তিরমিজি শরিফে বর্ণিত আছে, হজরত ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘আপনজনের কান্নাকাটির কারণে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া হয়।’ তবে আপনজনের মৃত্যুতে অনিচ্ছায় চোখের পানি গড়িয়ে পড়লে কোনো অসুবিধা নেই। এর অনুমতি আছে। প্রিয়তম পুত্র ইবরাহিমের (রা.) মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে নবী কারিম (সা.) দেখতে যান। পুত্রের নিষ্প্রাণ দেহ কোলে নিয়ে পিতৃস্নেহে কেঁদে ওঠেন। তখন সাহাবি আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) নবী কারিম (সা.) কে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কাঁদছেন? আপনি তো কাঁদতে নিষেধ করেছেন? উত্তরে তিনি বললেন, ‘না, অনিচ্ছাকৃত স্বাভাবিক কান্নাকে আমি নিষেধ করিনি। বরং দুই ধরনের কান্নাকে আমি নিষেধ করেছি এক. সৃষ্টিকর্তার প্রতি অভিযোগ করে কান্না করা; দুই. বিলাপ করে কান্না করা। সুনানে তিরমিজি
নবম হিজরিতে মুতার রণাঙ্গন থেকে হজরত জাফর (রা.)-এর শাহাদতের খবর মদিনায় পৌঁছালে নবী কারিম (সা.) হজরত জাফর (রা.) -এর পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবার পাঠাতে নির্দেশ দেন এবং তিনি বলেন, শোক তাদের নির্লিপ্ত করে দিয়েছে। সুনানে আবু দাউদ
কারও মৃত্যুর ওপর দীর্ঘকাল পর্যন্ত শোক প্রকাশ করার অনুমতি ইসলামে নেই। এ ব্যাপারে ইসলামের বিধান হচ্ছে, মৃত্যু আল্লাহর ফয়সালা। তাই যে কারও মৃত্যুকে সন্তুষ্টির সঙ্গে মেনে নেওয়া ওয়াজিব। তবে মহান আল্লাহ আমাদের দুর্বলতার প্রতি দয়াশীল হয়ে সীমিত কয়েক দিনের জন্য শোকের অনুমতি দিয়েছেন। স্বামী মারা গেলে কেবল স্ত্রী চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। এ ছাড়া আর কারও মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন করা কোনো মুসলমানের জন্য বৈধ নয় (এ সময় সাজ-সজ্জা ত্যাগ করারও অবকাশ আছে)। সহিহ্ মুসলিম
সহিহ্ বোখারিতে হজরত উম্মে হাবিবা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য তার স্বামী ছাড়া অন্য কারও মৃত্যুতে তিনদিনের বেশি সময় হিদাদ (শোক করা ও সাজসজ্জা থেকে বিরত থাকা) বৈধ নয়। আর স্বামীর মৃত্যুতে ৪ মাস ১০ দিন হিদাদ পালন করবে। সহিহ্ বোখারি : ৫৩৩৪
হজরত উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে স্ত্রী লোকের স্বামী মৃত্যুবরণ করে সে যেন ইদ্দতকালীন সময়ে রঙিন এবং কারুকার্যমণ্ডিত কাপড় ও অলংকার পরিধান না করে। আর সে যেন খেজাব ও সুরমা ব্যবহার না করে।’ সুনানে আবু দাউদ : ২২৯৮
আল্লামা কুরতুবি (রহ.) তার বিখ্যাত তাফসির গ্রন্থে লেখেন, হিদাদ পালনের অর্থ হলো নারী তার ইদ্দতকালীন সুগন্ধি, সুরমা, মেহেদি, অলংকারাদিসহ পোশাক-আশাকের ক্ষেত্রে যাবতীয় সাজসজ্জা ত্যাগ করবে। আল জামে লিআহকামিল কোরআন, কুরতুবি : ৩/১১৮
ইদ্দত অবস্থায় সাদা কাপড় পরা আবশ্যক নয়, সাদা কাপড় পরিধান করাকে জরুরি মনে করাও ঠিক নয়। তবে ইদ্দত অবস্থায় নারীর জন্য সাজগোজ ত্যাগ করার বিধান একাধিক হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। এ ব্যাপারে হাদিসে অত্যন্ত গুরুত্ব এসেছে। এটি শরিয়তের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। সুতরাং একে সামাজিক প্রথা কিংবা কুসংস্কার মনে করা অন্যায়। বরং আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী সব মুসলমানের উচিত ওই বিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। আর নারীদের দায়িত্ব হলো বিধান পালনে যতœশীল হওয়া। ফাতহুল বারী : ৯/৪০১,৩৯৫
