রায়হান হত্যা মামলায় পলাতক আসামি নোমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual3 Ad Code

গত বছরের ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে রায়হানের স্ত্রীর করা মামলার পর মহানগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে ফাঁড়িতে নিয়ে রায়হানকে নির্যাতনের সত্যতা পায়। ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে ১২ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্ত এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর কনস্টেবল হারুনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। তবে প্রধান অভিযুক্ত আকবর ১৩ অক্টোবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে ভারতে চলে যান। ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Manual7 Ad Code

গত ৫ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়। অভিযোগপত্রে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই (সাময়িক বরখাস্ত) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে (৩২) প্রধান আসামি করা হয়। অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী (৪৩), কনস্টেবল হারুন অর রশিদ (৩২), টিটু চন্দ্র দাস (৩৮), ফাঁড়ির টুআইসি পদে থাকা সাময়িক বরখাস্ত এসআই মো. হাসান উদ্দিন (৩২) ও এসআই আকবরের ‘আত্মীয়’ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান (৩২)।

অভিযোগপত্রভুক্ত সর্বশেষ আসামি আবদুল্লাহ আল নোমানের বাড়ি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। তিনি সিলেটের স্থানীয় একটি দৈনিক ও একটি অনলাইন পোর্টালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।

Manual1 Ad Code

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নোমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির শুনানিকালে সরকার পক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, নোমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সিসি টিভির হার্ডডিস্ক গায়েব করার অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে এ কাজে সহায়তা করেছেন ফাঁড়ির ইনচার্জ আকবর ও টুআইসি হাসান উদ্দিন।
আদালতের পিপি সৈয়দ শামীম আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, অভিযোগপত্রে নোমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুতর। বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির হার্ডডিস্ক পাওয়া গেলে নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যুর প্রামাণ্য দলিল পাওয়া যেত। নোমান হার্ডডিস্ক খুলে নিজের কাছে রেখেছেন কিংবা বিনষ্ট করেছেন। এ মামলার একজন গুরুত্বপূর্ণ আসামি নোমানকে আইনের আওতায় আনতে গ্রেপ্তার করা দরকার।

Manual8 Ad Code

নোমানের অবস্থান সম্পর্কে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই ও কোম্পানীগঞ্জ থানা-পুলিশের একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে, নোমান ঘটনার দুদিন পর দেশের বাইরে চলে গেছেন। তদন্তকালে পিবিআই এ বিষয়ে নোমানের পরিবারের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে।

‘হার্ডডিস্ক গাঙে ফেলে দিয়েছেন আকবর’
সংবাদকর্মী হিসেবে আবদুল্লাহ আল নোমান যে মুঠোফোন নম্বরটি ব্যবহার করতেন, সেটি হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহার করা হচ্ছে। আজ আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল করলে নোমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে আছি। ইউরোপের কোনো দেশে প্রবেশের চেষ্টা করছি।’ রায়হান হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি পরিস্থিতির শিকার। আমাকে আকবর ও হাসান ফাঁসিয়েছেন।’

এই ফাঁসানোর বিস্তারিত জানতে চাইলে নোমান ফোন কেটে একই নম্বর থেকে আবার এ প্রতিবেদককে ফোন দেন। প্রায় পাঁচ মিনিটের আলাপে নোমান বলেন, ‘আকবর আমার আত্মীয় নন, ঘনিষ্ঠ একজন বন্ধু ছিলেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যাবেলা আকবর ও হাসান আমাকে ফোন করে ফাঁড়ির হার্ডডিস্ক খুলে ফেলতে সহায়তা চান। তাঁরা দুজন কম্পিউটারের সিপিইউ খুলে নিয়ে আসেন জিন্দবাজারের একটি কম্পিউটার দোকানে। সেখানে সন্ধ্যার সময় আমি ওই কম্পিউটারটি নিজের জানিয়ে হার্ডডিস্ক খুলে আকবর ও হাসানের হাতে দিই। এরপর তাঁদের সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি। পরদিন দুপুরের দিকে আকবরকে ফোন দিলে তিনি আমাকে জানান, হার্ডডিস্ক গাঙে ফেলে দিয়েছেন। এরপর তিনি আমাকে গা ঢাকা দিয়ে থাকার পরামর্শ দিলে আমি ভয়ে পরদিন ভারত হয়ে দেশের বাইরে চলে আসি।’

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code