যাককেবি সতর্ক করে বলেছেন, ১৮ সেপ্টেম্বরের সমাবেশকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে গত ৬ জানুয়ারি উগ্রবাদীরা যে কাণ্ড ঘটিয়েছে, তা যেন আর না হতে পারে।

এ ধরনের সমাবেশে উগ্রবাদী ব্যক্তিবিশেষের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড নিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে এমন ব্যক্তিবিশেষ যাতে কোনো অঘটন ঘটাতে না পারে, সে ব্যাপারে সর্বত্র সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

Manual1 Ad Code

‘হোয়াইট লাইভস ম্যাটার’ নামের একটি শ্বেতাঙ্গ সংগঠন ১৮ সেপ্টেম্বর প্রতিবাদ সমাবেশের জন্য অনলাইনে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। ‘প্রাউড বয়েজ’ সংগঠনের সদস্যদের এমন প্রচারণায় ১৮ সেপ্টেম্বর ঠিক কত লোকের সমাগম ঘটবে, তা ধারণা করা যাচ্ছে না।

আয়োজকেদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন। তবে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনো আইনপ্রণেতা এখনো ১৮ সেপ্টেম্বরের সমাবেশে উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।

ক্যাপিটল পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থার বিস্তারিত না জানিয়ে বলা হয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বরের সমাবেশকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ৬ জানুয়ারির ঘটনার পর রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা বিভাগকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। অভ্যন্তরীণসহ বাইরের বিভিন্ন উপায়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিনিময় আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে।

রাজধানীর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

গত ৬ জানুয়ারি সমর্থকদের উদ্দেশে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বক্তৃতা দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে তাঁর দেওয়া উসকানিমূলক বক্তৃতার জের ধরে ক্যাপিটল হিলে হামলা হয়। হামলার ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যু হয়। এ হামলার জেরে ট্রাম্প প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের মুখে পড়েছিলেন।

Manual2 Ad Code

নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে যে হেরে গেছেন, তা মানতে ট্রাম্প এখনো রাজি নন। এমনকি তিনি বাইডেনকে এখনো ‘প্রেসিডেন্ট’ বলে সম্বোধন করেন না। তাঁর উগ্র সমর্থকদেরও একই মনোভাব। তাঁরাও বিশ্বাস করেন, গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপি করে ট্রাম্পকে হারানো হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code